উস্কানিমূলক বক্তব্য দিলে সরকার হার্ডলাইনে যাবে

তত্ত্বাবধায়ক সরকার এতোদিন রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যাপারে সহনশীল ছিল। কিন্ত একটা পর্যায়ে আর তা থাকবে না। জরুরি অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করে কেউ রাজনৈতিক বক্তব্য দিলে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালালে সরকার হার্ডলাইনে যেতে বাধ্য হবে। রাজনীতিবিদরা এরপর কোনো উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখলে সরকার সহজভাবে নেবে না। আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন গতকাল এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যাতে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে সে ব্যাপারে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধানত্ম নিয়েছে।
গতকাল রোববার আইনশৃঙ্খলা সংক্রানত্ম উপদেষ্টা কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে আইন ও তথ্য উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নোত্তরে সরকারের এ মনোভাব তুলে ধরেন। বৈঠকে যোগাযোগ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল এম এ মতিন, শিক্ষা উপদেষ্টা আইয়ুব কাদেরী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, স্বরাষ্ট্র সচিব আব্দুল করিম, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও, আইজিপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জর”রি আইনের মধ্যে ড. ইউনূসের রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন দেখা দেওয়া প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, বিদ্যমান জর”রি অবস্থায় রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়নি, কিনত্ম কর্মকাণ্ড সীমিত করা হয়েছে। কিন’ কোনো একটি দল একুশের আলোচনার অনুমতি নিয়ে উস্কানিমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। কোনো কোনো দল জর”রি আইনের নিয়ম ভঙ্গ করছে। উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকার এতোদিন দলীয় রাজনীতির ব্যাপারে সহনশীল ছিল। কিন’ ভবিষ্যতে এই সহনশীলতা আর দেখানো হবে না।
তারেক রহমানসহ হাওয়া ভবনের কয়েক জন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজকে গ্রেপ্তার না করায় এ নিয়ে সর্বত্র চলা আলোচনা প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, বড়ো দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদেরকেও ধরা হবে। তবে তাদের কবে কীভাবে ধরা হবে তা নিশ্চিত নয়। বড়ো দুর্নীতিবাজদের ধরার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের তালিকাভুক্তদের মধ্যে যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন অথবা আত্মসমর্পণ করেছেন আগামী মাস (মার্চ) থেকেই তাদের বিচারকার্য শুর” হবে।
আইন উপদেষ্টা জানান, সরকার ২৬ মার্চ স্বাধীনতা উপলক্ষে আড়াই থেকে তিন হাজার কয়েদি ও হাজতিকে ছেড়ে দেবে। ছোট ছোট অপরাধের জন্য জেলহাজতে যারা আটক আছে, শিগগিরই তারা ছাড়া পাবে। যেমন চুরি, ছিনতাই ও ফেনসিডিল সেবন ইত্যাদি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনগত দুর্বলতা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনগত কোনো দুর্বলতা নেই। তাদের লজিস্টিক সমস্যা আছে, তা দেওয়া হচ্ছে।
বড়ো বড়ো দুর্নীতির মামলা এখনো কারো বির”দ্ধে না হওয়া প্রসঙ্গে আইন ও তথ্য উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, এফআইআর এখনো করা হয়নি। এফআইআর করা হলে তখনই চার্জগুলো বোঝা যাবে। এগুলো এখনই ডিসক্লোজ করা হচ্ছে না।
দুর্নীতিবাজ আমলাদের বির”দ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে যোগাযোগ উপদেষ্টা এম এ মতিন বলেন, এ ব্যাপারে একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে ৭৮ হাজার ৪১৯ জন কয়েদি ও হাজতি রয়েছে। কিন’ এসব কারাগারে মাত্র ২৭ হাজার ১৯৪ জন কয়েদি ও হাজতি ধারণ করার ক্ষমতা আছে। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-02-26

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: