বৈশাখী বন্ধের উপক্রম, অস্থিরতা আরটিভি ও এনটিভিতে

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের গ্রেফতারের পরিপ্রেক্ষিতে গত জোট সরকারের আমলে সম্প্রচারে আসা চ্যানেলগুলো নিয়ে চলছে নানান জল্পনাকল্পনা। সবকটি চ্যানেলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত তৎকালীন বেশকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ক্ষমতাধর ব্যবসায়ী সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ায় এগুলোর কয়েকটি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
এতোদিন কোণঠাসা হয়ে থাকা চেয়ারম্যান এমএএইচ সেলিম গত সপ্তাহে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব নেয়ায় চ্যানেল ওয়ান শঙ্কা কাটিয়ে উঠেছে বলে আপাতত মনে হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বিভিন্ন সমস্যা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেন। অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানায়, গিয়াসউদ্দিন আল মামুন যৌথবাহিনীর অভিযান শুরুর পর থেকেই অফিসে আসতে না পারায় এবং পরে গ্রেফতার হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চ্যানেল ওয়ানের আর্থিক লেনদেন ব্যাহত হয়। এর মধ্যে ৬ মাসেরও বেশি সময়ের স্যাটেলাইট ভাড়া, ৩ মাসের ব্যাংক ঋণের কিস্তি ও কর্মীদের বেতন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেলিম দায়িত্ব নেয়ার পর বৃহস্পতিবার কর্মকর্তা-কর্মাচারিদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি খুব শিগগিরই স্যাটেলাইট ভাড়া ও অনুষ্ঠান নির্মাতা-প্রযোজকদের পাওনাসহ অন্যান্য দেনা শোধের উদ্যোগ নিয়েছেন।
এদিকে মামুন আটক হওয়ায় অনেক বিজ্ঞাপনদাতাও হাত গুটিয়ে নিচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। শুরু থেকেই ক্ষমতার দাপটে বিজ্ঞাপন সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া তার অবর্তমানে বিল পাস না হওয়ায় গত কয়েক মাস পাওনা থেকে বঞ্চিত অনুষ্ঠান নির্মাতা ও প্রযোজকরাও অনুষ্ঠান দিতে এখন অনাগ্রহী হয়ে পড়েছিলেন। তবে এখন এ সমস্যাও আর থাকবে না বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০০৫-এর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে কোনোরকম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া সম্প্রচারে আসা বৈশাখীর পর্দা খুব শিগগিরই নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একটি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রচারে থাকলেও আনুষ্ঠানিকতা বা মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান ও সংবাদ প্রচারে তেমন উদ্যোগ এবং পর্যাপ্ত বিজ্ঞাপন না পাওয়ায় হতাশ হয়ে অধিকাংশ বিনিয়োগকারী পরিচালকই টাকা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। নির্মাতা প্রযোজকরাও এখানে অনুষ্ঠান দেয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন।
এদিকে মোসাদ্দেক আলী ফালুর মালিকানাধীন এনটিভি ও আরটিভিও আর্থিক সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। আরটিভি থেকে ‘যুবক’ শেয়ার উঠিয়ে নিয়েছে বলেই শোনা গিয়েছিল বেশ কিছুদিন আগে। এর ফলে অনুষ্ঠান নির্মাতা ও প্রযোজকদের অনেকের টাকাই পরিশোধ করতে সমস্যা হচ্ছে চ্যানেলটির। অপরদিকে এনটিভির আর্থিক লেনেদেনে তেমন হেরফেরের ঘটনা না ঘটলেও চেয়ারম্যানের গ্রেফতারে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত নির্মাতা ও প্রযোজকরাও শঙ্কিত। বাংলাভিশনের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত বলে প্রচারিত ৪ সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কেউ গ্রেফতার না হলেও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। তবে চ্যানেলটির আর্থিক সংকটের কথা এখনো শোনা যায়নি।
এদিকে চ্যানেলগুলোর অর্থের উৎস সন্ধানে গোয়েন্দা তৎপরতার কারণে চ্যানেল ওয়ান, এনটিভি ও আরটিভি চিন্তিত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা যায়। Source:দৈনিক আমাদের সময়
Date:2007-02-13

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: