বগুড়ায় হাওয়া ভবনের ত্রাণ ভাণ্ডার

বিএনপি নেতার গুদামে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারের পণ্য ।। গ্রেপ্তার ২

‘নির্বাচনী ভেট’ দেওয়ার জন্য বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারের হাজার হাজার কম্বল ও শাড়ির মজুদ গড়ে তুলেছিল বিএনপি। বগুড়ায় জেলা বিএনপির এক নেতার গুদাম এভাবে পরিণত হয়েছিল হাওয়া ভবনের ত্রাণ ভাণ্ডারে। সেখান থেকেই এর বিতরণ চলতো ভোট কেনার কাজে। শাড়ি ও কম্বল মজুদের খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে একই মালিকের প্রায় ১২টি গুদামে মজুদ করা অর্ধলক্ষাধিক বস্তা মসুর ডালেরও সন্ধান পেয়েছে যৌথবাহিনী। অভিযানের সময় ওই গুদামগুলোর স্বত্বাধিকারী শোকরানা ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে ডেকে নেয় যৌথবাহিনীর সদস্যরা। পরবর্তী সময়ে অবৈধভাবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারের মালামাল নিজ হেফাজতে রাখার জন্য সাইফুলকে এবং জর”রি সরবরাহের মালামাল মজুদ করার দায়ে শোকরানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বগুড়া তথা উত্তরাঞ্চলের একমাত্র চারতারা হোটেল নাজ গার্ডেনের স্বত্বাধিকারী জেলা বিএনপির সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সমপাদক শোকরানার মালিকানাধীন এসব গুদামের মধ্যে একটিতে প্রথমে গত শনিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। সে সময়ই মজুদকৃত এসব মালামালের সন্ধান পাওয়া যায়। শনিবার অভিযানকালে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে যৌথবাহিনীকে শোকরানা জানান, কম্বল ও শাড়িগুলো দলীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে দুস্থ ও শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য হাওয়া ভবন থেকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, গত ২০০৩ সাল থেকেই বিএনপির বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী তার গুদামে মজুদ থাকতো। সর্বশেষ গত ২৪ জুলাই হাওয়া ভবনের কর্মকর্তা সাজ্জাদুজ্জামান তালুকদার জয় বিপুল পরিমাণ কম্বল ও শাড়ি ওই গুদামে মজুদের জন্য পাঠিয়েছিলেন। তিনি যৌথবহিনীকে আরো জানান, এবারের শীতে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দুস্থ ও শীতার্ত মানুষের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রদত্ত যেসব কম্বল ও শাড়ি বিতরণ করেছেন সেগুলোও তার ওই গুদামের মজুদ থেকেই নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সমপাদকের স্লিপের মাধ্যমে গুদাম থেকে চাহিদামতো কম্বল ও শাড়ি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এসময় তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সমপাদকের স্বাক্ষরযুক্ত বেশ কয়েকটি স্লিপও দেখান। এর মধ্যে সাধারণ সমপাদক সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরযুক্ত স্লিপের সংখ্যাই বেশি।
শনিবার বিএনপি নেতা শোকরানার এসব বক্তব্য শোনার পর যৌথবাহিনীর সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুল আহসান গতকাল রোববার এসব কম্বল ও শাড়ি মজুদ রাখার সপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপসহ সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতাদের উপস্থিত থাকতে বলেন এবং তারা গুদামটিতে তালা লাগিয়ে দেন।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় শোকরানার গুদামে পুনরায় অভিযান চলে। বগুড়ার প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান মৃধার নেতৃত্বে যৌথবাহিনী সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সমপাদক সাইফুল ইসলাম ও গুদামের স্বত্বাধিকারী শোকরানাকে ডেকে নেন। তাদের উপস্থিতিতে গুদামের মালামাল বের করতে গিয়েই হাওয়া ভবন প্রেরিত ওইসব মালামালের বস্তার গায়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারের সিল দেখতে পায় যৌথবাহিনী। বস্তার ওপরে লেখা ’প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার/পণ্যের নাম শীতবস্ত্র (কম্বল)/ পরিমাণ ১০পিস /সৌজন্যে চৈতী গ্র”প ঢাকা।’ এভাবেই অসংখ্য বস্তায় সারি সারিভাবে সাজনো ছিল এসব শীতবস্ত্র ও শাড়ি।
অভিযান পরিচালনার সময়ই সেখানে শোকরানার মালিকানাধীন আরো অন্তত ১১টি গুদামে মজুতকরা মসুর ডালের সন্ধান পাওয়া যায়। মাত্র ৩ মাস সময়ের জন্য নিয়ে আসা এসব ডাল ২ মাস ১২ দিন অতিক্রান্ত হলেও গতকাল পর্যন্ত তা বাজারে ছাড়া হয়নি। ডালগুলো সিটি ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ দেখানো হয়েছে। শোকরানা জানান, ডালগুলো তিনি এবং বগুড়ার অপর ব্যবসায়ী পরিমল যৌথভাবে আমদানি করেছেন। রাত ৮টায় মালামাল গণনা শেষে দেখা গেছে, সেখানে ৪ হাজার ৭৭৫ পিস কম্বল, ১ হাজার ৯০০ পিস শাড়ি ও ৮৯০ পিস সুয়েটার এবং ৫২ হাজার ৮০০ বস্তা মসুর ডাল মজুদ করা ছিল। এই ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় গতকাল দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-02-12

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: