এ অগ্নিকাণ্ড কি নিছক দুর্ঘটনা!

বেলা এগারোটার দিকে এনটিভিতে খবর আসে ওই ভবনেরই দোতলায় আগুন লেগেছে। সেখানে একজন ক্যামেরাম্যান পাঠানোর জন্য তৈরী হচ্ছিলেন এনটিভির নিউজ রুম এডিটর ফাহমিদা মাহবুব অনি। সংবাদ সংগ্রহের জন্য সংবাদকর্মী পাঠাতে গিয়ে কিছুড়্গণের মধ্যেই উল্টো নিজেরাই সংবাদ হয়ে গেলেন তারা।

উদ্ধার হওয়ার পর অনি তার প্রথম প্রতিক্রিয়া জানান, ধোঁয়ার গন্ধ পেয়ে আগুনের আশংকায় নিচে নামতে গিয়ে ছয়তলার পর আর এগুতে পারিনি। নিচ থেকে মানুষ পিঁপড়ার মতো হুড়োহুড়ি করে উপরে উঠতে শুরম্ন করায় সবাই তখন উল্টো ছাদের দিকে দৌড় দিই।

যারা গতকাল কারওয়ান বাজারের বিএসইসি ভবনে আটকা পড়ে বেঁচেছেন তাদের প্রায় সবার প্রতিক্রিয়াই একইরকম। কিন্তু যারা বাইরে ছিলেন তারা দূরে রাসত্মায় দাঁড়িয়ে দেখেছেন নিজেদের সব অর্জন আর সংগ্রহ পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। শুধু এনটিভিই নয়, একই ভবনে থাকা অন্য একটি টেলিভিশন চ্যানেল ‘আর টিভি’ এবং সংবাদপত্র আমার দেশ-এর সাংবাদিকদের ড়্গেত্রেও ঘটেছে একই ঘটনা।

আরটিভির বার্তা সম্পাদক এসএম আকাশ বলেন, আপাতত এটা বলা যায় যে, ড়্গতি হয়েছে ব্যাপক। কিন্তু পরিমাণটা এখনই ঠিকমতো বলা যাবে না। মেশিনারিজ কিছুই আর বাকি নেই বলেও আশংকা করছেন তারা।

এনটিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েতুর রহমান স্বীকার করেছেন, সহসাই আর তারা চালু করতে পারছেন না তাদের চ্যানেলটি। তাদের মাস্টার কন্ট্রোলরম্নমটির কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। এর বাইরে আগুনে কম্পিউটার, টেলিভিশনের যতোটা পুড়েছে; প্রচণ্ড তাপে ড়্গতি হয়েছে তার চেয়েও বেশী। টেলিভিশন সেটগুলো সব প্রচণ্ড তাপে গলে গেছে। কম্পিউটারের মনিটরগুলো গেছে অ্যাবরো থ্যাবরো হয়ে। কেজি দরে বিক্রি করা ছাড়া এদিয়ে আর কিছুই হবে না। নিশ্চিত করেছেন এনায়েতুর রহমান।

এনটিভি’র নির্বাহী সম্পাদক হাসনাইন খুরশিদ সূচি জানান, অন্য টেলিভিশনটির চেয়ে তাদের দৃশ্যমান ড়্গতি তুলনামূলকভাবে একটু কম। তবে সার্ভার রম্নমের যন্ত্রপাতিগুলোর অধিকাংশই অকেজো হয়ে পড়েছে। তাতে আগামী কিছুদিন অনত্মত তাদের সম্প্রচারে যাওয়ার কোন সুযোগই নেই। অন্যদিকে এনটিভি’র একাধিক সিনিয়র সাংবাদিক জানান, তাদের দৃষ্টিতে এটা কেবলই দুর্ঘটনা। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার সুযোগে অনেকেই অনেক কথা বলছেন। সেটাকেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।

আগুনের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ছাদে চলে গিয়েছিলেন এনটিভি’র রিপোর্টার উজায়ের ইবনে ওমর। হেলিকপ্টার এসে মাত্র কয়েকজনকে উদ্ধার করলেও শেষতক তিনি সিঁড়ি দিয়েই নেমেছেন। বলেন, দমকল বাহিনী যেভাবে কাজ করছিল তাতে মনে হচ্ছিল আমাদের এত মানুষের জীবন নিয়ে তাদের কোন চিনত্মাই নেই। এনটিভি’র স্পোর্টস রিপোর্টার আবু সাদাত জানান, তখন তিনি অফিসে ছিলেন না। কিন্তু খবরটা পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই টুইন টাওয়ারের কথা মনে হয়েছে।

এই ভবনের দৈনিক প্রত্রিকা আমার দেশ-এর অফিস ভবনটি এগারো তলায়। সম্পাদক আমানুলস্নাহ কবীর জানান, তারা এখনো ঠিক জানেন না তাদের অফিসের কতোটা ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রেস দূরে থাকায় তার কোন ক্ষতি হয়নি। সেজন্যই দৈনিক দিনকাল-এর অফিস ব্যবহার করে আজ ৪ পৃষ্ঠার পত্রিকা বের করা হয়েছে। দিনকালের প্রকাশক তারেক রহমান ‘আমার দেশ’কে আশ্বস্ত করেছেন এই বলে যে, যতোদিন লাগুক আমার দেশ ইচ্ছে করলে দিনকালের অফিস ব্যবহার করতে পারবেন। গতকাল ইত্তেফাককে ‘এনটিভি, ‘আরটিভি’ এবং আমার দেশ’-এর একাধিক সাংবাদিক বলেছেন, এই অগ্নিকাণ্ডকে নিছক দুর্ঘটনা বলে সত্যকে হয়তো আড়াল করা হচ্ছে। এটা হতে পারে নাশকতা। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-02-27

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: