নির্বাচন প্রসঙ্গে বিদেশী কূটনীতিকদের যত কথা

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কূটনীতিকরা বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশও বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন। ২০০৫ সাল থেকে তাদের দেয়া বক্তব্য এবং বিবৃতিগুলো ছিলো এরকম।

২০০৫ সালের ২৬ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে লেখা এক চিঠিতে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে আমি আশাবাদী।’ এর পরেরদিন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ক্রিস্টিনা রোকা বাংলাদেশ সফরে এসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, বিবদমান পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য খুবই সংকটপূর্ণ। ১৭ ফেব্রুয়ারি কমনওয়েলথ মহাসচিব ডোনাল্ড সি ম্যাককিনন বাংলাদেশ সফরে এসে সাংবাদিকদের বিরোধী দলের সংস্কার প্রসত্মাব প্রসঙ্গে বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নয়নে যে-কোন সংস্কারই করা যেতে পারে।
তবে যে-কোন সিদ্ধানত্ম আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই নেয়া উচিত। ২৩ ফেব্রম্নয়ারি মার্কিন কংগ্রেসের বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ারপারসন যোশেফ ক্রাউলি বাংলাদেশ সফরে এসে বলেছিলেন, সংস্কার প্রসত্মাব সরকারি দলেরই নিষ্পত্তি করা উচিত। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের উপ-সহকারী মন্ত্রী জন গ্যাষ্টরাইট ৩১ মার্চ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাড়্গাৎশেষে বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উন্নয়নের জন্য যত দ্রম্নত সম্ভব সংস্কারের বিষয়ে সমাধান হওয়া উচিত। ৩০ মার্চ লন্ডনে কমনওয়েলথ মহাসচিব ডন ম্যাককিনন ইত্তেফাক প্রতিনিধির সাথে এক সাড়্গাৎকারে বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংস্কারসহ গুরম্নত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে প্রধান দু’দলের নেত্রীকে সমঝোতায় পৌঁছতে হবে।
এর মধ্যে হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকার বিষয়ে মনত্মব্য করতে যেয়ে এনডিআই বলেছে, মোট ভোটার তালিকায় ১ কোটি ২২ লাখ ভোটার সংখ্যায় অসঙ্গতি বা ত্রম্নটি রয়েছে। ঠিকানা পরিবর্তন, মৃত্যু, দুইবার অনত্মর্ভুক্তি বা অন্যান্য কারণে অনুপস্থিত ভোটারের এ সংখ্যা চিহ্নিত হয়েছে। ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস বলেন, তৃতীয় পড়্গ যদি হয় গণতন্ত্র পরিবর্তনকারী কিংবা নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হতে বাধাদানকারী কোন শক্তি- তবে সে শক্তির উত্থান হবে বাংলাদেশের জন্য বিপর্যয়কর এবং মহাদুর্যোগপূর্ণ। একই দিন বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী বলেছিলেন, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য না হলে বাংলাদেশ আরো একদশক পিছিয়ে যাবে। ৩ মে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মাৎসুশিরো হরিগুচি বলেন, গণতন্ত্রের বৃহত্তর স্বার্থে ড়্গমতাসীন ও বিরোধী দল উভয়েরই ছাড় দেয়া উচিত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতগণ ৮ মে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আগামী নির্বাচন হবে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক নির্ধারক। ১৬ জুন তারা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে এক মধ্যাহ্নভোজে সংস্কার প্রসত্মাব নিয়ে কথা বলেন।
অবশ্য ২৭ জুন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খান বাংলাদেশের অভ্যনত্মরীণ বিষয় নিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকার জন্য কূটনীতিকদের প্রতি আহবান জানান। ২৮ জুন সুষ্ঠু ও সঠিক ভোটার তালিকা নিশ্চিত করতে ইউএনডিপি তাগিদ দেয়। ২ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দড়্গিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিচার্ড বাউচার বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অবাধ ও নিরপেড়্গ হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরদিন তিনি সংলাপে বসে সমঝোতায় পৌঁছতে দু’দলের প্রতি আহবান জানান। ১১ সেপ্টেম্বর এনডিআই প্রতিনিধি দল এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, অতীত রাজনীতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য অযোগ্যতা নয়।
২০ সেপ্টেম্বর মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে মানুষের মনে নানা শংকা রয়েছে। এর মধ্যে ২৮ অক্টোবর বিচারপতি কেএম হাসান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা না হওয়ার ঘোষণা দেন। ২৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট আবার আন্দোলনে নামে। ১১ নভেম্বর মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিচার্ড বাউচার বলেন, সংবিধানের আওতায় দুই দলকে সমঝোতায় পৌঁছতে হবে। ১২ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি ও তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের সাথে সাড়্গাৎশেষে দড়্গিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিচার্ড বাউচার বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। অবশ্য তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে বিবদমান সমস্যা সমাধানেরও পরামর্শ দেন। ২০ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূতগণ দু’জন উপদেষ্টার সাথে দেখা করে বলেন, নির্বাচন বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য না হলে আনত্মর্জাতিকভাবেও গ্রহণযোগ্য হবে না। পহেলা ডিসেম্বর জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রেগ জেনেস বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। ১৬ ডিসেম্বর ইসির প্রতি আস্থা এনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান সবার প্রতি আহবান জানান।
১৭ ডিসেম্বর মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন। ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধানত্ম পূর্বের অঙ্গীকারের পরিপন্থী। ৪ জানুয়ারি ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী বলেন, গ্রহণযোগ্য সরকারের জন্য সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন হতে হবে। ৯ জানুয়ারি মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে যে, সবাই যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি দেশে জরম্নরী অবস্থা ঘোষণা করেন এবং প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
জরম্নরী অবস্থা ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে যে, জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পরিবর্তিত পরিস্থিতি এমনভাবে গ্রহণ করবে যা হবে আইনের শাসনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-02-15

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: