এবার চিফ অ্যাডভাইজর নিজে বাজেট ঘোষণা করতে পারেন

২০০৭-০৮ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে৷ তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন৷ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত কোনো সরকারের অর্থমন্ত্রী এ বাজেট পেশ করবেন না৷ কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান ড. ফখরুদ্দীন আহমদ জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণের মাধ্যমে এ বাজেট ঘোষণা করবেন৷ আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই একটি বাস্তবসম্মত বাজেট প্রস্তাব করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে৷ জুনের প্রথম সপ্তাহে এ বাজেট ঘোষণা করা হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে৷
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যায়যায়দিনকে বলেন, এবার এমন একটি বাজেট দেয়া হবে যাতে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল থাকে৷ অতীতের মতো সামঞ্জস্যহীন উচ্চাভিলাষী বাজেট দেয়া হবে না৷ এমন বাজেট ঘোষণা করা হবে যাতে পরবর্তী সময় কোনো ধরনের কাটছাটের প্রয়োজন না হয়৷ অর্থাত্ কি পরিমাণ রাজস্ব আদায় হতে পারে, বৈদেশিক সাহায্য কেমন আসবে- এ বিষয়গুলো সক্রিয় বিবেচনায় রেখেই বাস্তবভিত্তিক একটি বাজেট জাতির সামনে এবার উপস্থাপন করা হবে বলে ওই কর্মকর্তা জানান৷
কয়েকদিন আগে অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করার জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷ তবে কোন সরকার বাজেট দেবে বা কিভাবে আগামী বাজেট ঘোষণা করা হবে সে ব্যাপারে তিনি কিছুই জানাননি৷
বাজেট তৈরির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় নিয়মমাফিক বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক শুরু করতে যাচ্ছে৷ দু’একদিনের মধ্যে বৈঠকের দিনক্ষণ ঠিক করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে চিঠি দেয়া হবে৷ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ এপৃল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এ বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হবে৷ সব মিলিয়ে ৮০টির মতো বৈঠক হবে বলে বলে জানা গেছে৷
সূত্র জানায়, দেশের সার্বিক অবস্থা এখন এমন দাড়িয়েছে, আগামী ছয়-সাত মাসের মধ্যে দেশে কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা সম্ভব নয়৷ সে হিসেবে নিশ্চিত করে বলা যায়, জুনের আগে নতুন কোনো সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করছে না৷ আর সে কারণেই এবার জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার কোনো সম্ভাবনাও নেই৷
জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রথম ভাষণে কেয়ারটেকার সরকারের চিফ অ্যাডভাইজর ড. ফখরুদ্দীন আহমদ স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন; কিন্তু এখন প্রেক্ষাপট পাল্টে গেছে৷ কালো টাকার মালিক, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী-গডফাদার, জঙ্গিদের মদদদাতা এবং ঋণ খেলাপিরা যাতে কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার৷ প্রয়োজনে এ সংক্রান্ত প্রচলিত বিধি-বিধান সংশোধন এবং নতুন আইন প্রণয়নেরও ঘোষণা দেয়া হয়েছে৷
জনতা ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা বলেছিলেন, শুধু ব্যাংক ঋণ খেলাপি নয়, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপিরাও যাতে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সে জন্য নতুন আইন প্রণয়নের চিন্তাভাবনা করছে সরকার৷ Source:দৈনিক যায়যায়দিন
Date:2007-02-11

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: