ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি শীর্ষপর্যায়ে আরেক দফা ধরপাকড় আসছে ।। আরো কিছুদিন পরিস্থিতি দেখবেন হাসিনা-খালেদা

দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া চলমান পরিস্থিতি আরো কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করবেন। বিএনপি-আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা আমাদের সময়কে জানান, এ পর্যবেক্ষণের সময়সীমা আপাতত নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি মাস পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের সরকারের অ্যাকশন সহনীয় পর্যায়ে থাকলে এবং সরকারের কার্যপরিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেলে পর্যবেক্ষণের ডেডলাইন বাড়তে পারে। অন্যথায় জরুরি অবস্থার মধ্যেই মুখ খুলবেন দুই নেত্রী। তবে তাদের প্রতিক্রিয়ার ধরন কী হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।
প্রসঙ্গত, জরুরি অবস্থা জারির পর শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া এখন পর্যন্ত কার্যত নিশ্চুপ। প্রথমদিকে কিছুদিন ঘরোয়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালালেও পরে সেটাও তারা গুটিয়ে নেন। ফলে বলা চলে, গোটা রাজনীতিই এখন গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছে। তবে আকস্মিকভাবে শীর্ষপর্যায়ের কমপক্ষে ২০ জন নেতা গ্রেফতারের ঘটনায় এবং দুই দলের আরো প্রায় ৪ শতাধিক নেতাকে গ্রেফতারের আশঙ্কায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন দুই নেত্রী। এ ঘটনায় ড. ফখরুদ্দীন আহমদের সরকারের গতিপ্রকৃতি নিয়েও তারা সন্দিহান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপি-আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের ১৫ জন নেতার একযোগে গ্রেফতারকে ড. ফখরুদ্দীনের সরকার মূলত একটি টেস্ট কেইস হিসেবে নিয়েছে। এর মাধ্যমে দুই বড় দলের প্রতিক্রিয়া কেমন হয় সরকার তা দেখতে চেয়েছে। তবে প্রতিক্রিয়ায় উষ্ণতা না থাকায় সরকারের আ্তবিশ্বাস বেড়েছে। ফলে সরকারের এখন আর পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। বরং সরকার নিজস্ব ছকে ধাপে ধাপে এগুবে।
ধরপাকড়ে দুই প্রধান দলের মৃদু প্রতিক্রিয়া এবং অনেকের সাধুবাদের কারণে গত কদিনে যৌথবাহিনী আরো কজন উল্লেখযোগ্য রাজনীতিককে গ্রেফতার করেছে। জানা গেছে, চলতি মাসেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে আরেক দফায় দুই দলের শীর্ষপর্যায়ের বেশ কজন নেতাকে একযোগে গ্রেফতার করা হতে পারে। বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও এলডিপির প্রথমসারির নেতারা ছাড়াও শীর্ষ কজন শিল্পপতিও এ অপারেশনে আটক হতে পারেন। বিএনপি-আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী অপারেশনের ওপরই দুই নেত্রীর প্রতিক্রিয়ার ধরন নির্ভর করছে। নতুন কোনো রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের উল্লেখযোগ্য ও পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলা হচ্ছে বলে দুই নেত্রীর কাছে প্রতীয়মান হলে বিএনপি-আওয়ামী লীগ পৃথক অবস্থানে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এদিকে শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে বিএনপি-আওয়ামী লীগ। সুশীল সমাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকা দুই দলের নেতারা ড. ইউনূসের সঙ্গে হাত মেলাতে পারেন বলে যে আলোচনা চলছে তাতে দুই দলের মধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে পারস্পরিক সন্দেহ ও অবিশ্বাস। নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ মোকাবিলা, নিজ দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে সচল রাখার স্বার্থে সহসা না হলেও অদূর ভবিষ্যতে বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে এক ধরনের সমঝোতা হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা আভাস দিয়েছেন। তবে এ সমঝোতা ঠেকাতে দেশি-বিদেশি একটি প্রভাবশালী চক্র এখন থেকেই নানান তৎপরতা চালাচ্ছে, এমন খবরও তাদের কাছে রয়েছে। Source:দৈনিক আমাদের সময়
Date:2007-02-10

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: