বিএসএফ ও ইনডিয়ান দুষ্কৃতকারীদের হাতে ৭ বছরে ৬০৭ বাংলাদেশি নিহত

গত সাত বছরে বিএসএফ এবং ইনডিয়ান দুষ্কৃতকারীদের হাতে নিহত হয়েছেন ৬০৭ বাংলাদেশি৷ তাদের মধ্যে শুধু বিএসএফ হত্যা করেছে ৫১৮ জনকে৷ বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট এবং নিজস্ব তথ্যানুসন্ধানের ভিত্তিতে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর এক রিপোর্টে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে৷
রিপোর্টে বলা হয়, বিশেষ করে বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকায় ইনডিয়ান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আচরণ আগ্রাসনমূলক৷ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিএসএফের অব্যাহত অনুপ্রবেশ, এ দেশের নাগরিকদের গুলি করে হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ, গ্রেফতার, ধর্ষণ এবং লুটতরাজের ফলে সীমান্তে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে৷ বিএসএফের আগ্রাসনের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজন থাকেন আতঙ্কের মধ্যে৷
বিএসএফ এবং ইনডিয়ান অনুপ্রবেশকারী দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই গরিব কৃষক৷ মাঠে কৃষি কাজ করার সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের গুলি করে হত্যা করার পর লাশ টেনে হেচড়ে ইনডিয়ান সীমান্তের ভেতর নিয়ে যায়৷ তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পরও হত্যা করা হচ্ছে৷
বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের এমন ঘটনার ব্যাপারে বিএসএফ ও বিডিআরের বিওপি কম্পানি কমান্ডার থেকে শুরু করে মহাপরিচালক পর্যায়ে বহু বৈঠক ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ তবে এতেও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না৷ বরং সম্মেলন চলাকালেও বিএসএফের আগ্রাসন এবং সীমান্ত এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে৷
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-ইনডিয়া সীমান্তে ১ জানুয়ারি ২০০০ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০০৬ পর্যন্ত গত সাত বছরে বিএসএফ এবং ইনডিয়ান ঘাতকদের হাতে ৬০৭ বাংলাদেশি নিহত, ৬৬৩ জন আহত, ৫১৪ জন আটক, ৭০৫ জন অপহৃত, ৮ শিশুসহ ৮৩ জন নিখোজ এবং ১০ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন৷ এছাড়া একই সময়ে ৬১টি ছিনতাই ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে৷
রিপোর্টে দেখা যায়, ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ-ইনডিয়া সীমান্তে বিএসএফ এবং সে দেশের ঘাতকদের হাতে ১৪৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন৷ এছাড়া একই সময়ে ১৪৪ জন আহত, ২১ জন গ্রেফতার, ১৬৫ জন অপহৃত, ৩২ জন নিখোজ, ২ জন নারী ধর্ষণের শিকার এবং ৯টি লুটের ঘটনা ঘটে৷
একইভাবে ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ-ইনডিয়া সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ এবং ইনডিয়ান দুষ্কৃতিকারীদের হাতে নিহত হয় ৩৯ বাংলাদেশি৷ এ সময় ৩৮ জন আহত, ১১ জন গ্রেফতার, ১০৬ জন অপহৃত এবং ২ জন নারী ধর্ষিত হয়েছে৷ এছাড়া ১৩টি লুটের ঘটনা ঘটেছে৷
এমন অমানবিক পরিস্থিততে ‘অধিকার’ অবিলম্বে ইনডিয়ান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অব্যাহত অনুপ্রবেশ, বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যা, অপহরণ, লুটতরাজ এবং পুশইনের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে৷ একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ইনডিয়া সীমান্ত পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘অধিকার’ ইনডিয়ান সরকারের কাছে অবিলম্বে বিএসএফের হত্যাযজ্ঞ, আগ্রাসন এবং পুশইন বন্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে৷
সূত্রঃ যাযাদি, 27-02-07

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: