বিচার বিভাগ স্বাধীন করার সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন অধ্যাদেশ অনুমোদন

রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করতে সর্বশেষ পদড়্গেপটি সম্পন্ন হল। গতকাল বুধবার প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরম্নদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) সংশোধন করে খসড়া অধ্যাদেশ চূড়ানত্ম অনুমোদন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি শীঘ্রই অধ্যাদেশটি জারি করবেন।

সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার অধ্যাদেশটি অনুমোদন দিল। এর ফলে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হল। রাজনৈতিক সরকারগুলোর অনীহা, দলীয় মনোবৃত্তি ও আমলাতান্ত্রিক বাধার কারণে ৩২ বছর ধরে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আটকে ছিল। সর্বশেষ আট বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করে স্বাধীনতা দেয়ার নির্দেশ দিলেও কার্যকর হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে ১২ দফা সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিলেও তা বাসত্মবায়ন না করে ২৬ বার সময় নেয়।

গত ১১ জানুয়ারি বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ড়্গমতায় এসেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বিচার বিভাগ পৃথক করার উদ্যোগ নেয়। সরকার পাঁচদিনের মধ্যে ১৬ জানুয়ারি পৃথকীকরণ সংক্রানত্ম চারটি বিধিমালা জারি করে। চার বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট চারটি বিধিমালার খসড়া তৈরি করে দিয়েছিল সরকারকে। এরপর সুপ্রিম কোর্ট ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনের জন্য অধ্যাদেশ জারি করতে সরকারকে ১২ ফেব্রম্নয়ারি পর্যনত্ম সময় দেয়। সরকার এর মধ্যেই অধ্যাদেশ অনুমোদন করল। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে খসড়া অধ্যাদেশটি পেশ করে। অধ্যাদেশ জারি ও কার্যকর হলে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকদের হাতে ন্যসত্ম জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের যাবতীয় বিচারিক ড়্গমতা বিচার বিভাগ তথা সুপ্রিম কোর্টে স্থানানত্মর হবে। জেলার নির্বাহী ও প্রশাসনিক সকল দায়-দায়িত্ব জেলা প্রশাসক ও সহকারী কমিশনারদের হাতে ন্যসত্ম থাকবে। তারা নির্বাহী বিভাগের অধীনেই থাকবে। বর্তমানে কর্মরত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ ইচ্ছা করলে পছন্দ অনুযায়ী বিচার বিভাগের অধীনে যেতে পারবেন। নির্বাহী বিভাগ থেকে অপশন দিয়ে বিচার বিভাগে যাবার সুযোগ তাদের থাকবে। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত মর্যাদা ও সুবিধা দেয়া হবে।

নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করতে হাইকোর্টে ১৯৯৫ সালে রিট পিটিশন দায়ের করেন তৎকালীন বিচার এসোসিয়েশনের মহাসচিব ঢাকা জেলা জজ আদালতের সাবজজ মাসদার হোসেনসহ কয়েকশ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ। দীর্ঘ শুনানি ও প্রক্রিয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট ১৯৯৯ সালে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রানত্ম ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে যুগানত্মকারী ও ঐতিহাসিক রায় দেয়। এই রায় বাসত্মবায়ন না করায় কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক চৌধুরী মুনিরউদ্দিন মাহফুজ ২০০৪ সালে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন। ফলে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ইস্যুটি নতুন গতি পায়। এরপর আদালত চারটি বিধিমালার খসড়া তৈরি করে সরকারকে জারির নির্দেশ দিলেও তৎকালীন সরকার বার বার সময় চেয়ে নেয়। অবশেষে বর্তমান সরকার তা কার্যকর করলো। ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথ সুগম হল।

গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক থেকে বেরিয়ে একজন উপদেষ্টা ইত্তেফাককে বলেন, এই ঐতিহাসিক পদড়্গেপের ফলে জনগণের সুবিচার প্রাপ্তি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে। সুপ্রিমকোর্টের উপরই এই দায়িত্ব অর্পিত হল। ৩২ বছর পর বিচার বিভাগ স্বাধীন হল। পুরো কাঠামো সম্পন্ন হতে আরো দুই তিন বছর সময় লাগতে পারে। রাষ্ট্রপতি শীঘ্রই অধ্যাদেশ জারি করবেন।
Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-02-08

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: