বিদ্যুত্ সঙ্কট : সন্ধ্যা ৭টার পর সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে

আগামী রবিবার থেকে সন্ধ্যা ৭টার পর দেশের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, দোকানপাট বন্ধ থাকবে৷ বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ এ সিদ্ধান্ত আগামী তিন মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকবে৷ বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান বন্ধ রাখলে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সাশ্রয় হবে৷ সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, নিজস্বব জেনারেটরের মাধ্যমেও কোনো মার্কেট খোলা রাখা যাবে না৷
গতকাল রবিবার সচিবালয়ে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা তপন চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির এক সভায় এ সিদ্বান্ত নেয়া হয়৷ তবে জরুরি সেবা পণ্য, কাচা বাজার, পাড়া-মহল্লার ছোট দোকান, রেস্তোরা এবং ওষুধের দোকান এ সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে৷ এসব দোকান ইচ্ছা করলে খোলা রাখতে পারবে৷ বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও পর্যায়ক্রমে বন্ধ রাখা যায় কি না তা পর্যালোচনা করে দেখা হবে৷
সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান বন্ধ হচ্ছে কি না তা তদারকির জন্য একটি সরকারি তদারকি কমিটি গঠন করা হবে৷ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে এ কমিটি পুরো বিষয়টি তদারকি করবে৷ তবে দোকান বন্ধ না রাখলে কি শাস্তি হবে তা এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি৷ দোকান মালিকরা নিজেরাই এ সিদ্ধান্ত পালনে সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে৷
উল্লেখ্য, গত পাচ বছর সরকার নানাভাবে সন্ধ্যায় মার্কেট বন্ধ রাখার চেষ্টা করেছে৷ কিন্তু ব্যবসায়ীরা তা মেনে নেয়নি৷ গতকাল ব্যবসায়ীরাই প্রস্তাব দিয়ে সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল৷ ব্যবসায়ীরা এ সিদ্ধান্ত মানলেও কিছু নতুন প্রস্তাবও দিয়েছে সরকারের কাছে৷ সরকারি অফিস সকাল ৯টা-৫টার পরিবর্তে ৮টা-৪টা করার প্রস্তাব করেছে তারা৷ অফিস সময় পরিবর্তনের বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদে সিদ্ধান্তের জন্য পাঠানো হবে৷ সন্ধ্যায় বাসা বাড়িতে সব এয়ারকন্ডিশনার বন্ধ রাখারও প্রস্তাব করা হয়েছে৷ এ বিষয়টি কার্যকরভাবে দেখা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে৷
বৈঠক শেষে উপদেষ্টা তপন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷ এতে প্রায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সাশ্রয় হবে৷ দোকান মালিকরা নিজেরাই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তারাই এটা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন৷ তিনি আরো বলেন, যেহেতু এ মুহূর্তে আমাদের বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়ানোর কোনো ব্যবস্থা নেই সেই জন্য এ উদ্যোগ নিতে হয়েছে৷
দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আমির হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করবো সরকারের এ সিদ্ধান্ত পালন করতে৷ তবে সরকারকেও এর জন্য দোকান মালিকদের সহযোগিতা করতে হবে৷ তিনি বলেন, সরকার সব ক্ষেত্রে ভালো কাজ করছে৷ আমরাও সেই কাজের সঙ্গে সহযোগিতা করছি৷ আগের সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্ববাভাবিক ছিল না বলে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি৷
আসন্ন গরমের সময় বিদ্যুতের ঘাটতি হবে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট৷ সে সময় চাহিদা হবে ৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট৷ কিন্তু উত্পাদন করা যাবে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট৷ এ উত্পাদনও সব সময় ধরে রাখা সম্ভব হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে৷ ফলে ঘাটতির পরিমাণ আরো বাড়বে৷ বিদ্যুতের চাহিদা বাড়া শুরু হয় বিকাল ৪টা থেকে৷ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮ট পর্যন্ত সব থেকে বেশি বিদ্যুত্ ব্যবহার হয়৷ সকালের দিকে যে পরিমাণ বিদ্যুত্ ব্যবহার হয় সন্ধ্যায় প্রয়োজন হয় তার দ্বিগুণেরও বেশি৷ লোড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুত্ ব্যবহারের এ সময় নিয়ন্ত্রণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল গত সরকারের প্রথম দিকে৷ কথা ছিল শিল্প কারখানাগুলো চালানোর সময় পরিবর্তন করা হবে৷ কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি৷ লোড ব্যবস্থাপনার আওতায় কৃষিকাজে ব্যবহার করা সেচ পাম্পে রাত ১১টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হবে৷

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: