খেলাফত-আওয়ামী লীগ ফতোয়া চুক্তি বাতিল

বাতিল হয়ে যাওয়া ২২ জানুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে খেলাফত মজলিসের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিতর্কিত চুক্তি এবং মহাঐক্যজোটের আসন সমঝোতা বাতিল করেছে আওয়ামী লীগ। অবশ্য মহাজোটের ঐক্য অটুট রাখার ঘোষণা দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচনে নতুন করে আসন সমঝোতা হবে। ১৪ দলসহ মহাজোটের শরিক দলগুলো আওয়ামী লীগের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, খেলাফত মজলিসের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের এ সিদ্ধান্ত অসামপ্রদায়িক গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আরো বেগবান করবে। আসন সমঝোতা বাতিলের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে দলগুলোর অভিমত হচ্ছে, এর ফলে আগামী নির্বাচনের নতুন প্রেক্ষাপটে নতুন করে আসন সমঝোতার সুযোগ সৃষ্টি হলো।
দলীয় মুখপাত্র হিসেবে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল সোমবার ভোরের কাগজকে জানান, বাতিল হয়ে যাওয়া ২২ জানুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে কৌশলগত কারণে খেলাফত মজলিসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটা স্মারকে স্বাক্ষর করা হয়েছিল। নির্বাচন বাতিল হয়ে যাওয়ায় খেলাফত মজলিসের সঙ্গে স্মারক বা চুক্তিতে আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগের কেউ স্বাক্ষর করে থাকলে তা এখন বাতিল বলে গণ্য হবে।
তিনি দুঃখ করে বলেন, খেলাফতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে অনেকেই অপব্যাখ্যা করেছে। চুক্তিতে আহমদিয়াদের অমুসলিম ঘোষণা এবং ফতোয়াকে আইনসিদ্ধ করার কোনো কথা বলা ছিল না।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর খেলাফত মজলিসের প্রধান শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল ৫ দফা সমঝোতা স্মারক সই করেন। সে সময় ওই চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এ নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে দার”ণ সংকটে পড়ে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সরাসরি এ চুক্তির বিরোধিতা করা হয়। রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনুসহ জোটের শীর্ষ নেতারা শেখ হাসিনাকে সাফ জানিয়ে দেন, আওয়ামী লীগের এ চুক্তি ১৪ দল সমর্থন করে না। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দিনের সুহৃদ সুশীল সমাজের নেতারাও এ চুক্তির বির”দ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, ঐ চুক্তিতে ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু ছিল না।
এদিকে মহাজোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা বাতিল প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আরো জানান, নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাঐক্যজোট গড়ে উঠেছিল একটা আন্দোলনের ফসল হিসেবে। মহাঐক্যজোট অটুট থাকবে। তবে ২২ জানুয়ারির নির্বাচন বাতিল হওয়ায় মহাঐক্যজোটের অন্তর্ভুক্ত দলগুলোর মধ্যে আগের আসন সমঝোতা বাতিল হবে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে নতুন করে আসন সমঝোতা হবে।
এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে মহাজোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ভোরের কাগজকে বলেন, খেলাফত মজলিসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের এই চুক্তি বাতিল করার জন্য আমরা আগেই বলেছি। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এই দলটির অসামপ্রদায়িক ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হবে। আসন সমঝোতা বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেহেতু নির্বাচন বাতিল হয়ে গেছে আসন সমঝোতাও বাতিল হওয়াটাই স্বাভাবিক। ১৪ দলের ঐক্য আরো সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নতুন প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিতব্য আগামী নির্বাচনে নতুন করেই আসন সমঝোতা হওয়া উচিত।
মহাজোটের আরেক শীর্ষ নেতা জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ভোরের কাগজকে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী অসামপ্রদায়িক গণতান্ত্রিক দল। শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের পতাকা হাতে জাতিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শেখ হাসিনার নির্দেশে এ চুক্তি বাতিল হয়েছে বলে আমি তাকে অভিনন্দন জানাই। ইনু আশা প্রকাশ করে বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে অসামপ্রদায়িক গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরো বেগবান হবে।
মহাজোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জি এম কাদের এ ব্যাপারে তার প্রক্রিয়ায় খেলাফত মজলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিএনপি-জামাত অপশক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে জোটের শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আওয়ামী লীগকে এ চুক্তি করতে হয়েছিল। এখন আর সে পরিস্থিতি নেই। এ ধরনের চুক্তি বাতিল হওয়া দেশবাসীর কাছে কাঙিক্ষত। মহাজোটের আসন সমঝোতা বাতিলের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জি এম কাদের বলেন, নির্বাচন যেহেতু বাতিল হয়ে গেছে এখন আর আসন সমঝোতা দিয়ে কি হবে। আগামী নির্বাচনে আমরা নতুন করে আসন সমঝোতা গড়ে তুলবো। এমন তো নয় যে আমাদের আসন কমে যাবে। বরং আরো বাড়তেও পারে।
এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহী বি চৌধুরী এ সম্পর্কে বলেন, খেলাফত মজলিসের চুক্তি বাতিল সম্পূর্ণই আওয়ামী লীগের নিজস্ব বিষয়। তবে আসন সমঝোতা বাতিলের বিষয়টি মহাজোটের সভায় গ্রহণ করা উচিত ছিল।
গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি নুরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই বিতর্কিত চুক্তিটি বাতিল হওয়ায় আমি খুশি। তিনি বলেন, আমি ভেবে পাই না এই অপ্রয়োজনীয় চুক্তিটি আওয়ামী লীগ কেন করেছিল। এখন এই চুক্তি বাতিল করে দলটি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতা ও সংবিধানের প্রতি সম্মান দেখালো।
তবে খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি জেনারেল মওলানা ইউসুফ আশরাফী এ প্রসঙ্গে বলেন, চুক্তি বতিলের কথা আওয়ামী লীগ এখনো আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। পরবর্তী সময়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাবো। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-02-13

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: