রাজনীতি করলে গ্রামীণ ব্যাংক ছাড়বেন ইউনূস

রাজনীতির জন্য গ্রামীণ ব্যাংক ছাড়তে রাজি আছেন নোবেল লরিয়েট প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে রাজনীতি করবেন কিনা তা এ মাসেই জানিয়ে দেবেন তিনি। জনগণের সাড়া পেলে এ মাসেই রাজনীতিতে নামবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ড. ইউনূস।
কলকাতা সফর শেষে মঙ্গলবার দেশে ফিরে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন। ভারতীয় স্যাটেলাইট চ্যানেল ইটিভি বাংলা ঘোষিত শ্রেষ্ঠ বাঙালির পুরস্কারগ্রহণ ছাড়া আরও কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রোববার তিনি কলকাতায় যান।
প্রফেসর ড. ইউনূস বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জনমত জানতে তিনি খোলা চিঠি দিয়েছেন। এ পর্যন- যে সাড়া পাওয়া গেছে তা উৎসাহব্যঞ্জক। তবে জনমত জানার এ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন চালু রাখা ঠিক হবে না। তাই খোলা চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের মানুষ যে মত দিচ্ছেন তার জবাব এ মাসের মধ্যেই জানানো হবে। এ মাসের বেশি সময় তিনি নেবেন না।
এক প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস জানান, প্রথমত তিনি একটি দল গঠন করতে চান। রাজনৈতিক কোন জোট করবেন কিনা সেটা পরে দেখা যাবে। দল গঠনে বিলম্ব হলে তিনি আগামী নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াবেন। ড. ইউনূস বলেন, এত রাজনৈতিক দল থাকা সত্ত্বেও মানুষ মনে করছে রাজনীতির ক্ষেত্রে অন্য ধারার প্রয়োজন আছে। লক্ষ্য স্থির করার পরই তার রাজনৈতিক এজেন্ডা সবাইকে জানানো হবে। তার ভিন্ন ধারার রাজনীতির প্রথম সূত্র হবে সাধারণ মানুষ। তাই তাদের নিয়েই তিনি রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করবেন। শুধু রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে আলোচনা করবেন না। তবে রাজনৈতিক দল গঠনে সবার সহযোগিতার পাশাপাশি বিরোধিতারও প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন।
গ্রামীণ ব্যাংক প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, রাজনীতিতে নামলে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক ছেড়ে দেবেন। গ্রামীণ ব্যাংক এখন নিজের মতো করে চলার শক্তি অর্জন করেছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাকে টেনে আনা ঠিক হবে না।
প্রফেসর ড. ইউনূস বলেন, নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে তার রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই। রাজনীতিতে আসার আগ্রহ তার অনেক আগে থেকেই ছিল। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদ ড. ইউনূস হওয়ার জন্য তার নিজেকে প্রস’ত করতে হবে। দ্বিধাবিভক্ত বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি কিভাবে কাজ করবেন সেটা জানার জন্য সবার পরামর্শ চেয়েছেন।
ড. ইউনূস তার সম্ভাব্য রাজনৈতিক দল গঠনে জনমত সংগ্রহে জেলা, থানা, গ্রামগঞ্জে তৃণমূল পর্যায়ে সবাইকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যে কেউ কাজ করতে পারেন। নিজের বাড়িতেই একটি টেলিফোন নিয়ে কাজে নেমে যেতে পারেন। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের তার দলে আসার সুযোগ হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি সাধারণ মানুষের রাজনীতি। তাই তাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তারা সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন বা পরামর্শ দেবেন- সবকিছু জানাতে হবে।
জরুরি অবস্থার মধ্যে এ ধরনের কাজ কিভাবে চলবে- এ প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, আইনের ভেতরে থেকেই তিনি কাজ করবেন। আইনি কাঠামোর মধ্যেই তিনি আছেন। জরুরি অবস্থায় কি কি বাধা আছে সেটা তিনি জানেন না। সেটা তিনি জেনে নেবেন। তিনি বলেন, জরুরি অবস্থা স্বাভাবিক নিয়মে চলুক। আগামী নির্বাচনটা সুষ্ঠু হোক।
বিসিসির শুভেচ্ছা
কলকাতা প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের কলকাতার সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ করেসপনডেন্ট ক্লাব (বিসিসি)। সোমবার সকালে স্থানীয় পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শানি-তে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানান। তার হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেন সংগঠনের সভাপতি সনৎ মুখোপাধ্যায়, সাধারণ সম্পাদক অমর সাহা এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত আচার্য্য। আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক পার্থ মুখোপাধ্যায়, শুভ পাল, দীপক রায়, কালীপদ দাশ, তারিক হাসান, রক্তিম দাশ এবং ইমরান আহম্মেদ। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি পরিতোষ পাল।
ওই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান, বাংলাদেশের কলাম লেখক মুহম্মদ জাহাঙ্গীর ও কালচারাল কাউন্সিলর জাফর আহম্মেদ। এ সময় সাংবাদিকরা ড. ইউনূসের রাজনীতিতে আসার ঘোষণাকে স্বাগত জানান।
১০ লাখ মানুষের সাড়া
নোবেল লরিয়েন্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের খোলা চিঠিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। রাজধানীর মগবাজারে সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশন অফিসে মতামত সংগ্রহে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকাল পর্যন- দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত আনুমানিক প্রায় ১০ লাখ মানুষ ড. ইউনূসের খোলা চিঠির জবাব দিয়েছেন। তাদের অধিকাংশই নোবেল শানি- পুরস্কার বিজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. ইউনূসের রাজনীতিতে যোগদান এবং দল গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন। ব্যক্তিগত মতামতের পাশাপাশি অনেকে দলগতভাবেও ইউনূসের রাজনীতি শুরুর সমর্থন জানিয়েছেন। আবার রাজনীতিতে যোগ দেয়ার বিরোধিতা করেও মত দিয়েছেন অনেকে। চিঠি, টেলিফোন, ফ্যাক্স, ই-মেইল এবং মোবাইলের মাধ্যমে খোলা চিঠির জবাব আসছে। সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশনের কর্মকর্তা শাহিন মোহাম্মদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খোলা চিঠির প্রচুর জবাব আসছে। পুরো হিসাব এ মাসের শেষদিকে পাওয়া যাবে। তবে এখন পর্যন- প্রায় ১০-১২ লাখ জবাব এসেছে বলে তিনি জানান। অনেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং কোন রাজনৈতিক দলের নেতা দলগতভাবে তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-02-14

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: