বিচার দ্রুত শুরু ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে

দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ, সন্ত্রাস, কমিশনবাজির অভিযোগে যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও এলডিপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করবে সরকার। এ ছাড়া অবৈধ উপায়ে অর্জিত তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কথাও ভাবা হচ্ছে। দুজন উপদেষ্টার বক্তব্যে গতকাল বুধবার এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কঠোর মনোভাবের কথা জানা গেছে। আইন ও তথ্য উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেছেন, যৌথবাহিনীর হাতে আটক রাজনীতিবিদদের আটকাদেশের মেয়াদ শেষের আগেই তাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। অন্যদিকে যোগাযোগ, পরিবহন, বিমান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব) এম এ মতিন, বীর প্রতীক বলেছেন, আটক রাজনীতিবিদদের মধ্যে যারা দুর্নীতির মাধমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ব্যাপারে সরকার গভীরভাবে চিনত্মা করছে। গতকাল সচিবালয়ে নিজ নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুই উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
আইন ও তথ্য উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, যৌথবাহিনীর আটক করা রাজনীতিবিদদের বির”দ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করা হবে। রাজনীতিবিদদের গ্রেপ্তার করার কারণ জানতে চেয়ে সরকারের কাছে দেওয়া আদালতের নোটিশ সম্পর্কে তিনি বলেন, কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব আদালতে দেওয়া হবে।
দেশের সংকটময় পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশে জর”রি অবস্থা কার্যকর করা হয়। এ রকম মুহূর্তে কিছু জর”রি কাজ করতে হয়। এ কারণে গোটা জাতির সহযোগিতা প্রয়োজন।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, শাসনতন্ত্র অনুযায়ী জর”রি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। এই অবস্থায় আমাদের সবাইকে অত্যনত্ম সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, কিছু বিশেষ আদালতকে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া যেতে পারে যেখানে শুধু দুর্নীতি সংক্রানত্ম মামলার বিচারকাজ সাড়ে তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে।
অপরদিকে, উপদেষ্টা এম এ মতিন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের গ্রেপ্তার হওয়া শীর্ষ নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে সাংবাদিকদের বলেন, যারা আটক হয়েছেন এবং দুর্নীতির মাধ্যমে কালো টাকার মালিক হয়েছেন, সরকার তাদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে ভাবছে। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও জঙ্গি মদদদাতার অভিযোগে যৌথবাহিনীর অভিযানে এ পর্যনত্ম বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের ২৩ শীর্ষ পর্যায়ের নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর মধ্যে ২১ জন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। যশোর ও খাগড়াছড়ি কারাগারে আছেন ২ জন। প্রভাবশালী এসব নেতার বির”দ্ধে এক মাসের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে কারা কর্তৃপক্ষ ১৩ জনকে আদালতের নির্দেশে বিশেষ সুবিধা (ডিভিশন) প্রদান করেছেন।
কারাগারে আটক বিএনপি নেতাদের মধ্য রয়েছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সাবেক পরিবেশমন্ত্রী ও বিএনপির সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব মোসাদ্দেক আলী ফালু, সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুর”ল আহসান মুন্সী, জোট সরকারের চার প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, আমান উল্লাহ আমান, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের পুত্র সাবেক সংসদ সদস্য নাসের রহমান, আলী আসগর লবী, রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া।
আটক আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারিখাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য আ ন হ মোসত্মফা কামাল (লোটাস কামাল) ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ।
গতকাল আটক করা হয়েছে ইসলামী ঐক্যজোট নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য মুফতি শহীদুল ইসলামকে।
এছাড়া কারাগারে আটক রয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার একানত্ম সহকারী সচিব ড. আওলাদ হোসেন, সাবেক ছাত্র নেতা জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু, সুধা সদনের কর্মচারী মাহমুদ হাসান বাবুল, সিবিএ নেতা ফিরোজ মিয়া, আবদুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগ তুরাগ থানার সভাপতি ও হরিরাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হাশিম। যৌথবাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বির”দ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তাদের বির”ব্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে এই সরকার কোনো ছাড় দেবে না। সেজন্য আটকাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নেতাদের বির”দ্ধে আদালতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সরকার মামলা দায়ের করবে। কোনো প্রকারের ছাড় দেবে না সরকার। দুই উপদেষ্টার বক্তব্যে সেই কঠোর মনোভাবের আভাস পাওয়া গেছে। পাশাপাশি যৌথবাহিনী সারা দেশে দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রসীদের বির”দ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-02-08

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: