বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পুকুরচুরির অভিযোগ

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকার পুকুরচুরি, দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতরা এখনও  বহাল তবিয়তে থাকায় সৎ ও কর্তব্যনিষ্ঠ অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী হতাশ। সম্প্রতি তিন পরিচালক ও এক উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও তাদের সহযোগীদের দৌরাত্ম্য কমেনি। অভিযোগে প্রকাশ, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের আপত্তি সত্ত্বেও সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলী পদে দশ বছরের জুনিয়র এক কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্বে নিয়োগ দেয়া হয়। এর পেছনেও রয়েছে দুর্নীতিপরায়ণ চক্রটি। এছাড়াও নিয়োগ ও বদলী বাণিজ্য সিভিল এভিয়েশনে জমজমাট আকার ধারণ করেছে। এদিকে গত ৫ বছরে নিয়োগ বদলী ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোন নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনা, তদ্বির ও মোটা অংকের উৎকোচ ছিল তথাকথিত পদোন্নতির মূলে। এদিকে বর্তমানে দূর্নীতি দমন কমিশনে সিভিল এভিয়েশনের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে সম্প্রতি দুইটি মামলাও হয়েছে।

অভিযোগে প্রকাশ, সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলীর পদটি জাতীয় বেতন স্কেলের তৃতীয় গ্রেডের বিধায় সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমে এ পদে পদোন্নতি দেয়ার কথা। কিন্তু সিভিল এভিয়েশনের একটি চক্র ১০ বছরের জুনিয়র একজন সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারকে চীফ ইঞ্জিনিয়ার পদে পদোন্নতি দেয়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। উল্লেখ্য সংস্থাপন মন্ত্রণালয় থেকে উক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদটিতেত নিয়োগের জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব প্রেরণ করার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানানো হয়। এই প্রস্তাব প্রেরণ করা নিয়ে গড়িমসি চলছে।

সিভিল এভিয়েশনের সেন্ট্রাল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড মেইনটেনেন্স ইউনিট (সেমসু) দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটে জর্জরিত। এখানে রীতিমত পরিবারতন্ত্র চালু রয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও সেমসু ইউনিটে মেইনটেনেন্সের নামে লাখ লাখ টাকার অনিয়মের প্রমাণ পায়। নো-ওয়ার্ক নো পের নামে দলীয় বিবেচনা এবং উৎকোচ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিমান বন্দরে কয়েকশ’ ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারীর নিয়োগ দেয়া হয়। শূন্যপদে নিয়োগ না করে এই পদ্ধতিতে নিয়োগের বাণিজ্য গড়ে তোলে। এই কারণে বিমান বন্দরে ঐ সকল নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের মত জায়গায় এই সকল কর্মচারীর কেউ কেউ যাত্রী হয়রানি, লাগেজ কেটে মালপত্র চুরি ও চোরাচালানিদের সাথেও জড়িত। কয়েক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই সিভিল এভিয়েশনকে দুর্নীতিমুক্ত করে ঢেলে সাজানোর মুখ্য সময়।

এই ব্যাপারে সিভিল এভিয়েশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেছেন, অনিয়মের দায়ে তিন পরিচালক ও এক উপ-পরিচালককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বর্তমানে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তারা কঠোরতম ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ খুঁজছেন। প্রধান প্রকৌশলীর বিষয়টি এখন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-02-13

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: