শীর্ষ ১০০ কর খেলাপিকে খুজছে কর বিভাগ সারা দেশে সন্দেহজনক আরো ৮০০০ ব্যক্তির সম্পদের অডিট শুরু হচ্ছে

আয়ের বড় উত্স গোপন করে কর ফাকি দেয়া ১০০ শীর্ষ কর খেলাপির তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)৷ একই সঙ্গে কর ফাকি সন্দেহে সারা দেশে আরো প্রায় আট হাজার করদাতার সম্পদের অডিট শুরু করছে সরকারের এ সংস্থাটি৷ গতকাল এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে৷ শীর্ষ ১০০ জনের সম্পদ তদন্তের জন্য তাদের প্রতি নোটিশ পাঠানো হচ্ছে৷ ১০০ জনের তালিকায় অধিকাংশই রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও আইনজীবী ৷ এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে৷
প্রায় ২১ লাখ টিনধারী (ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফকেশন নাম্বার) করদাতার মধ্যে চলতি অর্থবছরে মাত্র ছয় লাখের মতো করদাতা তাদের সম্পদের বিবরণী আয়কর বিভাগকে জানিয়েছেন৷ তাদের মধ্যে স্বনির্ধারণী বা ব্যক্তি নিজেই নিজের সম্পদের মূল্যায়ন করে সরকারকে এর তথ্য জানিয়েছেন৷ তাদের সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৪৬ জন৷ তাদের মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে সারা দেশে ৭ হাজার ৭৮২ জনকে কর ফাকির সন্দেহে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে৷ তবে ১০০ জনের একটি আলাদা তালিকা করা হয়েছে তাদের আয়ের বড় উত্স গোপন করার অভিযোগে৷ আয়কর বিভাগ ইতিমধ্যে এ ১০০ জনের সম্পদ লুকানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে৷ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আয়কর বিভাগ কাজ শুরু করেছে এবং তার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ওই শীর্ষ তালিকার প্রত্যেকের কাছে নোটিশ পাঠানোর কাজ চলছে৷ এছাড়া ছোট-বড় কর ফাকির সন্দেহে যে আট হাজার করদাতার তালিকা করা হয়েছে তাদের সম্পদের অডিটের জন্যও নির্দেশ দেয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলগুলোকে৷ এদের অডিট আগামী ১৫ এপৃলের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷
এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান গতকাল যায়যায়দিনকে বলেন, রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে অফিসারদের তাদের কাছে রক্ষিত তালিকা অনুযায়ী কাজ করতে বলা হয়েছে৷ এতোদিন তারা যেখানে হাত দিতে পারেনি সেখানে আমি এখন নির্ভয়ে কাজ করতে বলেছি৷ তবে অযথা কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় তাও খেয়াল রাখতে বলেছি৷
শীর্ষ ১০০ কর খেলাপি ও আট হাজার সন্দেহজনক করদাতার তদন্ত প্রসঙ্গে আয়কর নীতির মেম্বার আলী আহমদ বলেন, আমরা প্রায় আট হাজার ব্যক্তির সম্পদের বিবরণী অডিটের জন্য নির্বাচন করেছি৷ প্রাথমিক তদন্তে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের গরমিল ধরা পড়ায় তাদের সম্পদের অডিট করা হবে৷ তবে ১০০ জনের আরো একটি তালিকা করা হয়েছে, যারা তাদের আয়ের একটি বড় অংশ গোপন করেছে৷ তাদের নোটিশ করা হচ্ছে৷ তালিকাভুক্ত কর খেলাপিদের সংখ্যায় কারা বেশি? এ প্রশ্নের তিনি সরাসরি জবাব না দিলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও আইনজীবীদের সংখ্যাই বেশি৷ জানা যায়, খেলাপিরা সম্পদের যে বিবরণী দিয়েছেন তাতে নতুন শিল্পকারখানা চালু, বাড়ি ও গাড়ি কেনা, জমি কেনা, বড় কোনো ব্যবসা চালু করলেও এসবের তথ্য সরকারকে জানাননি৷ বাহ্যিকভাবেই তারা যে কর ফাকি দিয়ে যাচ্ছেন তার প্রমাণ পেয়েছে কর বিভাগ৷ ১৫ এপৃলের মধ্যে অডিট শেষ করে তাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায়সহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে এনবিআর সূত্র জানিয়েছে৷
ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল অঞ্চলে দাখিলকৃত স্বনির্ধারণী আয়কর রিটার্ন তদন্তে এনবিআর কর ফাকিবাজের সন্দেহে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে৷ এনবিআরের আয়কর নীতি বিভাগের সদস্যের নেতৃত্বে একই বিভাগের প্রথম ও দ্বিতীয় সচিবকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি সারা দেশের কর অঞ্চলগুলো থেকে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে এ তালিকা চূড়ান্ত করেন৷ ২০০৪-০৫ অর্থবছর থেকে প্রথম এ পদ্ধতিতে আয়কর দাতাদের তথ্য খতিয়ে দেখা শুরু হয়৷ ওই বছর ৬ হাজার ৭শ’ ব্যক্তির আয়কর দেয়ার তথ্য খতিয়ে দেখা হয়৷ এর মধ্য থেকে প্রকৃত অভিযুক্তদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে মোট ৪০ কেটি টাকার অতিরিক্ত কর জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়৷ কেয়ারটেকার সরকার ক্ষমতায় থাকায় অডিট কার্যক্রম নির্ভয়ে ও চাপমুক্তভাবে সম্পন্ন করা যাবে বলে চলতি অর্থবছরে আগের চেয়ে বেশি খেলাপি কর আদায় করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা৷
সূত্রঃ যাযাদি, 12-02-07

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: