৭৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল

পুলিশের ৭৫৭ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগের প্রক্রিয়া বাতিলের সিদ্ধান- নেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করবে। দলীয় বিবেচনায় এদের নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। পুলিশের আইজি নূর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, গতকালই এ ব্যাপারে চূড়ান- সিদ্ধান- নেয়া হয়েছে। তদনে- নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ধরা পড়ায় এ সিদ্ধান- নেয়া হয়। যাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হ”েছ, তাদের মধ্যে রয়েছেন ৪৮৬ জন এসআই, ৫০ জন মহিলা এসআই, ২২১ জন সার্জেন্ট। জোট সরকারের শেষদিকে ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে দলীয়করণের ষোলকলা পূরণ করেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের বির”দ্ধে এ নিয়োগ-বাণিজ্যে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই কর্মকর্তাদের নিয়োগের রিকুইজিশন দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই ৭৫৭ জন সাবইন্সপেক্টর ও সার্জেন্টের নিয়োগ প্রক্রিয়া শনিবার বাতিলের সিদ্ধান- নেয়।
সূত্র জানায়, এছাড়াও জোট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ৮৩৫ জন সাবইন্সপেক্টরের নিয়োগ বাতিলের চিন-াভাবনা চলছে। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেহেতু ৮৩৫ জন সাবইন্সপেক্টর চাকরিতে যোগদান করেছেন, সেহেতু তাদের ব্যাপারে আইনগত বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান- নেয়া হবে। এছাড়াও পুলিশের কনস্টেবল থেকে শুর” করে জোট সরকারের আমলে নিয়োগ দেয়া প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ সদস্যের ব্যাপারে তদন- চলছে। দেশের ৪টি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণরত কনস্টেবলদের নিয়োগের ব্যাপারে যাচাই-বাছাই চলছে।
সূত্র জানায়, ৭৫৭ জন এসআই-সার্জেন্টের মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষায় দলীয় ভিত্তিতে মেধা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে অনেক মেধাবী পরীক্ষার্থীকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ দেয়া হয়েছে। এমনকি অনেকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলেও তাদের উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জেলা কোটা, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, পোষ্য কোটা, উপজাতি কোটার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের সুপারিশে এদের বাছাই করা হয়েছে। বেশিরভাগ নিয়োগে প্রতি প্রার্থীকে মোটা টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা এ সংক্রান- একটি রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। এরপরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতর নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন ৭৫৭ এসআই ও সার্জেন্টের জীবনবৃত্তান- পর্যালোচনা করে। ব্যাপক দুর্নীতির বিষয়টি ধরা পড়ার পরই এ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের সিদ্ধান- নেয়।
পুলিশ সদর দফতরের একটি সূত্র জানায়, সাবেক জোট সরকারের ৫ বছরে কনস্টেবল থেকে এএসপি পর্যন- ২৬ হাজার ২৫৯ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। এদের নিয়োগের সময় ১৩ হাজার ৫১৯টি পদও সৃষ্টি করা হয়। নতুন পদের মধ্যে রয়েছে- একজন অতিরিক্ত আইজি, দু’জন জয়েন্ট কমিশনার, একজন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৮ জন পুলিশ সুপার, ২৮ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ১৮৫ জন সহকারী পুলিশ সুপার।
সূত্র জানায়, নিয়োগপ্রাপ্তরা সাবেক জোট সরকারের ক্ষমতায় থাকার মেয়াদের মধ্যেই যাতে চাকরিতে স্থায়ী হতে পারে, সে কারণে তাদের প্রশিক্ষণের মেয়াদকাল কমিয়ে দেয়া হয়। পুলিশ সদর দফতরের রিক্রুটিং ডেস্কের কর্মকর্তারা বলেন, সারদা পুলিশ একাডেমী ও চারটি পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (পিটিসি) বর্তমানে নতুন রিক্রুট হওয়া পুলিশদের ট্রেনিং হয়। নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী একাডেমীতে প্রশিক্ষণের মেয়াদ এএসপিদের জন্য এক বছর থেকে কমিয়ে ৯ মাস, এসআইদের জন্য এক বছর থেকে ৬ মাস এবং কনস্টেবলদের ছয় মাস থেকে কমিয়ে চার মাস করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, পুলিশ একাডেমী প্রচলিত সিলেবাস অনুযায়ী এসআই হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সদস্যরা পুলিশ একাডেমীতে এক বছরের প্রশিক্ষণ শেষে থানা, রিজার্ভ অফিস, সার্কেল অফিস ও আদালতে দুই বছর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন। এসআই নিয়োগের পর প্রশিক্ষণে এসব নিয়ম পালন করা হয়নি।
বিবিসিকে আইজি
পুলিশের আইজি নূর মোহাম্মদ এসআই সার্জেন্টের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের সিদ্ধান- সম্পর্কে গতকাল বিবিসিকে বলেন, দলীয় বিবেচনায় এবং ঘুষের বিনিময়ে এ নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। বিবিসির খবরে বলা হয়, চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময় পুলিশ বিভাগে সাব-ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্ট পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং অনিয়ম হয়েছে, এই অভিযোগে ইতিমধ্যেই বাছাই বেশ কিছু পুলিশের নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান- গ্রহণ করেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। পুলিশের আইজি নূর মোহাম্মদ এ সিদ্ধান- গ্রহণের কারণ সম্পর্কে বলেন, নিয়োগ নিয়ে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তারা এই নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান- নিয়েছেন। কত পুলিশের নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান- নেয়া হয়েছে সে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাব-ইন্সপেক্টর, সার্জেন্ট এবং মহিলা সার্জেন্ট- এই তিনটি পর্যায়ে তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল কয়েক মাস আগে। তাদের লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। কিন’ কোন নিয়োগপত্র দেয়া হয়নি। তাদের সংখ্যা ৬শ’ থেকে ৭শ’র মতো। নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক দুর্নীতি-অনিয়ম হয়েছে। জেলা কোটা মানা হয়নি। অনেক জেলায় বরাদ্দের চেয়েও বেশি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যেটা খুবই বড় অনিয়ম। অনেক ক্ষেত্রে উৎকোচের বিনিময়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ড. ফখর”দ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পুলিশ বিভাগে নিয়োগ নিয়ে এই প্রথম বড় ধরনের একটি সিদ্ধান- নেয়া হল। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-02-11

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: