১৬৯ মণ বিষাক্ত মাছ আটক ১১ ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

দেশব্যাপী ভেজাল বিরোধী মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহতভাবে চলছে। পাশাপাশি জেল-জরিমানাও করা হচ্ছে। তারপরও একশ্রেণীর মাছ ব্যবসায়ী ফরমালিন দিয়ে বিষাক্ত মাছ বাজারজাত করছে অবাধে। গতকাল শনিবার ভোরে মোবাইল কোর্ট রাজধানীর সোয়ারীঘাট এলাকায় বিষাক্ত ফরমালিনযুক্ত ১৬৪ মণ অর্থাৎ ছয় টন রু্ই-কাতলা, ৫ মণ চেউয়া, ১০ কেজি চিংড়ি মাছ সীজ করে এবং মোট ১১ জন মাছ ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড দিয়ে জেলখানায় পাঠিয়ে দেয়।

মাছ বাঙালী জাতির অতি প্রিয়। কথায় বলে মাছে-ভাতে বাঙালী। রাজধানীর বাজারে প্রায় ৯৮ ভাগ মাছ ফরমালিনযুক্ত বলে মোবাইল কোর্ট কর্মকর্তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। গতকাল মাছের আড়তে বিষাক্ত ফরমালিনযুক্ত এত বিপুল পরিমাণ মাছের সন্ধান পাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা হতাশ হয়েছেন। ঘরে ঘরে জটিল রোগব্যাধি বৃদ্ধির জন্য এই ফরমালিনযুক্ত মাছই দায়ী। এছাড়া দেশে কিডনী, লিভার ও ক্যান্সারসহ মরণব্যাধি আশংকাজনকহারে বৃদ্ধির জন্য এই ধরনের ফরমালিনযুক্ত মাছ দায়ী বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মতামত পোষণ করেন। মাছ খায় না এমন লোক এই সমাজে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সকল ধর্মের লোকের প্রিয় খাবার মাছ।

ভেজাল বিরোধী মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট রোকন-উদ-দৌলাহ গতকাল ভোরে সোয়ারীঘাটে মাছের আড়তে অভিযান চালান। ঐ সময় অভিযানে পরিবেশ অধিদফতরের রাসায়নিক বিশেষজ্ঞ মোসত্মাফিজুর রহমান ও আবুল কালাম আজাদ এবং ফিসারিজ অফিসার নাজিম উদ্দিন অংশগ্রহণ করেন।

সেনাবাহিনীর সদস্যরা সোয়ারীঘাট ও কাপ্তানবাজার এলাকায় অবস্থান নেন। এই অবস্থায় সোয়ারীঘাটে ৫টি আড়তের মাছ পরীড়্গা করে ফরমালিন থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। সোয়ারীঘাটের ৫টি আড়ত থেকে ফরমালিনযুক্ত ১৬৪ মণ রম্নই, কাতল, ৫ মণ চেউয়া ও ১০ কেজি বড় চিংড়ি মাছ সীজ করা হয় এবং ফরমালিনযুক্ত রম্নই ও কাতল মাছের মধ্যে বার্মার মাছ বেশী। এছাড়া দেশী রম্নই ও কাতলা মাছেও ফরমালিনের প্রমাণ পান বিশেষজ্ঞরা। মোবাইল কোর্ট পাঁচ মাছ ব্যবসায়ীর মধ্যে অংকিউ সেন, মোখলেছ, শামসুল হক ও কাশেমের আড়ত থেকে ১৬৪ মণ ফরমালিনযুক্ত রম্নই ও কাতলা মাছ রাখায় প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও ১১ মাস সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে। জরিমানা প্রদান না করায় তাদের আরো একমাস কারাদণ্ড দেয়া হয়।

অপর ব্যবসায়ী সিরাজকে চেউয়া ও চিংড়ি মাছে ফরমালিন থাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ১ বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ১৬৪ মণ মাছের মূল্য ৬ লড়্গাধিক টাকা। গ্রেফতারকৃত অংকিউ সেন বার্মার নাগরিক।

ফরমালিনযুক্ত এই সকল মাছ সেখানে গর্ত করে মাটিতে পুতে ফেলা হয়। অভিযানের ঘটনা টের পেয়ে ট্রলারযোগে মাছ নিয়ে আসা ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে মোবাইল কোর্ট সোয়ারীঘাটের অপর একটি মাছের দোকান থেকে জাটকা মাছসহ ব্যবসায়ী সিরাজকে গ্রেফতার করে। তাকে নিয়ে মোবাইল কোর্ট কাপ্তানবাজারে অভিযান চালায়। সেখানে পাঁচমণ জাটকা মাছ সিজ করা হয়। এই জাটকা মাছ উপস্থিত মোবাইল কোর্ট নিলামে ১৯ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করে। পাঁচ জাটকা ব্যবসায়ী রমন চন্দ্র বর্মন, রিপন চন্দ্র বর্মন, আনোয়ার হোসেন, মোজাম্মেল হক ও মিরাজ প্রত্যেককে ১১ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। মৎস্য সংরড়্গণ আইনে এই জেল ও জরিমানা করা হয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, মেডিক্যাল কলেজে এনাটমি বিভাগে লাশ সংরড়্গণের জন্য ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। ফরমালিন দিয়ে লাশ বছরের পর বছর রাখলেও পচন ধরে না। মাছে ফরমালিন দিলে মাছ দীর্ঘদিন রেখে বিক্রি করা যায়। পচন ধরবে না এবং মাছের রং পরিবর্তন হয় না। কিন্তু এই ফরমালিনযুক্ত মাছ রান্না করার পরও ফরমালিনের বিষক্রিয়া নষ্ট হয় না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কৃষি উপদেষ্টা চৌধুরী সাজ্জাদুল করিম মাছ পরীড়্গা করার যন্ত্র ও রিএজেন্ট বিদেশ থেকে ক্রয় করার ব্যবস্থা করেন। তার এই উদ্যোগের কারণে যন্ত্র ও রিএজেন্ট দিয়ে তাৎড়্গণিক মাছের পরীড়্গা করা যায়। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-02-25

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: