প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের পরই নির্বাচন ভোটার আইডির সিদ্ধান্ত হলে সেনাবাহিনীর সাহায্য নেয়া হতে পারেঃ সিইসি

প্রয়োজনীয় আইন সংস্কার শেষেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট এসব আইনের বিভিন্ন দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ আইনী সংস্কার শেষ হবে এবং নির্বাচন সম্ভব হবে তা এখনো অনুমান করতে পারছে না ইসি। নির্বাচনের সময় জানাতে আরো কিছুদিন লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদা।

তিনি জানান, ভোটার আইডি কার্ড, নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহারসহ সবগুলো সংস্কার ইস্যু নিয়ে কমিশন চিন্তা করবে। যদি ভোটার আইডি কার্ড করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সেড়্গেত্রে প্রয়োজনে আইন ও নিয়ম-কানুনের মধ্যে থেকে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেয়া হবে। গতকাল রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। এর আগে সকালে প্রায় তিন ঘন্টা নির্বাচনী আইন সংস্কার বিষয়ে কমিশনের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল এ বিষয়ে কমিশনের প্রথম বৈঠক। সভা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে সিইসি বলেন, নির্বাচনী আইন ও সংস্কার ইস্যুগুলোর অভ্যনত্মরীণ পর্যালোচনার পর কমিশন এ বিষয়ে একটি খসড়া তৈরি করবে। সে খসড়া নিয়ে সরকার রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সঙ্গে আলোচনা করে সংস্কার প্রসত্মাব চূড়ানত্ম করবে। তিনি জানান, প্রথম বৈঠকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর প্রথম ১২টি ধারা পর্যালোচনা করেছে কমিশন। কমিশনের আরো কয়েকটা বৈঠক শেষে একটি সার্বিক চিত্র পাওয়া যাবে।

সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধানত্ম হয়নি। এ সংশিস্নষ্ট আইন পর্যালোচনা ও সবার সাথে আলোচনা করে সিদ্ধানত্ম নেয়া হবে। ভোটার তালিকা নিয়েও কোন সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়নি। ভোটার আইডি কার্ড করতে সেনাবাহিনীর সহায়তার প্রসত্মাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছবিসহ ভোটার তালিকা, ভোটার আইডি ন্যাশনাল আইডিসহ এ নিয়ে কমিশনের কাছে ৫টি বিকল্প রয়েছে। বিভিন্ন পড়্গের প্রসত্মাব আছে। সবগুলো বিবেচনা করা হবে। তবে এ বিষয়ে আমাদের সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা ভিজিএফ কার্ড সফলভাবে করেছে। এর আগেও ইসি ভোটার আইডির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তবে সফল হয়নি। আমরা সফল হতে চাই। এজন্য দরকার হলে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেয়া হবে।

সিইসি বলেন, ভোটার আইডি বা ভোটার তালিকা যাই করা হোক তা সুপ্রীম কোর্টের রায়ের আলোকেই করা হবে। তবে ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেম সম্পর্কে কমিশন একেবারেই ভাবছে না বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, আইন পর্যালোচনার পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন পড়্গের সুপারিশগুলো একত্র করছি। এগুলোর মধ্যে কমিশন সচিবালয়ের স্বাধীনতা, কালো টাকা ও পেশীশক্তিধারীদের নির্বাচনে প্রতিহত করাসহ নানা বিষয় অনত্মর্ভুক্ত রয়েছে। আমরা সবগুলোকেই গুরম্নত্ব দিচ্ছি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২, ভোটার তালিকা অধ্যাদেশ ১৯৮২ ও রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন -সবগুলোই আমরা পর্যালোচনা করব। তবে আইন করার আগে আমরা বাসত্মবায়ন করতে পারব কিনা তা দেখব। এছাড়া সংস্কারের কাজ সমাধা করতে যে সময়ের দরকার হয় সে সময় নেয়া হবে বলে ইসির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

সিইসি শামসুল হুদা বলেন, আগের কমিশনগুলো সংস্কারের অনেক সুপারিশ করলেও খুব কমই অনুমোদন হয়েছে। আমরা মনে করি, এবার আমাদের প্রসত্মাব অনুমোদন হবে কেননা দেশে এখন অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। এদিকে, সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্টে তথ্যগত ভুলের উলেস্নখ করে তিনি বলেন, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে রিপোর্ট হলে সবার জন্য মঙ্গল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী ব্যয় ১০ লাখ বা ২০ লাখ করার কোন কথা এখনো কমিশন বলেনি। কোন বিষয়ে সিদ্ধানত্ম নেয়ার আগে কমিশন এখনো আইনগুলো পর্যালোচনা করছে মাত্র। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-02-19

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: