জমি নিয়ে নাজমুল হুদার জালিয়াতির তদন্ত শুরু

সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বির”দ্ধে রেলওয়ের জমি বরাদ্দের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন- শুর” হয়েছে। নাজমুল হুদার স্ত্রী, আ্তীয়স্বজন ও নিকটজনের নামে বরাদ্দ দেয়ার কাগজপত্র তলব করেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যোগাযোগ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) এমএ মতিনের নির্দেশে ইতিমধ্যে জমি বরাদ্দ সংক্রান- বেশ কিছু কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। সূত্র জানায়, রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের পূর্ব দিকে পান্থপথ সংলগ্ন রেলওয়ের ৫ একর জমি মাত্র ৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকায় মিলেনিয়াম হোল্ডিংস লিমিটেডকে স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার আগের দিন অর্থাৎ ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা তড়িঘড়ি করে ১০০ কোটি টাকার জমি মাত্র ৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকায় বরাদ্দ দিয়ে যান। সরকারি এই জমি বরাদ্দে নাজমুল হুদা কিভাবে লাভবান হয়েছেন এবং মিলেনিয়াম হোল্ডিংস লিমিটেডের কাছ থেকে কি পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন তদনে- সে বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়া হ”েছ। এছাড়া নাজমুল হুদার নিজের বা নিকটা্তীয় কারও নামে মিলেনিয়াম হোল্ডিংসয়ের সঙ্গে শেয়ার রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হ”েছ।
নাজমুল হুদার স্ত্রী সিগমা হুদা পরিচালিত মানবাধিকার বাস-বায়ন সংস্থার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের পূর্ব পাশের আবদুল গণি রোড সংলগ্ন রেলওয়ের ২ একর জমি বরাদ্দেও অনিয়ম হয়েছে বলে তদন- সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তারা জমি বরাদ্দের ফাইল পর্যালোচনা করে যোগাযোগ উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন, মাত্র ৫ হাজার টাকায় ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৪০ কোটি টাকা সমমূল্যের ২ বিঘা জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
নাজমুল হুদা ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার আগ মুহূর্তে যমুনা সেতুর ৫০ একর সরকারি জমি বরাদ্দেও ব্যাপক অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই জমিও একটি নামসর্বস্ব মানবাধিকার সংস্থার নামে ২ বছরের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। গত ৩১ জানুয়ারি বনানীতে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে সেতুর জমি বরাদ্দসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় যোগাযোগ উপদেষ্টা ওই জমি বরাদ্দে অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত হন। একজন কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রী থাকাকালে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ২ বছরের জন্য যমুনা সেতুর জমি বরাদ্দ দিয়ে গেছেন। তবে বোর্ড মিটিংয়ে তা অনুমোদন করে যাওয়ার সময় পাননি তিনি। সেতুর জমি টেন্ডারে লিজ দেয়া হলে সরকার হেক্টর প্রতি ১ লাখ টাকা করে পেত। কিন’ তা থেকে বঞ্চিত করা হয় সরকারকে। আর ওই জমি বরাদ্দের ব্যাপারে বিগত সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কোন নীতিমালাই করেনি। উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যাবতীয় তথ্য জানার পর যোগাযোগ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) এমএ মতিন বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে যমুনা সেতুর জমি বরাদ্দের চুক্তি বাতিল বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে রেলওয়ের আরও শত শত একর জমি অর্থের বিনিময়ে বা দলীয় বিবেচনায় বরাদ্দের বিষয়ে যাবতীয় ফাইল তলব করেছে সরকার। রেলওয়ের জমি বরাদ্দে দুর্নীতি, অনিয়ম, রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন করে আর্থিকভাবে নিজে লাভবান হওয়া প্রভৃতি বিষয়ের তদন- শেষে প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-02-11

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: