বিচারকদের ওপর আস্থা আছে বলেই আমরা সাহস পেয়েছি-আইন উপদেষ্টা

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেছেন, বিচারকদের উপর আস্থা আছে বলেই আমরা বিচার বিভাগকে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার সাহস পেয়েছি। দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা আইনের ফাঁক-ফোকর খুঁজবেই। এজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। জজ-বিচারকদেরও দায়িত্ব আইনের ফাঁক-ফোকরের সুযোগ না দেয়া। আইন উপদেষ্টা গতকাল সোমবার এক প্রেসব্রিফিং-এ আরো বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর ঝুলে থাকার পর বর্তমান সরকার নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করার সকল কাজ শেষ করেছে। জাতি দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশা করে আসছিল বিচার বিভাগ পৃথক হোক। সরকার সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে বিচার বিভাগ পৃথক করেছে। এখন একে সার্থক করতে এবং এর সুফল পেতে বিচারক, আইনজীবী, সাংবাদিক সকল মহলের সহযোগিতা প্রদান ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা দরকার। দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমনে সকলের সহযোগিতা না পেলে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, যে সকল অপরাধের জন্য বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে আদালত সে সংকট দূর করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে। আইন উপদেষ্টা বলেন, সরকার দেশ থেকে দুর্নীতি উৎপাটন বা সবার দুর্নীতির বিচার করবে সে কথা আমরা বলি না। তবে রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত দুর্নীতি দূর করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। বিচারকদের এ বাস্তবতা বুঝতে হবে যে, স্বাভাবিক অবস্থা আর জরুরী অবস্থায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পার্থক্য আছে। সরকার একটি ভাল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনতে চায়। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

জরুরী অবস্থার মেয়াদ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, সংসদ কার্যকর থাকা অবস্থায় জরুরী অবস্থার মেয়াদ ১২০ দিনের কথা শাসনতন্ত্রে উল্লেখ আছে। কিন্তু এখন সংসদ নেই, তাই ১২০ দিনের এ বাধ্যবাধকতাও প্রযোজ্য নয়।

আইন উপদেষ্টা বলেন, কি কারণে দেশে সংকট সৃষ্টি হয়েছে সেটা এখন রাজনৈতিক নেতাদেরই মূল্যায়ন করতে হবে। শুধু নির্বাচন কমিশন সংস্কার করলেই চলবে না। রাজনৈতিক দলগুলোরও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রাজনৈতিক দল গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কেউ রাজনৈতিক মতামত দিতে পারে, দল গঠন করতে পারে।

বিচার এসোসিয়েশনের কৃতজ্ঞতা

নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বিসিএস বিচার এসোসিয়েশন। গতকাল এসোসিয়েশনের সভাপতি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম ও মহাসচিব আতাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময়ে আইন সচিব আলী আশরাফ খান লোদী উপস্থিত ছিলেন।

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাক্ষাৎ

তথ্য ও আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের সাথে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির একটি প্রতিনিধি দল তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাক্ষাৎ করেন। সমিতির সভাপতি শওকত জামিল প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

সাক্ষাৎকালে সমিতির নেতৃবৃন্দ চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা ও তাদের দাবি-দাওয়ার কথা তুলে ধরেন। তারা আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে ভিডিও পাইরেসি বন্ধ এবং অশ্লীল ছবি নির্মাতাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, অশ্লীল ছবি নির্মাতাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।

এ সময় সমিতির মহাসচিব শাহ আলম কিরণ ও সিনিয়র সহ-সভাপতি সোহানুর রহমান এবং তথ্যসচিব মোঃ দিদারুল আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-02-13

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: