বিদেশের মাটিতে প্রথম সিরিজ জয় মাশরাফি ম্যান অব দ্য সিরিজ

আগের দিন হারারেতে বাংলাদেশের বোলাররা যা পেরেছেন, সে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতে পারলেন না কাল জিম্বাবুয়ের বোলাররা৷ তবে প্রায় করেই ফেলেছিলেন৷ ফলে ভালো অবস্থানে থেকেও মিডল ও টেল এন্ডারদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত সহজ জয়টাকে কঠিন করে জিততে হয়েছে বাংলাদেশকে৷ ৪ উইকেটে ২০৯ থেকে ২৪৬ পর্যন্ত যেতে ফিরেছেন আরো পাচ ব্যাটসম্যান৷ তারপরও অ্যাওয়ে সিরিজ জয়ের অধরা সাফল্য ধরা দিল বাংলাদেশের ললাটে৷ ম্যাচ সেরা আফতাব ও মুশফিকুরের ব্যাটিংয়ে অনেক সাধনার এ সাফল্য এসেছে তাদের ১ উইকেটে৷ এ দু’জনের ১৩২ রানের জুটি ম্যাচ অনেকটা সহজ হয় বাংলাদেশের জন্য৷ চিগুম্বুরার ঝড়ো এবং চিবাবা ও উইলিয়ামসের দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ে তোলা জিম্বাবুয়ের ৮ উইকেটে ২৪৪ রান সফরকারী দল ছুয়েছেন ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬ বল বাকি থাকতে৷ ৩৩ রানে ৬ উইকেট হারানোর পরও এ জয়ে বড় অবদান রেখেছেন আফতাব ও মুশফিক৷ আফতাব তার ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটা পেতে পেতেও পাননি৷ ৮ রান দূরে থাকতে আয়ারল্যান্ডের বলে লেগ বিফোর হন তিনি৷ আর উতসেইয়াকে উইকেট থেকে বেরিয়ে খেলতে এসে স্টাম্পড হওয়ার আগে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ  সেঞ্চুরি করেন মুশফিক (৫৭)৷ ফলে সফরকারীরা চার ম্যাচের সিরিজ জিতে নিল ৩-১-এ৷ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ চারটি সিরিজের তিনটিতে জিতেছে বাংলাদেশ৷ ম্যাচ হিসাবে ১৯টির ১৩টি জয়৷ ওয়ার্ল্ড কাপের আগে এ সিরিজ জয়ে দারুণ উজ্জীবিত হয়ে ওঠার কথা বাংলাদেশের৷ এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজে অন্যরকম কিছু একটা ঘটিয়ে ফেলতেই পারে৷ অবশ্য এ সফরে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি নিয়ে এখনো হতাশা কাটেনি৷ তাই ওয়ার্ল্ড কাপে ভালো করতে সূচনাটা ভালো করতেই হবে৷ ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাওয়ার আগে শেষ ক’টা দিন সুযোগ রয়েছে ওপেনিং জুটি তৈরি করার৷ আগামীকাল দেশে ফিরে একদিন ছুটি কাটিয়ে কোচ ডেভ হোয়াটমোর নেমে পড়বেন সেই পরীক্ষায়৷
স্বাগতিকদের মতো সফরকারীদের সূচনাও ভালো হয়নি৷ দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ার পর তৃতীয় উইকেট জুটি ম্যাচে ফেরান দলকে৷ ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শাহরিয়ার নাফীসকে (০) কট বিহাইন্ড করেন পেসার আয়ারল্যান্ড৷ কৃজে সেট হওয়ার পর তামিমকে (৩০) ফেরান রাইন্সফোর্ড৷ এরপরই আফতাব ও মুশফিকুর উপাখ্যান৷ তিন নাম্বারে ব্যাট করতে নামা মুশফিকুর হয়ে ওঠেন দৃঢ়তার প্রতীক৷ অন্যপ্রান্তের আফতাব যেন চিগুম্বুরাকে জবাব দেয়ার সংকল্প নিয়ে মাঠে নামেন৷ ব্যাটিং স্বর্গে তার ব্যাটও চওড়া হয়ে ওঠে৷ রাইন্সফোর্ড (২/৪১), আয়ারল্যান্ড (২/৫১), এমপফু (৩/৫২), উতসেইয়ার (১/৫০) বোলিং ফিগার বেঢপ করেন আফতাবই৷ কিন্তু দল সাফল্য পেলেও ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি না পাওয়ার যন্ত্রণা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে৷ তার আগে এমপফু ও রাইন্সফোর্ডকে ছয় মেরে ৪৪ বলে ১২তম ওয়ানডে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন আফতাব৷ শেষটা তো আগেই বলা৷ তারপরও অন্যপ্রান্তের মশফিকুর ধৈর্য নিয়ে খেলতে থাকেন৷ সাকিবুলের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ৩৭ রান যোগ করে ফিরেন তিনিও৷ মূলত এরপরই ম্যাচের চেহারা পাল্টানো৷ দ্রুত সাকিবুল (২৫), তুষার (০) ও তাপসকে (০) ফিরিয়ে ম্যাচের পেণ্ডুলাম ঘুরিয়ে দেন এমপফু৷ রাইন্সফোর্ডের বলে মাশরাফি (১১) কট বিহাইন্ড হলে ম্যাচ ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়ে৷ অধিনায়ক হাবিবুল ১৬ বলে ১৪ রান করে ম্যাচে আবার আধিপত্য এনে দেন বাংলাদেশকে৷ জয় থেকে ২ রান দূরে থাকতে হাবিবুল রান আউট হলে বাংলাদেশের কৃকেটারদের নখ কামড়ানো বেড়ে যায়৷ কিন্তু রাজ্জাক রাজ (৪*) শাহাদাতকে (০*) নিয়ে সাজঘরে ফেরেন ম্যাচ ও প্রথম অ্যাওয়ে সিরিজ বিজয়ীর বেশে৷ তবে এমপফুর বলে চিগুম্বুরা রাজ্জাকের ক্যাচ ধরলে ম্যাচের পরিণতি অন্য কিছুও হতে পারতো! হয়নি বলেই ৫৭ বলে ৭৭* রানের ইনিংস খেলেও খলনায়ক হয়ে ওঠেন চিগুম্বুরা৷
হারারের এ উইকেটে আগের দিন জিম্বাবুয়ের রান চেজ করে ম্যাচ জেতায় উদ্দীপ্ত হন হাবিবুল৷ তাই টস জিতে ব্যাট তুলে দিয়েছিলেন স্বাগতিক অধিনায়ক উতসেইয়ার হাতে৷ আর জিম্বাবুয়েকে হারাতে হলে শুরুতেই ওদের ওপেনিং জুটিকে ফিরিয়ে দাও, তাহলেই ম্যাচ সহজ হবে৷ প্রথম ম্যাচেও এটাই হয়েছিল৷ ১০ রানে ডাফিনকে ফিরিয়েছিলেন মাশরাফি৷ কালও তিনিই ডাফিনকে (১২) ফেরান ১২ রানে৷ ঠিক ১০ রান পর সিরিজে অসাধারণ খেলা সিবান্দাকে তিনি বোল্ড করলে উল্লাস করার সুযোগ পায় বাংলাদেশ৷ কিন্তু সেটা ছিল ক্ষণিকের, তা প্রমাণ করতেই তৃতীয় উইকেটে ইনিংস মেরামতে নামেন চিবাবা ও উইলিয়ামস৷ শক্ত হাতে হাল ধরে ১০১ রান যোগ করেন এ দু’জন৷ দলীয় ১২৩ রানে ৭৩ বলে ৫১ করা উইলিয়ামসের সহজ রিটার্ন ক্যাচ ধরে বাংলাদেশকে ব্যাক থ্রু এনে দেন বামহাতি স্পিনার সাকিবুল৷ ঠিক ৪ রান পর চিবাবাকে ফিরিয়ে দেন আরেক বামহাতি স্পিনার রাজ্জাক রাজ৷ মাশরাফিকে মিড অনে ক্যাচ দেয়ার আগে চিবাবা ৫৪ রান করেন ৮৬ বলে৷ দু’জনই মেরেছেন ৫টি করে চার৷ এরপর অন্যপ্রান্তে উইকেট পড়লেও ধুমধারাক্কা ব্যাটিং শুরু করেন চিগুম্বুরা৷ চিগুম্বুরার অ্যাটাকিং ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলাররা কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলে৷ তাই ৪৮ বলে ফিফটি করার পর ৯ বলে করেছেন ২৭ রান! চিগুম্বুরা ৫৭ বলে ৭৭* রানের ইনিংসে মোট সাত ছক্কার দুটি মারেন শেষ ওভারে লং অন ও এক্সট্রা কভার দিয়ে৷ সিরিজ সেরা বোলার মাশরাফি (৩/৫২), তাপস (০/৪৭), শাহাদাত (১/৪৬) সাকিবুল (১/৪২) কেউ-ই তার ব্যাটের ধার থেকে রক্ষা পাননি৷ সিরিজে প্রথম খেলতে নামা তুষারের এক ওভারে ১৪ রান নেয়ায় তার হাতে আর বল দেয়ার সাহস দেখাননি হাবিবুল৷ ফলে চিবাবা, উইলিয়ামস ও চিগুম্বুরার ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ে পুরো ৫০ ওভার খেলে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৪ রানের ফাইটিং স্কোর দাড় করায়৷ কিন্তু এ রান যে হারারের উইকেটে জেতার মতো নয় সেটা পরে বুঝিয়ে দেন আফতাব আর মুশফিকুর৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com, তাং-11-02-07

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: