আব্বাস মোশাররফ আখতার কাইয়ুম জেলে ।। বাকিরসহ ৩ জন গ্রেফতার

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে সম্পদের বিবরণ দাখিল করে বের হওয়ার পর গ্রেফতারকৃত ৫ জন রাজনৈতিক নেতাকে গতকাল সোমবার অপরাহ্নে সিএমএম-এর আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তাদের জামিনের প্রার্থনা করা হলে আদালত আবেদন না-মঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। তাদেরকে এক মাসের আটকাদেশ দেয়া হয়েছে। তারা হচ্ছেন বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক পূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সাবেক এমপি ও বিএনপি’র নেতা হাফিজ ইব্রাহীম, সাবেক বিদ্যুৎ সচিব আনহ আখতার হোসেন এবং বিএনপি’র নেতা ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার আবদুল কাইয়ূম।

এছাড়া গতকাল র‌্যাব-৩ সদস্যরা সোনালী ব্যাংকের সিবিএ’র সভাপতি বিএম বাকির হোসেন এবং তার দুই সহযোগী সোনালী ব্যাংক তেজগাঁও শাখার সিনিয়র অফিসার রম্নহুল আমিন ও মতিঝিল প্রিন্সিপ্যাল অফিসের ক্যাশিয়ার মোঃ মনিরকে পশ্চিম মালিবাগ রাজউক স্টাফ কোয়ার্টার থেকে গ্রেফতার করে।

গত বৃহস্পতিবার দুদকে সম্পদের বিবরণ দাখিল করে যৌথবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বাকির হোসেন সহযোগীদের নিয়ে পালিয়ে যান। পরে তাকে গ্রেফতারে র‌্যাবের স্পেশাল গোয়েন্দা দল তথ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টা চালায়। অবশেষে দুদকে যাওয়া বাকিরের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটির সূত্র ধরে গতকাল তাকে গ্রেফতার করতে সড়্গম হয় বলে র‌্যাব সূত্রে বলা হয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার দুদকে সম্পদের বিবরণ দিয়ে বের হয়ে মৎস্য ভবনের নিকট গেলে একটি গোয়েন্দা সংস্থা বাকিরকে গ্রেফতার করে বলে তার পরিবারের পড়্গ থেকে বলা হয়। এই নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছিল। গতকাল পর্যনত্ম দুদক কর্তৃক ঘোষিত সন্দেহ ভাজনদের তালিকায় ৫০ জনের মধ্যে এই নিয়ে ৩৪ জনকে আটক করা হলো।

হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গতকাল ডাঃ এইচবিএম ইকবালের স্ত্রী মিসেস মমতাজ দুদকে গিয়ে স্বামীর পড়্গে সম্পদের বিবরণ দাখিল করেন। এছাড়া গতকাল যুবলীগের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মকবুল হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহিউদ্দিন আহমেদ ও মোসত্মফা রশিদী সুজার পড়্গে তাদের স্ত্রীরা দুদকে সম্পদের বিবরণ দাখিল করতে যান। ঐ সময় তারা দুদকের কর্মকর্তাদেরকে জানান, তারা হাইকোর্টে আপিল করেছেন। কর্মকর্তারা তাদেরকে জানিয়ে দেন যে, এই মুহূর্তে সম্পদের বিবরণ রাখা সম্ভব নয় এবং দুদকের দেয়া ৭২ ঘণ্টা সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। এরপর উক্ত ৬ জনের স্ত্রীই দুদক থেকে চলে যান।

গত রবিবার দুদকে সম্পদের বিবরণ দাখিল করতে গিয়ে মির্জা আব্বাস, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, হাফিজ ইব্রাহীম, আনহ আখতার হোসেন ও ওয়ার্ড কমিশনার আবদুল কাইয়ুম গ্রেফতার হন। তাদেরকে গতকাল ভোরে ক্যান্টনমেন্ট থানা ও রমনা থানায় সোপর্দ করা হয়।

দুদকের চেয়ারম্যান লেঃ জেনারেল (অবঃ) হাসান মশহুদ চৌধুরী বলেন, যারা সম্পদের বিবরণ দাখিল করেছেন, তাদের বিবরণ যাচাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যারা দাখিল করেননি তাদের বিরম্নদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দুর্নীতি দমনে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। ঐ সময় দুদকের সচিব দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

যে কারণে ৫ জনের জামিন না-মঞ্জুর

আমাদের কোর্ট রিপোর্টা’র জানান, যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেফতার মির্জা আব্বাস, ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, বিএনপির এমপি হাফিজ ইব্রাহীম, সাবেক বিদ্যুৎ সচিব আনহ আখতার হোসেন এবং ওয়ার্ড কমিশনার ও গুলশান থানা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ুমকে জামিনের আবেদন না-মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মির্জা আব্বাসকে মতিঝিল থানার মামলা নম্বর ৭০(২)০৭ ধারা ১৯৭৪ সালের বিশেষ ড়্গমতা আইনের ২৫(খ) (১)-এর (ক), (খ) ও ৩৪সহ বিশেষ মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের ২৬ ধারা তৎসহ শুল্ক আইনের ১৬৫ (১)-এর ৮ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেনকে ও হাফিজ ইব্রাহীমকে ২০০৭ সালের জরম্নরী ড়্গমতা অধ্যাদেশের ১৬(২) ধারায় রমনা থানায় দায়েরকৃত জিডি নম্বর ১৭৯১ মূলে এবং এর সাথে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ড়্গমতা আইনে ৩০ দিনের আটকাদেশের প্রসত্মাবসহকারে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

আনহ আখতার হোসেনকে উত্তরা থানার জিডি নম্বর ১৬৬১ মূলে বিশেষ ড়্গমতা আইনে আটকাদেশের প্রসত্মাবসহকারে এবং কমিশনার আব্দুল কাইয়ুমকে বাড্ডা থানার জিডি নং ১৮০০ মূলে জরম্নরী ড়্গমতা অধ্যাদেশ ২০০৭-এর ২১ ধারায় আটক দেখিয়ে বিশেষ ড়্গমতা আইনে আটকাদেশের প্রসত্মাবসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

মির্জা আব্বাসের বিরম্নদ্ধে আদালতে পাঠানো পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মির্জা আব্বাসের বাসা থেকে যৌথবাহিনী স্বর্ণ ক্রয়ের রশিদ, পুরাতন মোবাইল সেট, ওয়াকিটকি, ব্যাংকের চেকবই, ক্রেডিট কার্ড এবং বিদেশী মুদ্রা ইউএস ডলার ১০০ ডলার মূল্যমানের ৪৬টি, ১০০০ মূল্যমানের থাইল্যান্ডের বাথ ১৭টি, ৫০ ডলার মূল্যমানের সিংগাপুর ডলার ৮টি, মালয়েশিয়ান রিংগিট ৪৩২টি এবং দেশী ৪ লাখ ৯০ হাজার ২ শত ৭৪ টাকা উদ্ধার করে।

সাবেক বিমানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেনের বিরম্নদ্ধে আদালতে পাঠানো পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে এবং সন্ত্রাসীদের মদদদানে লিপ্ত রয়েছে। তিনি অবৈধ উপায়ে প্রচুর অর্থের মালিক হয়েছেন। তিনি অপরাধের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তার ভয়ে কেউ কোন মামলা করতে সাহস পায় না।

ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেনের পড়্গে জামিনের আবেদনে এডভোকেট আবু সাঈদ সাগর, সাহারা খাতুন ও নুরম্নজ্জামান ননী।

হাফিজ ইব্রাহিমের বিরম্নদ্ধে বলা হয়েছে, তিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত এবং আইন-শৃংখলা বিঘ্ন সৃষ্টিতে মদদদাতা। আর কমিশনার আবদুল কাইয়ুমের বিরম্নদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, তিনি অন্যের জমি দখলকারী এবং আইন-শৃংখলা বিঘ্নসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে।

সাবেক বিদ্যুৎ সচিব আনহ আখতার হোসেনের বিরম্নদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, তিনি সচিব থাকাকালে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রচুর বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছেন। তিনি বিদেশী কু-চক্রের সাথে জড়িত, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকিস্বরূপ।

সকলের পড়্গেই জামিনের আবেদন করা হয় এবং আনীত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। একই আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করলে পৃথক আবেদনের প্রেড়্গিতে জেলকোডের বিধান মোতাবেক ডিভিশন দেয়ার এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য কারা কর্তৃপড়্গকে নির্দেশ প্রদান করা হয়। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-02-27

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: