বাকিরের বাসায় যৌথবাহিনী ব্যাংক হিসাবের খোঁজখবর

সোনালী ব্যাংকের প্রভাবশালী সিবিএ সভাপতি ও বিএনপি নেতা বিএম বাকির হোসেনের মালিবাগ ও মতিঝিলের বাসায় গতকাল শনিবার সকালে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়েছে। তবে বাকিরকে পাওয়া যায়নি। অভিযানকালে যৌথবাহিনী খোঁজখবর নিয়েছে হঠাৎ করে কোটিপতি বনে যাওয়া বাকিরের ব্যাংক একাউন্টের ব্যাপারে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া তার সম্পদের হিসাবের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। অভিযানের সময় দুদকের কয়েকজন কর্মকর্তাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। যৌথবাহিনীর সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বাকিরের স্ত্রী সাজমা হোসেন ডলিকে।
তবে তার কাছ থেকে কোনো গুর”ত্বপূর্ণ তথ্য পায়নি অভিযানকারীরা। যৌথবাহিনী জানতে পেরেছে, গত কিছুদিন বাসায় না গেলেও এর আগে একই বাড়ির তৃতীয় তলায় শ্যালিকা শিউলির ফ্ল্যাটে বাকির লুকিয়ে থাকতেন।
জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে সেনাবাহিনী ও মতিঝিল থানা পুলিশের দুটি গাড়ি বাকিরের মালিবাগ কলেজ রোডের ১৫৬/এ/১ নম্বর বাড়ির সামনে গিয়ে থামে। “পিচ হোম” নামের ৬ তলা ঐ বাড়ির দ্বিতীয় তলার বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বাকিরের বাসা। যৌথবাহিনীর কর্মকর্তারা দ্র”ত বাসার মধ্যে ঢুকে পড়েন। পাওয়া যায় বাকিরের স্ত্রী ডলিকে। তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ শুর” করে যৌথবাহিনীর সদস্যরা। যৌথবাহিনীর সদস্যরা বাকিরের স্ত্রীর কাছে একে একে জানতে চান বাকিরের ব্যাংক একাউন্ট, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, বর্তমানে বাকিরের অবস্থান ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ব্যাপারে। বিএনপির কোন কোন নেতার সঙ্গে বাকিরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে সে ব্যাপারেও তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বাকিরের স্ত্রী ডলি এসময় যৌথবাহিনীর সদস্যদের সব প্রশ্নের উত্তর দেন। তবে চাঞ্চল্যকর কোন তথ্য তার কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে যৌথবাহিনীর সদস্যরা বাকিরের বাসায় অভিযান এবং তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বাকিরের স্ত্রী, তিন সনত্মান ও কাজের লোক ছাড়া এসময় বাসায় অন্য কেউ ছিলেন না। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পুলিশ নিচে এসে বাসার পাশের দু’ব্যক্তিকে ডেকে ঐ বাসায় নিয়ে যায়। তাদের মাধ্যমেই তল্লাশি চালানো হয় বাকিরের ফ্ল্যাটে। কিন’ এসময় সেখান থেকে গুর”ত্বপূর্ণ কোনো কিছু খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে যৌথবাহিনীর সদস্যরা জানান। অভিযান শেষে বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে যৌথবাহিনীর সদস্যরা ঐ বাসা থেকে বের হয়ে চলে যান। বাড়ির নিচতলায় পার্ক করে রাখা বাকিরের বিলাসবহুল নোয়া-এক্স গাড়িটির নম্বরও লিখে নিয়ে যান।
সূত্র জানায়, দুপুর সাড়ে বারটার দিকে যৌথবাহিনীর একটি দল মতিঝিল সোনালী ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টারে বাকিরের নামে বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাটেও অভিযান চালায়। কিন’ সেখানেও বাকিরের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আশপাশের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা সেখান থেকে ফিরে যান।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বাকির বাসায় থাকেন না। যৌথবাহিনী রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানোর সঙ্গে সঙ্গে সুচতুর বাকির হোসেন আত্মগোপন করেন। এসময় বাসার কারো সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রাখেননি। এলাকার লোকজনও বাকিরকে ঐ বাসায় আসতে দেখেননি। তবে এর আগে তিনি নিয়মিত বাসায় ফিরতেন এবং একই বাড়ির তৃতীয় তলায় শ্যালিকা শিউলির ফ্ল্যাটে অবস্থান করতেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে বহুল আলোচিত বিএম বাকির হোসেন দুদক কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তার সম্পত্তির হিসাব দাখিল করেন। এরপর তিনি একটি প্রাইভেট কারযোগে চলে যাওয়ার সময় সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তার গাড়ির গতিরোধ করে। কিন্ত এসময় অজ্ঞাত কারণে তাকে গ্রেপ্তার না করে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে আবার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অস্বীকার করে। এরপর থেকেই বিএম বাকির অজ্ঞাত অবস্থানে রয়েছেন। গতকাল বাকিরের স্ত্রী ডলিও তার স্বামীর অবস্থান সম্পর্কে যৌথবাহিনীর সদস্যদের কাছে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-02-25

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: