অনিয়মের শিকড় উপড়ে ফেলা হচ্ছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে

দু’যুগেরও বেশি সময় ধরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চলে আসা বিভিন্ন অনিয়ম ও জঞ্জাল সাফ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করেই কারা অধিদফতর সকল অনিয়মের শিকড় উপড়ে ফেলার কাজ শুরু করেছে। কারাগারের এক বিঘার বেশি জায়গার লিজ বাতিল করা হচ্ছে। আইজি (প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ জাকির হাসান বলেছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে লিজ বাতিল হচ্ছে। কারা অভ্যনত্মরে মাদকদ্রব্য প্রবেশের রম্নট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহের নামে কারাগারের লোকদের পরোড়্গ সহায়তায় কথিত সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। এই সিন্ডিকেটকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পরিবেশ দূষণমুক্ত করার কাজ

চলছে। বন্দিরা মুক্তিলাভের পর যাতে করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে সে বিষয়ে তাদেরকে হাতে-কলমে প্রশিড়্গণ দেয়া শুরম্ন হয়েছে। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসিয়ে টাকার বিনিময়ে বন্দিদের সাথে আত্মীয়-স্বজনের দেখা করার পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দর্শনার্থী কড়্গের ভেতরে-বাইরে গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য বিভাগ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং সাদা পোশাকে কারারড়্গীদের মোতায়েন করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, কারাগারের এক বিঘারও বেশি জায়গায় কম্বল তৈরির কারখানায় ম্যাট সদৃশ কম্বল তৈরি করে কথিত সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে সরবরাহ করে আসছিল। কারা অধিদফতর অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছে প্রতিটি কম্বলের উৎপাদন খরচ ৭৫ থেকে ১০০ টাকা। আর এই কম্বল প্রতিটি ৬২৩ টাকা করে কেনা কারা অধিদফতরের জন্য ছিল বাধ্যতামূলক। প্রতি বছর শীতে শুধু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় ২৫ হাজার কম্বলের প্রয়োজন হয়। গত বছর নভেম্বর মাসে নিম্নমানের কম্বল না নিয়ে কারা অধিদফতর ইউনিসেফ যে কম্বল সরবরাহ করে সেটি ৪৮০ টাকা করে ক্রয় করে বন্দিদের মাঝে সরবরাহ করেছে। এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, ১৯৮৩ সালে কারা অধিদফতর বাৎসরিক ৫০ হাজার টাকা করে ২৫ বছর মেয়াদে এক বিঘা জায়গা লিজ দিয়েছিল কম্বল তৈরির কারখানার জন্য। কারখানার যন্ত্রপাতির একটি বড় অংশ কারা অধিদফতরের। এতে কাজ করে তিন শতাধিক শ্রমিক। ম্যাট সদৃশ্য কম্বল তৈরির ফলে ডাস্ট ভেতরে যাওয়ায় বেশিরভাগ বন্দি শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রানত্ম হয়ে পড়েছে। অপরদিকে কারখানাটি কারাগারের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতারকৃত বন্দীদের দিয়ে বেতের মোড়া, সোফা ও বিভিন্ন ডিজাইনের চেয়ার বানানোর রীতি বহু পুরনো। বন্দীদের বেতের আসবাবপত্র তৈরি করা শেখানো হলেও মুক্তিলাভের পর কেউই আর তা অব্যাহত রাখেনি। এই ধারা ভেঙ্গে নতুন নতুন কাজ শেখানো শুরম্ন হয়েছে গত বছর থেকে। সর্বশেষ এ মাসের প্রথম দিকে কারাগারে বেকারি কারখানা চালু করা হয়েছে। এ কারাখানায় পর্যায়ক্রমে সবাইকে প্রশিড়্গণ দেয়া হবে। আটজন করে চার শিফটে ৩২ জনকে বেকারির সামগ্রী তৈরির প্রশিড়্গণ দেয়ার পর পুরোদমে বেকারি কারখানা চালু হয়েছে। তৈরি হচ্ছে কয়েক প্রকারের কেক, বিস্কুট ও পাউরম্নটি। বন্দীদের দিয়ে সুইপারের কাজ করানোর পুরনো রীতি এখন আর নেই। দিনে সুইপারের কাজের জন্য একজনকে দেয়া হতো ৬০ পয়সা। নতুন কারা বিধিতে সুইপারের কাজ উঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

আইজি (প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ জাকির হাসান ইত্তেফাককে বলেন, কারাগারের ভেতরের পুরনো দৃশ্য বদলে গেছে। বেকারি ছাড়াও রেডিও, টিভি, ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশনারসহ ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী মেরামত করার কাজ শেখানো হচ্ছে। যাতে কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর জীবিকা নির্বাহ করতে কাউকে বেগ পেতে না হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন সমসত্ম অনিয়মের সাথে কারাগারের লোক জড়িত ছিল। ইতোমধ্যে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-02-22

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: