গুলশান লেকের উদ্ধার জমি ফের বেদখল তৈরি হচ্ছে বস্তি হোটেল রিকশা গারাজ হাই কোর্টের রুল থাকা সত্ত্বেও লেক দখল করার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে রাজউক ওয়াকওয়ের কাজ শুরু করলেও দখলদারদের কারণে কাজ আটকে যাচ্ছে

গুলশান লেকের ওয়াকওয়ে নির্মাণের জন্য সম্প্রতি উচ্ছেদ করা রাজউকের অধিকাংশ জায়গা আবার বেদখল হয়ে গেছে৷ দখলদাররা সাইনবোর্ড টানিয়ে আবার নেমে পড়েছে পুরনো দখল প্রতিষ্ঠায়৷ গতকাল শনিবার লেকের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা যায়, দখলমুক্ত করার রাজউকের সাইনবোর্ডের পাশেই দখলদারদের নির্মাণ কাজ চলছে৷
বারবার উদ্যোগ নিয়েও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) গুলশান-বনানী ও গুলশান-বারিধারা লেক সংরক্ষণ করতে পারছে না৷ অবমুক্ত করার পর প্রভাবশালী রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের চাপে আবার বেদখল হয়ে যাচ্ছে সে জায়গা৷ চলমান সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার অভিযানে রাজউক গুলশান লেকের ওয়াকওয়ের জায়গা উদ্ধার করলেও কয়েকদিনের মধ্যেই আবার সেগুলোর অধিকাংশই বেদখল হয়ে গেছে৷ রাজউক ওয়াকওয়ের কাজ শুরু করলেও দখলদারদের কারণে সে কাজ আটকে যাচ্ছে৷
গুলশান লেকের অনেক পয়েন্টে ওয়াকওয়ের জন্য ভরাট করা জায়গা দখল করে বহুতল ভবন তৈরি হয়েছে৷ এখন এমন অবস্থা হয়েছে, ওয়াকওয়ে বানাতে হবে নতুন করে লেক ভরাট করে৷ গুলশান ২৯ নাম্বার রোডের প্লট-২/ই লেক প্যালেসের পেছনে ওয়াকওয়ের জন্য কোনো জায়গা রাখা হয়নি৷ প্রাসাদ নির্মাণ নামে একটি প্রতিষ্ঠান এ অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করেছে৷ ২৯ নাম্বার রোডের ২/সি প্লটের ২১ একর জায়গা টিনের বেড়া দিয়ে দখল করা হয়েছে৷ এ প্লটের সঙ্গে ওয়াকওয়ের জন্য কোনো জায়গা রাখা নেই৷ একটি খাবার হোটেল চলছে প্লটের এক কোণে৷
৩২ নাম্বার রোডের ১৫ নাম্বার প্লটে নতুন টিনশেড নির্মাণ করছেন মোশাররফ হোসেন৷ এ প্লটের সামনে থেকে ওয়াকওয়ের জায়গাসহ লেকের অন্তত ১০ ফুট ভেতরে খুটি পোতা রয়েছে৷ সাইনবোর্ডে লেখা রাজউক কর্তৃক বরাদ্দকৃত৷ একই সড়কে চেক রিপাবলিকের কনসাল জেনারেলের অফিসের সামনের বস্তিটি কিছুদিন আগেই ভেঙে দিয়েছিলেন রাজউক কর্মকর্তারা৷ এখন শেখ আশরাফ উদ্দিনের সাইনবোর্ড ঝুলছে বস্তিতে৷ বস্তির অধিকাংশ ঘরই অবার তৈরি করা হয়েছে৷ এর মধ্যে কয়েকটি কাচা পায়খানার ময়লা লেকের পানিতে গিয়ে সরাসরি পড়ছে৷ ওয়াকওয়ের জায়গা দখল করেই বস্তিটি তৈরি করা হয়েছিল৷
১০৩ নাম্বার সড়কের মাথায় নছু গং দীর্ঘদিন ধরে ২২ শতাংশ জায়গা দখল করে রেখেছিলেন৷ ফলে ওয়াকওয়ে তৈরি করা যাচ্ছিল না৷ সম্প্রতি রাজউক জায়গাটি দখলমুক্ত করে৷ কিন্তু রাজউকের সাইনবোর্ডের পাশাপাশি দখলদারদের সাইনবোর্ডও ঝুলছে৷ স্থানীয় এক বাসিন্দা বললেন, এ প্লটে একটা দোকান ছিল৷ মাসে একবার ভাঙে আবার গড়ে তোলে৷
১০৪ নাম্বার সড়কের মাথায় ওয়াকওয়ের জায়গাসহ লেক দখল করে বিশাল রিকশা
গারাজ গড়ে তুলেছেন সোনা মিয়া৷ গতকাল বিকালে এ গারাজে অন্তত দেড় শতাধিক রিকশা দেখা যায়৷ রাতে এর সংখ্যা প্রায় তিনগুণ হয়৷ কয়েকজন রিকশাচালক জানান, এটি সোনা মিয়ার গারাজ নামে পরিচিত হলেও প্রৃকত মালিক কে তারা তা জানেন না৷
এদিকে লেকের ওয়াকওয়ের জায়গাই নয়, দখলমুক্ত করা পাশের বিভিন্ন স্থাপনাও আবার বেদখল হতে শুরু করেছে৷ গুলশান-২ পিংক সিটিতে বেজমেন্টে গড়ে উঠেছিল পিকিউএস নামে একটি শপিং মল৷ রাজউকের ম্যাজিস্ট্রেট সম্প্রতি সেটি উচ্ছেদ করে কার পার্কিংয়ের জায়গা তৈরির নির্দেশ দেন; কিন্তু সেখানে আবার গড়ে উঠেছে পিকিউএস শপিং মল৷
গত বছর ২৫ মে গুলশান-বারিধারা লেকে মাটি ভরাট কাজ বন্ধ রাখার জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট৷ এসব এলাকায় অবৈধভাবে লেক ভরাটের ক্ষেত্রে রাজউকের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানাতে রুলও জারি করে হাই কোর্ট৷ এরপরও লেক দখল ও ওয়াকওয়ে ধ্বংস করার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে৷ ফলে লেকের তীর ঘেষে ওয়াকওয়ে নামে পায়ে চলার যে পথ তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেটা এখন জায়গায় জায়গায় থমকে যাচ্ছে৷
রাজউকের ম্যাজিস্ট্রেট আ স ম ইমদাদুল দস্তগীর যায়যায়দিনকে বলেন, এবার আমরা ওয়াকওয়েটা করে ফেলবো৷ কাজ শুরু হয়ে গেছে৷ কিছু কিছু জায়গায় এখনো বাধা আছে৷ আশা করি সেগুলো কাটিয়ে ওঠা যাবে৷
সূত্রঃ যাযাদি, 25-02-07

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: