সন্দেহভাজন ৫০ জনকে তলব সমনপ্রাপ্তরা বিএনপি আ’লীগের নেতা এবং নামকরা ব্যবসায়ী  ২৪ জন জেলে বাকিরা পলাতক

সম্পদের হিসাব নিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য সন্দেহভাজন ৫০ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন৷ তালিকাভুক্তদের অধিকাংশই দেশের প্রধান দুই পলিটিকাল পার্টি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতা৷ এর বাইরে আছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সাবেক আমলা৷ তাদের মধ্যে ২৪ জন এরই মধ্যে যৌথ বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন৷ বাকি ২৬ জন পলাতক৷
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসে জড়িত হিসেবে সন্দেহভাজন এবং কালো টাকার মালিক হিসেবে সরকার প্রাথমিকভাবে ৪২০ জনের তালিকা চূড়ান্ত করেছে৷ এর মধ্যে ৫০ জনের নাম গতকাল প্রকাশ করা হয়েছে৷ বাকিদের তালিকাও আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে৷ জরুরি ক্ষমতা অধ্যাদেশ ২০০৭-এর আওতায় গত সপ্তাহে জারি করা সংশোধিত জরুরি ক্ষমতা বিধিমালার আওতায় এসব সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে৷
গতকাল যে ৫০ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে জেলে আটকদের পক্ষে তাদের প্রতিনিধি সম্পত্তির হিসাব দিতে পারবেন৷ অন্যদের ক্ষেত্রে কমিশন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এ হিসাব দাখিল করতে বলা হয়েছে৷ কমিশনের পাঠানো এ নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ হিসাব দাখিল না করলে তাদের সম্পত্তি ক্রোক করাসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে৷
গতকাল সন্ধ্যা থেকেই এ ৫০ জনের নামে কমিশনের সচিব স্বাক্ষরিত জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের বিবরণী দাখিলের নোটিশ পাঠানো শুরু হয়েছে৷ জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা, ২০০৭ (সংশোধিত) ও দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর আওতায় নোটিশ পাঠানো হচ্ছে৷
তালিকার এ ৫০ জন হলেন রাজনৈতিক নেতা মোঃ নাসিম, নাজমুল হুদা, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, হারিছ চৌধুরী, গিয়াসউদ্দিন মামুন, মোসাদ্দেক আলী ফালু, শামীম ওসমান, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, তরিকুল ইসলাম, সালমান এফ রহমান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আলী আজগার লবী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. এইচ বি এম ইকবাল, আমানউল্লাহ আমান, জয়নাল হাজারী, মীর মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন, সালাহউদ্দিন আহমেদ, এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মহীউদ্দীন খান আলমগীর, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আ হ ম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল), নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু, হাজী সেলিম, হাজী মকবুল, চৌধুরী আলম, হাফিজ ইব্রাহিম, আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়া, গিয়াস উদ্দিন, মুফতি শহীদুল ইসলাম, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মোঃ শাহজাহান চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, পংকজ দেবনাথ, মোঃ আবদুল কাইউম, আরিফুল হক চৌধুরী, এম নাসের রহমান বাবু, মহিউদ্দিন আহমেদ, যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান (শাহ আলম), বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আ ন হ আক্তার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক অফিসার জহুরুল হক, সোনালী ব্যাংক সিবিএ সভাপতি বি এম বাকির হোসেন এবং টিঅ্যান্ডটির সিবিএ সভাপতি মোঃ ফিরোজ মিয়া৷
কমিশনের সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেছেন, জরুরি ক্ষমতা অধ্যাদেশ ২০০৭-এর অধীন প্রণীত জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা ২০০৭-এর ১৫ঘ(১), (২) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ১৮ ও ২৬(১) ধারার বিধান অনুসারে এ ৫০ জনের নামে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে৷ তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধানের পর উল্লিখিতদের বিরুদ্ধে আরো অনুসন্ধান চালানোর জন্যই এ নোটিশ পাঠানো হচ্ছে৷ যারা কমিশনের এ নির্দেশ অমান্য করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সম্পদের হিসাব না দিলে নির্দেশ অমান্যকারীদের সম্পত্তি ক্রোক করা হতে পারে৷ তবে জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা অনুযায়ী ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রাইভেট করপোরেশনের ক্ষেত্রে এ আইন কিছুটা শিথিল হতে পারে৷ জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে এ ক্ষেত্রে রিসিভার নিয়োগ হতে পারে বলে জানালেন তিনি৷ বিভিন্ন কম্পানির শেয়ার, ব্যাংক, ইনশিওরেন্স প্রভৃতিতে জড়িত থাকলে এ ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে৷
সচিব দেলোয়ার আরো জানান, গোপন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এ ৫০ জনের তালিকা করা হয়েছে৷ এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল জানুয়ারি মাসের শেষের দিক থেকে৷ তিনি বলেন, নোটিশ পাওয়ার পর তানকিন হক সিদ্দিকী, আবদুল ওয়াদুদ, জাহানারা পারভীন ও নাসরিন আরা সুরাত আমিন কমিশনের এ চার পরিচালকের কাছে সেগুনবাগিচার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অফিস চলাকালে সরাসরি অথবা ক্ষেত্রবিশেষে প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হয়ে সম্পদের হিসাব দিতে হবে৷ তালিকার ব্যক্তিদের স্বনামে এবং স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যেরও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণ দিতে হবে৷
গণপ্রচারের জন্য এ বিষয়টি কমিশন বিভিন্ন মিডিয়াতে বিজ্ঞপ্তি আকারে আজ সোমবার প্রকাশ করার ব্যবস্থা নিয়েছে৷
জানা গেছে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হিসাব দাখিল না করলে জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা ২০০৭ অনুযায়ী সরকার নির্দেশ অমান্যকারীর সম্পত্তি ক্রোকের ব্যবস্থা নেবে৷ এছাড়া হিসাব দাখিলের পর এ বিবরণীকে কেন্দ্র করে আরো অনুসন্ধান চালানো হবে৷ এরপর অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলে এর ভিত্তিতে এজাহার দায়ের করা হবে৷ এজাহার দায়েরের ৪৫ দিনের মধ্যে দেয়া হবে চার্জশিট৷ আর মামলাটি আদালতে ওঠার ৬০ দিনের মধ্যে এর কার্যক্রম শেষ করতে হবে৷
সূত্রঃ যাযাদি, 19-02-07

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: