৩টি সিদ্ধান্ত ও ৩টি কৌশলে ভুল ।। বিএনপিকে ডুবিয়েছে

৩টি ভুল সিদ্ধান্ত এবং ৩টি ভুল কৌশলই বিএনপির আজকের পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করেন দলের অনেক নেতা। একটি বা দুটি ক্ষেত্রে উল্টো সিদ্ধান্ত নিলেই দল এ ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যেতো বলে মনে করছেন তারা।
দলের একাধিক সিনিয়র নেতার মতে, ২২ জানুয়ারির নির্বাচনের ব্যাপারে এডামেন্ট থাকার সিদ্ধান্তটিই দলের আজকের বিপর্যয়ের প্রধান কারণ। মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়াসহ দলের লিবারেল অংশটি এ নির্বাচনের বিপক্ষে ছিলেন। ৮ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর কেয়ারটেকার সরকারকে অনুরোধ করে নির্বাচন স্থগিত করার জন্য লিবারেল অংশটি খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন’ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনদের মতো কট্টরপন্থিদের কারণে সম্ভব হয়নি। কট্টরপন্থিরা ২২ জানুয়ারির নির্বাচন করে ২ মাসের জন্য হলেও সরকার গঠনের পক্ষে ছিলেন।
ড. ফখরুদ্দীনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া ও বিএনপির যোগদান না করার বিষয়টিকেও আরেকটি ভুল বলে মনে করেন কোনো কোনো নেতা। তবে বিএনপির একটি অংশ এটিকে আংশিক ভুল বলে মনে করে। তাদের মতে, ১১ জানুয়ারি রাতে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ভাষণে জোট সরকারকে দুর্নীতিবাজ আখ্যায়িত করার কারণে খালেদা জিয়া শপথ অনুষ্ঠানে যাননি। খালেদা জিয়া নেতাদের বলেছিলেন এই রাষ্ট্রপতির সামনে তিনি যাবেন না। সিদ্ধান্তটিকে সবাই সঠিক বলে মনে করেন। ভিন্নমতদাতাদের মতে, শপথ অনুষ্ঠানে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো উচিত ছিল।
জানা গেছে, ড. ফখরুদ্দীন দায়িত্ব নেয়ার পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ চেয়ে পাননি।
একটি বাহিনীর প্রধানও কথা বলতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। এটিকেও বিএনপির ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন অনেকে। তবে বিএনপির কেউ এটিকে ভুল বলে মনে করেন না। তাদের মতে, ঐ দুই কূটনীতিক ব্রিটিশ শাসনের পুরনো সেই ‘ডিভাইড এন্ড রুল’ গেম খেলেছে। দুই কূটনীতিক একদিকে বিএনপিকে বলেছে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা যেন ব্যাহত না হয়। সেজন্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে আ’লীগকে বলেছে ভুলে ভর্তি ভোটার তালিকায় সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। একপর্যায়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ থেকেই তারা সরে দাঁড়ায়। দুদলকে দুই মেরুতে রেখে পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী নিজেদের অনুগত তৃতীয় শক্তিকে ক্ষমতায় বসানোর কৌশল নিয়েছিল তারা। তাদের মতে, তৃতীয় শক্তিকে ক্ষমতায় নেয়ার উদ্দেশ্য তিনটি। এক. এশিয়া এনার্জিসহ বাংলাদেশে পুঁজিবিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ রক্ষা করা। দুই. অধিকতর কার্যকর ব্যবস্থাপনার বুলি দিয়ে চট্টগ্রাম পোর্টকে মার্কিনিদের হাতে তুলে দেয়া। তিন. ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার ব্যবস্থা করা। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আনার সিদ্ধান্তটি এ ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করেন তারা।
বিএনপি নেতাদের মতে, ড. আকবর আলী খানসহ উপদেষ্টাদের নেয়া প্যাকেজ প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে সকল দল নির্বাচনে অংশ নিতো। প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হতে না দিয়ে বিএনপি কৌশলগতভাবে ভুল করেছে। ওই পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আ’লীগ ক্ষমতায় গেলেও বিএনপিকে দুর্নীতির অভিযোগে এতোটা কুপোকাৎ কিংবা কোনো নেতাকে জেলে যেতে হতো না। এ ভুলের কারণে জিয়াউর রহমানের বিএনপি দুর্নীতিবাজদের দল হিসেবে চিহ্নিত হলো। তাদের মতে, ভোটার তালিকা, সিইসি ও কমিশনারদের বিতর্কিত ভূমিকাসহ অন্য বিতর্কগুলোতে জড়িয়ে পড়া উচিত হয়নি বিএনপির। স ম জাকারিয়াকে ছুটিতে পাঠানোর পর দলীয় লোক মোদাব্বির হোসেন চৌধুরী এবং সাইফুল আলমকে কমিশনার করা সিদ্ধান্তটি ছিল বিএনপির আরেকটি ভুল কৌশল। এরশাদের মামলাটিকে বিচারপতি ফয়েজীর আদালতে নিয়ে কারাদণ্ডাদেশ প্রদান ও মনোনয়নপত্র বাতিলের কৌশলটিও ছিল দৃষ্টিকটু। বিএনপির আজকের এ পরিণতির জন্য এ ঘটনাটিও দায়ী বলে অনেকে মনে করেন। Source:দৈনিক আমাদের সময়
Date:2007-02-12

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: