আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখার মতো জ্ঞান অধিকাংশ এমপির নেই!

অষ্টম জাতীয় সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো ইসু আলোচিত হয়নি। অধিকাংশ এমপির আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখার মতো জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নেই। সংসদ কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কেও তারা অজ্ঞ। ফলে কোনো আইন সংসদে উপস্থাপনের পর প্রয়োজনীয় আলোচনা হয় না। অনেক এমপি সম্পূরক প্রশ্ন করতেও জানেন না। কোরাম সংকটে মোট কার্যদিবসের এক-পঞ্চমাংশ সময় অপচয় হয়েছে। শতকরা ৬২ ভাগ সংসদ সদস্য অর্ধেকেরও বেশি সময় সংসদে অনুপস্থিত ছিলেন। একেবারে অনুপস্থিতরা সবাই ব্যবসায়ী। সংসদ সদস্যদের ১৮৩ জন টেলিফোন বিলখেলাপি। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিগত সরকার পূর্ববর্তী সরকারের যে খাতগুলোকে অধিক দুর্নীতিগ্রস্ত উল্লেখ করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল, তাদের নিজেদের আমলে সেই খাতগুলোতেই অতিমাত্রায় দুর্নীতি হয়েছে। অথচ এসব নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। অষ্টম সংসদে পাস করা ১৮৫টি আইনের মধ্যে ১০৮টিই সংশোধনীমূলক। এরমধ্যে ১৩টিই ছিল মন্ত্রী-এমপি ও বিচারকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত। এ সংসদে সকল বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও কোরাম ছাড়াই ৫টি আইন পাস হয়েছে।
কোরাম সংকটের কারণে মোট আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ২০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ৫ বছরের ৩৭৩টি কার্যদিবসের সংসদে মাত্র ৯ দিন যথাসময়ে সংসদ শুরু হয়। শেষ ৩ বছরে এমপিরা মোট ১ হাজার ৫৮ বার নেতা-নেত্রীর প্রশংসা করেছেন। এক দল অন্য দলের সমালোচনা করেছেন ৯৯০ বার। সরকারের শেষ অর্থবছরের বাজেটে খাতহীন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ- ৫ হাজার ৬০১ কোটি টাকা। সংসদ শুরুর দেড় বছর পর সংসদীয় কমিটি গঠিত হওয়ায় কমিটির কার্যকারিতা ব্যাহত হয়েছে। ৩৭টি সংসদীয় কমিটির ৬টি কোনো প্রতিবেদনই জমা দেয়নি। ৩০টি কমিটি মাত্র ১টি করে প্রতিবেদন দিয়েছে। সরকারি হিসাব সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ১৪৯টি অডিট আপত্তি আলোচনা করে, যার পরিমাণ ১৩ হাজার ১৫৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে তেমন কোনো অর্থই আদায় হয়নি। দেশের গত ৮টি সংসদের এমপিদের কাছে বকেয়া টেলিফোন বিলের পরিমাণ মোট ৯ কোটি ৭০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। দায়িত্বশীলতা মূল্যায়ন প্রসঙ্গে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী বাদে ২০৩ জন, বাজেট আলোচনায় ৯৯ জন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ১৮২ জন এমপি আলোচনায় অংশ নেননি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোজাফফর আহমদ, নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ও গবেষণা কর্মকর্তা তানভীর মাহমুদ। Source:দৈনিক আমাদের সময়
Date:2007-02-13

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: