কার কত টাকার সম্পদ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বেঁধে দেয়া ৭২ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে তালিকাভুক্ত ৫০ জনের ৩৪ জন তাদের সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। এর মধ্যে রোববার ২৯ জন সম্পত্তির হিসাব দাখিল করেছেন। এদের মধ্যে সাবেক পূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাসের নিজের নামে সহায় সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার। তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের নামে রয়েছে ১৯ কোটি ২ লাখ টাকার ও মায়ের নামে রয়েছে সাড়ে ৪ কোটি টাকার সম্পদ।

সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম জেল থেকে প্রেরিত হিসাব বিবরণীতে উল্লেখ করেছেন তার স্থাবর সম্পদ ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ও অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকার। এছাড়া তার স্ত্রী নার্গিসের নামে রয়েছে ২৮ লাখ টাকার। ছেলে শান’নুর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, অপর ছেলে আনন্দের নামে রয়েছে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ও ছেলে শান’নুর স্ত্রী লামেয়ার নামে রয়েছে ৫৫ লাখ টাকার সম্পদ। হাওয়া ভবনের বহুল আলোচিত নেতা ও সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ৩ কোটি ৭৯ লাখ ১৮ হাজার টাকার সম্পদ আছে।
ঢাকায় বনানী ও শ্যামলীতে রয়েছে তার দুটি বাড়ি ও নাটোরে তিনি ১টি বাড়ির মূল্য দেখিয়েছেন ৮৯ লাখ টাকা। তবে বনানীর ১ নম্বর রোডের ৫ কাঠার প্লটটি খালি ও শ্যামলীর মানসুরাবাদ এলাকার ৯ নম্বর রোডের ৬ নম্বর হোল্ডিংয়ের ৫ তলা বাড়িটি অসম্পূর্ণ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। দুলু প্রাইভেট কোম্পানির শেয়ার দেখিয়েছেন ৯০ হাজার টাকা, সোনারগাঁও স্পিনিং মিলের শেয়ার দেখিয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, ফোর স্টাডিজ নামে একটি কোম্পানিতে ৩০ হাজার টাকার শেয়ার রয়েছে তার। এছাড়া ব্যাংক হিসাব ও এফডিআর রয়েছে ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার। ১টি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি যার মূল্য ৪৮ লাখ টাকা ও ১টি মিতসুবিশি ১৩৩১ সিসির গাড়ি যার মূল্য ১৩ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংক রমনা শাখায় তার নামে দেখিয়েছেন ৫৫ হাজার টাকা, সোনালী ব্যাংক সংসদ ভবন শাখায় দেখিয়েছেন ৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, নিজের সমবায় ব্যাংকে দেখিয়েছেন ৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন তার সম্পদ দেখিয়েছেন ৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। তিনি জেল থেকে প্রেরিত বিবরণীতে উল্লেখ করেছেন তার ৬টি বাড়ি। এর মধ্যে রাজউকের ১টি, গুলশানে ১টি, দেশের বাড়িতে ২টি, চট্টগ্রাম শহরে ১টি ও প্যালেস হাইড অ্যাপার্টমেন্টে ১টি বাড়ি রয়েছে। এফডিআর দেখিয়েছেন সাড়ে ৭ কোটি টাকা। এছাড়া ব্যাংক একাউন্ট দেখিয়েছেন ৮৭ লাখ টাকা। তিনি পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, ছেলে ব্যারিস্টার হেলালের নামে রয়েছে ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা। ছেলে হেলালের স্ত্রীর নামে এফডিআর ও সেভিংসসহ দেখিয়েছেন ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। মীর নাছিরের মৃত স্ত্রীর নামে দেখিয়েছেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে। তার মৃত এক মেয়ের নামে দেখিয়েছেন ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ছেলের বউ নওশীন আরজান হেলালের টাকার উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন তার বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং শাশুড়ির কাছ থেকে পেয়েছেন ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। তার স্বর্ণালংকার রয়েছে ৫০ তোলা ও গৃহসামগ্রী রয়েছে ৮ লাখ টাকা।

সাবেক সংসদ সদস্য মোসাদ্দেক আলী ফালুর পক্ষে অ্যাডভোকেট এমএ লতিফ খান স্বাক্ষরিত হিসাব বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি দেখিয়েছেন ৩৫ কোটি ৪৩ লাখ ৫৪৫ টাকার সহায়-সম্পদ। এর মধ্যে গুলশানে নিলামে খরিদকৃত জমির পরিমাণ দেখিয়েছেন ৫০ লাখ টাকা। হিসাব বিবরণীতে তার নিট সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৩৪ কোটি ৯৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৫ টাকা।

সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী আমানউল্লাহ আমান হিসাব বিবরণীতে কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। আমানউল্লাহ আমানের নামে বহু প্লট ও ফ্ল্যাট থাকার কথা জানা গেলেও তিনি তা স্বীকার করেননি। বলেননি তার নগদ অর্থ কোথায় কিভাবে জমা আছে। হিসাব বিবরণীতে তিনি বলেছেন ঢাকা, কেরানীগঞ্জ ও সাভারে তার মোট জমির পরিমাণ ৫০২ শতাংশ, তার স্ত্রী সাবেরা আমানের নামে রয়েছে ৫২১ শতাংশ জমি। এছাড়া বনানীতে তিনতলা বাড়ি, কেরানীগঞ্জের হযরতপুরে ৬ তলা বাড়ি, সাভারের বৈলাপুরে ১৬১ শতাংশ জমি রয়েছে তার। এছাড়া উত্তরা ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকে আমানের নিজ নামে জমা দেখিয়েছেন মাত্র সাড়ে ৫ লাখ টাকা। আর স্ত্রী সাবেরার নামে ওই ব্যাংকগুলোতে রয়েছে ৬ লাখ টাকা ও ৩০ ভরির স্বর্ণালংকার।

সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার সম্পত্তির হিসাবের বিবরণীতে তার নামে কোন নগদ টাকার হিসাব দেয়া হয়নি। বিবরণীতে বলা হয়েছে, ধানমণ্ডিতে ৪ হাজার বর্গফুটের বাড়ি, গুলশানে ৫ কাঠার প্লট, বকশীবাজারে ৬ কাঠা জমি, তোপখানা রোডে ১৬ তলা মেহরাব প্লাজা, দোহারে শাইনপুকুরে ২ তলা বাড়ি রয়েছে। এছাড়া দোহারে নিজের ও স্ত্রীর নামে অনেক জমি রয়েছে।

বিএনপির সাবেক এমপি আলী আসগার লবী তার সম্পদের হিসাব বিবরণীতে বলেছেন, তার ব্যাংক একাউন্টে জমার পরিমাণ ২৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এফডিআরে রয়েছে ২২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তার দুটি বিএমডব্লিউ গাড়ির মূল্য ৭০ লাখ টাকা। বনানী-গুলশানে দুটি বাড়ির মূল্য দেখিয়েছেন ৩ কোটি টাকা। খুলনায় ১৭ লাখ টাকার ফ্ল্যাট, ধানমণ্ডি ও বারিধারায় নিজ নামে ফ্ল্যাট ও বাড়ি এবং মতিঝিলে অনেক জমি রয়েছে। তার দুই ছেলের নামে দেখিয়েছেন ২০ লাখ টাকা। স্ত্রী খোসনুর আসগারের ব্যাংক একাউন্টে জমা দেখিয়েছেন ৯৫ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে দুটি বাড়ির মূল্য দেখিয়েছেন ৩ কোটি ৬৮ লাখ ১১ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে শেয়ার রয়েছে ১৩ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার রয়েছে ১০ লাখ টাকার।

সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিবরণীতে উল্লেখ করেছেন তার নিজ নামে সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৯ টাকা। তার শেয়ার রয়েছে ৪০ লাখ টাকার, দেনা দেখিয়েছেন ৩৬ লাখ ৬১ হাজার ১৭ টাকা। তার স্ত্রী রুমানা মাহমুদের নামে রয়েছে ৬৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬৮০ টাকা, ছেলে আবেদ হাসান মাহমুদের সম্পত্তি রয়েছে ৬৫ লাখ ৩৪ হাজার ৩০১ টাকা ও মেয়ে সারা হাসান মাহমুদের মোট সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪৭ টাকা।

সাবেক বিদ্যুৎ সচিব আনহ আখতার হোসেনের সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করেছেন তার ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং সঞ্চয়পত্র রয়েছে ৮ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।

গিয়াসউদ্দিন আল মামুন তার আইনজীবী দিয়ে দুদকে সম্পদের হিসাব পাঠিয়েছিলেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন তার ২৯ কোটি ১৪ লাখ ৬৭ হাজার ৯৩৩ টাকার সহায় সম্পদ রয়েছে। আর স্ত্রী শাহিনা ইয়াসমিনের নামে রয়েছে ৬ কোটি ২৭ লাখ ৯১ হাজার ৯০২ টাকা। তিনি তার সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান- অন্যান্য তথ্যাবলী উল্লেখ করেননি। হিসাব বিবরণীতে তুরাগ ফিশারিজ নামে একটি কোম্পানিতে মূলধন দেখিয়েছেন ৩৮ হাজার ১৮৩ টাকা। গাজীপুরের খোয়াবনামা, খাম্বা লিমিটেডসহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের মালিকানা তিনি সেখানে তুলে ধরেননি বলে জানা গেছে। তবে মামুন বর্তমানে কোথায় সে রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় তার এ হিসাব বিবরণী দুদক গ্রহণ করেনি। তার পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী ব্যারিস্টার একেএম ফখরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মাহবুব যুগান-রকে জানিয়েছেন, মামুনের পক্ষে তারা যে হিসাব বিবরণী নিয়ে এসেছেন তা রিসিভ করে দুদক তাদের কপি দেননি। তবে গ্রেফতার তালিকায়ও তার নাম নেই।
মামুনের ভাই সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম সম্পদের হিসাব বিবরণীতে উল্লেখ করেছেন তার রয়েছে ৬ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ৪৪২ টাকার সম্পত্তি। তার স্ত্রী মাফরুজা সুলতানার নামে ৯ কোটি ৫০ লাখ ৮৪ হাজার ১৩৫ টাকার সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন।

সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু তার সম্পদের বিবরণীতে ১০ কোটি ৬১ লাখ টাকার সম্পত্তির কথা স্বীকার করেছেন।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার কাইয়ুম তার নগদ টাকাসহ সর্বমোট সম্পদের মূল্য দেখিয়েছেন ৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। কোম্পানি শেয়ার বিনিয়োগ দেখিয়েছেন ২ কোটি ১৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা, স্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছেন ১ কোটি ৩২ লাখ ৮৫ হাজার ২শ’ টাকা, অস্থাবর সম্পত্তি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা, তার স্ত্রী শামীম আরা বেগমের নামে ৪টি কোম্পানিতে শেয়ার দেখিয়েছেন ১১ লাখ ৫২ হাজার টাকা। স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা ও অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।
এদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সহায়-সম্পদের মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ও পঙ্কজ দেবনাথের সম্পত্তির মূল্য দেখিয়েছেন ৩২ লাখ টাকা। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-02-26

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: