নাশকতার আশঙ্কা

দেশে বড়ো ধরনের নাশকতার আশঙ্কা করছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আশঙ্কা করা হচ্ছে খোদ প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদের ওপর হামলার। এছাড়া আক্রান্ত হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরোধী একাধিক গোষ্ঠী এই হামলা চালাতে পারে। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের এক মাস পূর্ণ হতে না হতেই এ ধরনের হামলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ মাসের গোড়ার দিকে একটি গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো বিশেষ গোপনীয় প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদকাল বৃদ্ধি পেলে এবং আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে বিলম্ব হলে প্রধান উপদেষ্টা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামলা চালাতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থক, জঙ্গি গোষ্ঠী ও সুবিধাবঞ্চিতরা এই হামলা চালাতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ সদর দপ্তরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এক পর্যালোচনা বৈঠক করেন। বৈঠকের পর এ সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
গোয়েন্দা সংস্থার ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকান্ড স্থিতিশীল নয়। আসন্ন সংসদ নির্বাচন দেরিতে হোক এটা কোনো রাজনৈতিক দলই আশা করে না। নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে হতাশ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান যৌথবাহিনীর অভিযানের ফলে অনেকেই এখন দিশেহারা। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে নির্বাচনই একমাত্র উপায় বলে তারা মনে করছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থকরা দিন দিন প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেছে। এসব কারণে তারা এখন যে কোনো মূল্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে জোর চেষ্টা চালাতে পারে। এ অবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত হলে এবং নির্বাচন দেরিতে অনুষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক দলের সমর্থক, দেশী-বিদেশী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, অথবা কোনো স্বার্থান্বেষী মহল এই হামলা চালাতে পারে।
গত ২৭ জানুয়ারি রাতে গুলিসত্মানে সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সের সামনে র‌্যাবের গাড়ির খুব কাছে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের বোমা হামলা চালানো এবং গাজীপুরে ট্রাফিক পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনা দুটিকে নাশকতামূলক ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের আরো হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়।
ঐ প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয় যে, জেএমবির জঙ্গিরাও একই ধরনের হামলা চালাতে পারে। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলাভাইসহ অন্যান্য নেতার ফাঁসির বিষয়টি মাথায় রেখে পালিয়ে থাকা জঙ্গিরা আবার সংগঠিত হয়ে উঠেছে। তারা তাদের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির প্রতিবাদে আবারো দেশজুড়ে আত্মঘাতী হামলা চালাতে পারে। সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গুর”ত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানগুলোই হবে তাদের প্রধান টার্গেট। এসব স্থানে জেএমবির সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্যরা সহিংস হামলা চালাতে পারে বলে গোয়েন্দারা ধারণা করছেন।
সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংস্থার এই প্রতিবেদনের পর চলতি মাসের প্রথম দিকে পুলিশ সদর দপ্তরে এ সংক্রানত্ম গুর”ত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী ৫ ফেব্রচ্ছারি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সার্বক্ষণিক সর্তক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরের দিন ৬ ফেব্রচ্ছারি এই নির্দেশ ডিএমপি পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ানের (র‌্যাব) মহাপরিচালক, সিআইডির অতিরিক্ত আইজি, দেশের সব মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপারদের কাছে এই নির্দেশ বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে।
এছাড়া বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে রাজধানীর অবৈধ দখলদার ও বসিত্ম উচ্ছেদ, ফুটপাথ হকার মুক্ত করা, ভেজালবিরোধী অভিযান ও মজুদদারদের বির”দ্ধে অভিযান জোরদার করার কারণে বিভিন্ন মহলের কাছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরাও প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা ও যানবাহনে ভাঙচুর চালিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারে।
অপরদিকে দুর্নীতিপরায়ন ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট তেল, চিনি, গুঁড়োদুধ, শিশু খাদ্যসহ বিভিন্ন গুর”ত্বপূর্ণ খাদ্যে আমদানি বন্ধ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চলেছে। তাদের বির”দ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তারা ভাড়াটে সন্ত্রাসী চক্রের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে তৎপর রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-02-14

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: