দুর্নীতিবাজ চিহ্নিত হয়ে দুদলই এখন দুর্নীতিবিরোধী!

অনেকের মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের ফলে  দুই বড় দলের অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য ও ত্যাগী নেতারাই এখন মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। তারা মনেপ্রাণে একটি ভালো রাজনৈতিক পরিবেশ চান। কারণ দুর্নীতিবাজ নেতারা সক্রিয় থাকলে দলে তারা অপাঙক্তেয় হয়ে যান। এজন্য দুদলের ত্যাগী নেতাদের কণ্ঠে এখন এক সুর। তারা বলেন, ক্ষমতায় যাওয়া এবং টিকে থাকার চেষ্টা করতে গিয়ে যারা পরস্পরকে অস্পৃশ্য ও অচ্ছুত মনে করে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন এটা রাজনীতির জন্য শুভ লক্ষণ।
অন্যদিকে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই দুর্নীতিবিরোধী এবং সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে। অথচ এ নিয়ে দুই দল কিছুই বলছে না। অথচ প্রধান দুটি দলের যে কোনোটির পক্ষ থেকে এ জাতীয় উদ্যোগ নেয়া হলে প্রতিপক্ষ দলটি এতোদিনে দেশ অচল করে দিতো।
শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সত্যিকার দুর্নীতিবাজদের ধরুন। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি’। মান্নান ভূঁইয়া বলেছেন, ‘আত্মোপলব্ধি এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে বিএনপিকে আরো শক্তিশালী করতে হবে’। দুই দলের নেতারাই মনে করেন রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার কারণেই আজকের এ বিপর্যয়। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা নির্বাচন কমিশন সংস্কার এবং বিএনপি-জামায়াতের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডি অফিসে শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে, গণতন্ত্র হরণ করেছে তারা চিহ্নিত। বিএনপি-জামায়াতের অতিরিক্ত লোভের কারণেই আজকের এই বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে শিশু একাডেমী মিলনায়তনের আলোচনা সভায় মান্নান ভূঁইয়া দলের নেতাকর্মীদের আত্মশুদ্ধির কথা বলেছেন। এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় অনেক সিনিয়র নেতা দলে শুদ্ধি অভিযানের প্রয়োজনের কথা বলেছেন। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির জন্য একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে দায়ী করেছেন এক নেতা। পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই শুধুমাত্র তাদের মুক্তি দাবি করা হয়। সকল নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করা হয়নি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে আ’লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ আমাদের সময়কে বলেন, নির্বাচনকে কালো টাকা, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে গত কয়েক বছরে যারা কালো টাকার মালিক হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে দুর্র্নীতিমুক্ত রাখতে হবে। পাল্লা সমান করতে গিয়ে গত ৫ বছরের নির্যাতিত আ’লীগ কর্মীদের ধরা হলে ন্যায় বিচার হবে না। তিনি বলেন, প্রেসিডিয়ামে সিদ্ধানত্ম হয়েছে যারা দোষী প্রমাণিত হবে তাদেরকে দল থেকে বের করে দেয়া হবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান আমাদের সময়কে বলেন, আগের কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে দুর্নীতিবিরোধী ও সংস্কারমূলক কোনো কাজ করতে হয়নি। এ পরিস্থিতির জন্য রাজনীতিকরাই দায়ী। তার মতে, রাজনীতিকদেরই একচেটিয়া দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, আত্মশুদ্ধি বা আত্মোপলব্ধির আহ্বানটি শুধুমাত্র দলের এবং বর্তমান পরিস্থিতির জন্য নয়। একজন প্রবীণ নেতা হিসেবে এটি তার সর্বজনীন আহ্বান। Source:দৈনিক আমাদের সময়
Date:2007-02-22

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: