রহস্যঘেরা ভবনে স্রেফ দুর্ঘটনা?

নগরীর কাওরানবাজারে বিএসইসি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং আগুনের উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। দেখা দিয়েছে রহস্য। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি স্রেফ দুর্ঘটনা না নাশকতা নাকি কোনো কিছু আড়াল করতে পরিকল্পিত ঘটনা তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও কৌতূহলের কমতি নেই। জানা গেছে, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) ভবনে বহুল আলোচিত হাওয়া ভবন ঘনিষ্ঠদের বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান, কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো ও ভাই মেজর (অব.) সাইদ ইস্কান্দারের মালিকানাধীন ড্যান্ডি ডাইং, সাঈদ ইস্কান্দারের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ইসলামিক টেলিভিশন, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব সাবেক সাংসদ মোসাদ্দেক আলী ফালুর মালিকানাধীন টিভি চ্যানেল এনটিভি ও আরটিভি, সংবাদপত্র দৈনিক আমার দেশ-এর অফিস অবস্থিত। এর মধ্যে ৭ তলায় আরটিভি, ৮ তলায় এনটিভি, ১১ তলায় এনটিভি ও আমার দেশ পত্রিকা, ৯ তলায় ড্যান্ডি ড্রাইং ও ইসলামিক টিভির অফিস। এছাড়া রয়েছে জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদের অফিস, ইটালিয়ান ভিসা এজেন্ট কনসার্ট লিমিটেড, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, ফারইস্ট ইসলামিক লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেড, রিলায়েন্স ইন্সুরেন্স লিমিটেড, বিএসইসির অফিস, যমুনা অয়েল, হিন্দুসত্মান পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেড, আবুল খায়ের লিটুর মালিকানাধীন বেঙ্গল গ্র”পের অফিস ও আরব বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের মতে, দোতলায় যমুনা অয়েলের ক্যান্টিনের গ্যাসের চুলা অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। আবার অনেকে বলেছেন, ৫ম তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে কারো কাছেই পুরো বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়।
একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি এই ভবনটি একপ্রকার ‘খালেদা জিয়া পরিবারের ভবন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। জোট সরকারের সময় বিএনপির সিনিয়র থেকে মাঝারি পর্যায়ের নেতারা এই ভবনে যাতায়াত করতেন। তারেক রহমান, কোকো, সাঈদ ইস্কান্দার ও ফালুর কয়েকশ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে এই ভবনের বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে যৌথবাহিনী সমপ্রতি এই ভবনে ফালুর অফিসে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু কাগজপত্র জব্দ করে ফালুর এপিএসকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে।
সূত্র মতে, খালেদা জিয়ার পরিবার ও পরিবার ঘনিষ্ঠদের আয়ের একটি বড়ো অংশ আসে এই ভবনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে। এসব প্রতিষ্ঠানে তারা শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। সেসব অফিসে রয়েছে গুর”ত্বপূর্ণ কাগজপত্র। ‘রহস্যঘেরা’ এসব প্রতিষ্ঠানে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো ষড়যন্ত্র বা কোনো কিছু আড়াল করার চেষ্টা রয়েছে কি না তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে, এর মাধ্যমে কোনো গুর”ত্বপূর্ণ ডকুমেন্টারি ধ্বংস করা হলো কি না তা নিয়েও। এছাড়া আরো প্রশ্ন উঠেছে, যদি দোতলা থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে থাকে তাহলে তা এতোদ্র”ত কীভাবে ১২ তলা ভবনে ছড়িয়ে পড়লো। ভবনের নিরাপত্তারক্ষী থেকে শুর” করে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া বড়ো ধরনের এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতায় গড়িমসি নানা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-02-27

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: