সন্দেহভাজন ৫০ জনের ব্যাংক লেনদেনের হিসাব চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

দুর্নীতির দায়ে সন্দেহভাজন ৫০ জনের ব্যাংক লেনদেনের হিসাব চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চাওয়া হয়েছে ওরিয়েন্টাল ব্যাংক কেলেঙ্কারি মামলার আসামিদের হিসাব বিবরণীও। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে এসব তথ্য জানতে চেয়েছে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। কারো কারো ড়্গেত্রে গত ১০ বছরের লেনদেনের বিবরণী চাওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েক ব্যক্তির একাউন্টের লেনদেন বিবরণীতে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। সেসব তথ্যের ভিত্তিতে এ পর্যনত্ম তিনজনের বিরম্নদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন ও যৌথ বাহিনীর প্রতিনিধিরা সমন্বিত তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছে সংশিস্নষ্ট সূত্রগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির দায়ে সন্দেহভাজন হিসাবে গত সোমবার যে ৫০ ব্যক্তির নামের তালিকা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তাদের যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন ও আয়ের উৎস খতিয়ে দেখতে একাধিক টাস্কফোর্স কাজ করে চলেছে। বিশেষ করে নীট সম্পদের হিসাব মেলানোর কাজটি করছে এনবিআরের কর গোয়েন্দারা। আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা প্রকাশের আগেই অভিযুক্ত ৫০ ব্যক্তির অর্থ সম্পদের হিসাব খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেয়া হয় এনবিআরকে। সে অনুযায়ী নগদ লেনদেনের হিসাব সংগ্রহের জন্য এনবিআরের তরফ থেকে গত ১৪ ফেব্রম্নয়ারি থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃপড়্গের কাছে চিঠি পাঠানো শুরম্ন হয়। অধিকাংশ ব্যাংকে এরই মধ্যে সেই চিঠি পৌঁছে গেছে এবং সে অনুযায়ী অনুসন্ধান কার্যক্রমও শুরম্ন হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, এ ড়্গেত্রে শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তির একাউন্টই নয়, খতিয়ে দেখা হচ্ছে তাদের পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠজনদের একাউন্টও। গোয়েন্দারা ব্যাংকগুলোর কাছে সংশিস্নষ্টদের এফডিআর, চলতি হিসাব, সঞ্চয়ী হিসাব, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চেয়েছে। প্রত্যেক অভিযুক্তের নামে গড়ে অনত্মত ১০টি করে একাউন্টের হদিস মিলেছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। এনবিআরের বিভিন্ন দফতরে সংরড়্গিত অভিযুক্তদের আয়কর রিটার্ন ইতিমধ্যে খতিয়ে দেখা হয়েছে। কিন্তু তাদের কারো দেয়া তথ্যই বাসত্মবতার সঙ্গে মিলছে না। প্রতিমাসে কয়েক লাখ টাকা খরচ করেন এমন একজন রাজনীতিক বছরে মাত্র ১২ হাজার টাকা আয়কর দেয়ার হিসাব দেখিয়েছেন। বিএমডবিস্নউ বা মার্সিডিজ বেঞ্জে চড়ে বেড়ানো ব্যবসায়ীরাও ঠিকমতো সম্পদের হিসাব দেননি কর বিভাগের কাছে। এক ব্যবসায়ীর নামে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডিআরের অসিত্মত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি ব্যাংকেই ৮৭ কোটি টাকা এবং অন্য একটি ব্যাংকে ১৩ কোটি টাকা। এ টাকার উৎস আয়কর বিবরণীতে দেখাননি তিনি। অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ কেউ বিগত সরকারের মেয়াদের শেষদিকে এসে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়েছিলেন। সেসব টাকার উৎস সম্পর্কেও খোঁজ নেয়া হচ্ছে এখন।

সূত্র জানায়, ১০ বছরের লেনদেনের ফিরিসিত্ম চাওয়া হয়েছে মূলত আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পদের হিসাব মেলানোর উদ্দেশ্যে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যসত্ম ড়্গমতায় থাকাকালেই তাদের একাউন্টে বেশি লেনদেন হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশিস্নষ্টরা। তবে ব্যাংকগুলো শেষ পর্যনত্ম এত পুরনো হিসাব বিসত্মারিতভাবে জানাতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অটোমেটিক ডাটাবেজ পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়েছে মাত্র কয়েক বছর আগে। এ অবস্থায় ব্যাংক থেকে পুরনো লেনদেনের হিসাব পাওয়া না গেলে শেষ পর্যসত্ম অভিযুক্তদের বাসা-বাড়িসহ গ্রামের বাড়িতেও খোঁজ নেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

এছাড়া ওরিয়েন্টাল ব্যাংক কেলেঙ্কারি মামলায় যে ২৬ ব্যক্তিকে আসামী করে তেজগাঁও থানায় মামলা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের আর্থিক লেনদেনের হিসাব জানতে চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে এ সম্পর্কিত চিঠি ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-02-22

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: