কামাল মজুমদারের আটক আদেশ অবৈধ ঘোষণা রায় যেতে পারে অন্য নেতাদেরও পক্ষে

আদালতের রায়ে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন দেশে জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার পর যৌথ বাহিনীর হাতে আটক বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা৷ বিভিন্ন সময়ে আটক হওয়া এ নেতাদের আটকাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আবেদনের পক্ষে রায় দিতে শুরু করেছে সুপৃম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগ৷ গতকাল সোমবার চারজনের আটকাদেশ অবৈধ ঘোষণা করেছে হাই কোর্ট৷ আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতের এ রায়ের পর আটক চার নেতার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে ছেড়ে দিতে হবে৷ আবার বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের প্রসঙ্গে তারা বলেন, যেহেতু এ চারজনের আটকাদেশ অবৈধ বলা হয়েছে তাই একে একে সব ক’টি আটকাদেশকেও অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করতে পারে আদালত৷ কারণ একই বিষয়ে একই কারণ দেখিয়ে তাদের সবাইকে আটকাদেশ দেয়া হয়েছে৷
গতকাল যাদের পক্ষে রায় দেয়া হলো তারা হলেন সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা কামাল মজুমদার, এনজিও কর্মকর্তা আবুল কাসেম পলাশ ও আমিনুল ইসলাম এবং কাফরুলের ওয়ার্ড কমিশনার আবদুল কাউয়ুম৷ আজ মঙ্গলবার উচ্চ পর্যায়ের কিছু নেতার আটকাদেশের বিষয়ে রায় দেয়া হবে৷
বিচারপতি মোঃ আবদুল ওয়াহাব মিঞা এবং বিচারপতি মোঃ এমদাদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন৷ আদালত একই সঙ্গে অন্য কোনো মামলায় এ চারজন আটক না থাকলে অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে৷
জরুরি অবস্থাকালে কাউকে আটকাদেশ দিলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারা অনুসারে আদালত আটকাদেশের বৈধতা শুনতে পারবে কি না এ প্রশ্নে চারদিনের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেয়৷ আদালত আদেশে বলে, কোনো ব্যক্তিকে যে অবস্থায়ই আটকাদেশ দেয়া হোক না কেন আটকাদেশ সঠিক ও যথার্থ হয়েছে কি না তা দেখার এখতিয়ার হাই কোর্টের আছে৷ চারজনের বিরুদ্ধে দেয়া আটকাদেশ সংক্রান্ত গোপন ফাইল আদালত পরীক্ষা করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট নয় এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২(ক) ধারায় আনীত অভিযোগগুলো যথার্থ নয়৷
মামলার রায় প্রসঙ্গে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার রফিকুল হক বলেন, আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য আদালত গ্রহণ করেনি৷ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, জরুরি অবস্থাকালে কোনো ব্যক্তির আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা যায় না এবং আদালতেরও তা শুনানির এখতিয়ার নেই৷ তিনি বলেন, আমরা চারদিন আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আদালতকে বলেছি, বর্তমান অবস্থায় মৌলিক অধিকার স্থগিত থাকলেও অন্য আইন স্থগিত করা হয়নি৷ বর্তমানে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা সর্বাত্মক নয় বরং আংশিক৷ আদালতের আদেশের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, জিডি এন্টৃর মাধ্যমে কাউকে ডিটেনশন দিলে সেটাও অবৈধ৷ হাই কোর্টের এ রায়কে তিনি ইদানীংকালের সেরা রায় বলে মনে করেন৷
আদালতের রায় প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এ রায় মাইলফলক হয়ে থাকবে৷ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১(৩) ধারার অধীনে আটকাদেশের বৈধতা পরীক্ষা করার আদালতের ক্ষমতা অটুট থাকলো এবং আরো শক্তিশালী হলো৷
প্রসঙ্গত, ১১ জানুয়ারি রাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরপরই আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক এমপি কামাল মজুমদারকে যৌথ বাহিনী গ্রেফতার করে আটকাদেশ দেয়৷ পরে প্রশিকার কর্মকর্তা আবুল কাশেম পলাশ, এডাব কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এবং কাফরুলের ওয়ার্ড কমিশনার আবদুল কাউয়ুম খানকে যৌথ বাহিনী গ্রেফতার করে আটকাদেশ দেয়৷ ওই আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কামাল মজুমদারের পক্ষে স্ত্রী শাহিদা কামাল, আবুল কাশেমের পক্ষে স্ত্রী নাহিদা ইয়াসমিন, আমিনুল ইসলামের পক্ষে স্ত্রী শাহানা ইসলাম এবং কাউয়ুমের পক্ষে স্ত্রী আমিনা খাতুন হাই কোর্টে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারা অনুসারে মামলা দায়ের করেন৷ আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে আটকাদেশের বৈধতা প্রশ্নে রুল জারি করে৷ পরবর্তীকালে চলমান গ্রেফতার অভিযানের অংশ হিসেবে সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মোঃ নাসিম, তরিকুল ইসলাম, গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, সালমান এফ রহমান, মোসাদ্দেক আলী ফালু, মহীউদ্দীন খান আলমগীর, মীর নাছির, লোটাস কামাল, ওয়াদুদ ভূইয়া, নাসের রহমান ও পঙ্কজ দেবনাথসহ বিএনপি-আওয়ামী লীগের প্রায় ৩৫ জনকে আটকাদেশ দেয়া হলে তারা সবাই ওই আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন৷ আদালত ওই সব মামলায় রুল জারি করে৷ পরে আবেদনকারী সব পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শ্রবণ করে আদালত৷ জরুরি অবস্থাকালে দেয়া আটকাদেশের বৈধতার প্রশ্নে আদালত শুনানির এখতিয়ার রাখেন কি না এ বিষয়ের ওপর চারদিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়৷
আটকাদেশপ্রাপ্তদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার রফিকুল হক, ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহাবুব উদ্দিন আহমাদ, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার, ব্যারিস্টার সারা হোসেন প্রমুখ৷ অন্যদিকে সরকার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ফিদা এম কামাল৷
সূত্রঃ যাযাদি, 27-02-07

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: