দুর্নীতিবাজরা নির্বাচনে অযোগ্য, নির্দেশের ৭২ ঘণ্টায় হাজির না হলে সম্পত্তি ক্রোক

দুর্নীতিবাজদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার পরিষদের অধীনে সব ধরনের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে জরুরি ক্ষমতা অধ্যাদেশ ২০০৭ এর কয়েকটি বিধি সংশোধন করে সরকার এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সংশোধিত বিধি অনুযায়ী, দুর্নীতির মামলায় সাজাভোগ করে মুক্তিলাভের পর দণ্ডিত ব্যক্তিকে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা সরকারের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির তার নিজ নামে অথবা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তির নামে দেশে-বিদেশে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখা নগদ অর্থ, নগদায়নযোগ্য বন্ড, সিকিউরিটি, শেয়ার সর্টিফিকেটসহ যে কোনো সার্টিফিকেট বা অনুরূপ অন্য কোনো ইন্সট্রুমেন্ট সরকার বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হন তা হলে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ বা ক্রোক করতে পারবে সরকার।
জরুরি ক্ষমতা অধ্যাদেশ ২০০৭ এর কয়েকটি বিধি সংশোধন করে সরকার এক প্রজ্ঞাপন জারি করে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গত ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করার পর গত ২৫ জানুয়ারি এ সংক্রানত্ম বিধিমালা জারি করা হয়েছিল।
সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি সম্পর্কিত অপরাধে কোনো ব্যক্তি দণ্ডপ্রাপ্ত হলে এবং এই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করলে আপিল আদালত আপিল মামলা চলাকালীন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি প্রদান করতে পারবে না এবং নিম্ন আদালতের রায় ও আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করতে পারবে না। প্রজ্ঞাপনে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০০২ এর সঙ্গে নতুন করে ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স ১৯৮৪ এর অধীনে অপরাধগুলোও অনত্মর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে যে কোনো নাগরিককে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নির্দেশ প্রদানকারী কর্র্তৃপক্ষের সামনে হাজির হয়ে তার স্থাবর অস্থাবর সম্পদের তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে তথ্যপ্রমাণ দাখিল না করলে উক্ত ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ সরকার ক্রোক করতে পারবে। ক্রোককৃত সম্পত্তি সরকার প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করতে পারবে। আর সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সঠিক তথ্য না দিয়ে যদি কোনো ব্যক্তি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দাখিল করেন তা হলে এই অপরাধে তাকে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৩ বছর পর্যনত্ম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মিথ্যা তথ্য দাখিলের জন্য ওই ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে।
কোনো ব্যাক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি সম্পর্কিত কোনো মামলা বা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়েরের আগেই সরকার ঐ ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ফ্রিজ বা ক্রোক করতে পারবে। কোনো কারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা যে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ফ্রিজ বা ক্রোক করা হলে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যাতে স্বাভাবিক থাকে সে জন্য সরকার এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে। কোনো ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ফ্রিজ বা ক্রোক করা হলে ৬০ দিনের মধ্যে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ বা মামলা দায়ের করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে অভিযোগ আনতে ব্যর্থ হলে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদনক্রমে ক্রোকাদেশ আরো ৩০ দিন বর্ধিত করা যাবে। উক্ত বর্ধিত সময়ের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করতে না পারলে ক্রোকাদেশটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির আপিল চূড়ানত্মভাবে নিষ্পত্তি হওয়া পর্যনত্ম দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিজ নামে বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তির নামে অর্জিত ও রক্ষিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণের আদেশ এবং ক্রোক বহাল থাকবে।
সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং, আয়কর বা অন্য কোনো অপরাধের সংশ্লিষ্টতার কারণে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদনত্মকাজ ৩০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। ৩০ দিনের মধ্যে তদনত্মকাজ সম্পন্ন না হলে তদনত্মকারী কর্মকর্তা যথাযথ কারণ দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে আরো ১৫ দিন সময় পাবেন। এই সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ৪৫ দিনের মধ্যে তদনত্মকাজ শেষ না করতে পারলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের অব্যবহিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে আরো ১৫ দিন সময় পাবেন তদনত্মকারী কর্মকর্তা। সব মিলিয়ে ৬০ দিন সময়ের মধ্যে তদনত্মকাজ শেষ না করতে পারলে তদনত্মকারী কর্মকর্তা ও তার সহায়তাকারী অন্য সকল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্ট চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় শাসিত্মমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধিমালা অনুযায়ী উল্লিখিত অপরাধের বিচার দ্রুত করার জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন করার জন্য বিধান রাখা হয়েছে। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-02-15

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: