অপ্রীতিকর ঘটনা : কক্সবাজারে ড. কামাল ও বিচারপতি নঈমুদ্দিন

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজ্ঞ ড. কামাল হোসেন ও সাবেক বিচারপতি নঈমুদ্দিন আহমদ রোববার কক্সবাজারে এক অপ্রীতিকর অবস্থার মুখোমুখি হন। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) উদ্যোগে দু’দিনব্যাপী সম্মেলনে যোগ দিতে তারা শনিবার কক্সবাজার আসেন।
এই বিশিষ্ট ব্যক্তিদ্বয়ের কক্সবাজার আগমনের সংবাদ পেয়ে স্থানীয় পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠনের কর্মীরা রোববার সকালে তাদের হোটেলে যান। তারা তাদের বলেন, নির্বিচারে পাহাড় কাটার কারণে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার এখন ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। কক্সবাজারের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের তীরবর্তী সুউচ্চ পাহাড় নির্বিচারে কেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের আবাসন প্লট তৈরি করছেন। কক্সবাজার কালেক্টরেট কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে বিগত জোট সরকারের সময় বন বিভাগের সংরক্ষিত বনভূমি রাতারাতি খাসে রূপান-র করে আবাসনের জন্য বরাদ্দ নেয়া হয় ৫১ একর পাহাড়। আর সেই পাহাড় সরকারি কর্মকর্তারাই রাতদিন বুলডোজার দিয়ে কেটে ফেলে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রটিকেই নিয়ে যাচ্ছেন ঝুঁকির মুখে। সরকারিভাবে কক্সবাজার সাগর পার এলাকাকে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণার পরও সরকারি কর্মকর্তারাই সেই পাহাড় কাটার ঘটনা ঘটাচ্ছেন। একথা শোনার পর ড. কামাল হোসেন এবং বিচারপতি নঈমুদ্দিন আহমদ পাহাড় কাটার দৃশ্য স্বচক্ষে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। হোটেল থেকে দুপুর ১২টার দিকে ড. কামাল হোসেন পাহাড় কাটার ঘটনা দেখতে যাওয়ার চেষ্টা করলে একই গাড়িতে থাকা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং পরিবেশবাদীদের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ সময় পাহাড় কাটার দৃশ্য যাতে তিনি দেখতে না পান এজন্য বিমান তার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাড়াতাড়ি তাকে নিয়ে যান বিমানবন্দরে। কিন’ বাস-বে তখন বিমানই নামেনি রানওয়েতে। ড. কামাল হোসেন এ অবস্থা বুঝতে পেরে পরে সরকারি কর্মকর্তাদের পাহাড় কাটার দৃশ্য দেখতে যান। তিনি এ দৃশ্য দেখে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘দেশের একশ্রেণীর লোভী মানুষের সম্পদ গ্রাস করার জঘন্যতম মানসিকতায় তিনি উদ্বিগ্ন। কক্সবাজার যেহেতু দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র সেহেতু এ এলাকার সহায়-সম্পদের প্রতি লোভী মানুষের লোলুপ দৃষ্টি পড়াটাই স্বাভাবিক।’ তিনি এরকম ভয়াবহ পাহাড় কাটার ঘটনায় উদ্বেগও প্রকাশ করেন। ওদিকে সাবেক বিচারপতি নঈমুদ্দিন আহমদকে অপর একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের লোকজন নিয়ে যান পাহাড় কাটার ঘটনা দেখার জন্য। তিনি পরিবেশবাদীদের সঙ্গে নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য পাহাড় কাটা দেখতে পাহাড়ে ওঠামাত্রই লাঠিসোটাধারী কয়েকজন লোক বিচারপতির দিকে তেড়ে আসে। এমনকি একপর্যায়ে পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত কয়েকটি বুলডোজারও বিচারপতির দিকে ধেয়ে আসে। অবশ্য তখন তার সঙ্গে থাকা পরিবশবাদীরা তাদের নিবৃত্ত করেন। পরে বিচারপতি লাঠিসোটাধারী লোকদের জিজ্ঞাসা করলে তারা তাকে জানায়, কক্সবাজারের এডিসি (রাজস্ব) তাদের আবাসন প্রকল্প পাহারা দেয়ার কাজে লাঠিসোটাসহ এখানে রেখেছেন। পরে বিচারপতি এডিসিকে খোঁজাখুঁজি করেও পাননি। রোববার বিকালে হোটেল কক্ষে বিচারপতি নঈমুদ্দিন আহমদ স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় জানান, পাহাড় কাটার ঘটনা দেখতে গিয়ে তার দিকে সত্যিই বুলডোজার চালিয়ে দেয়ার জঘন্য ঘটনাও ঘটতে চলেছিল। তিনি এ রকম ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে বলেন, লাঠি নিয়েও কিছু লোক তার দিকে এসেছিল তেড়ে। তিনি এরকম জঘন্য ঘটনার বিবরণ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে জানান। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-02-19

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: