ক্রোকের তালিকা পাঠানো হচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে

দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে তালিকাভুক্ত ৫০ জনের মধ্যে যে ১৫ জন তাদের সম্পদের হিসাব দেননি, তাদের সম্পত্তি ক্রোকের ব্যবস্থা নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন৷ আজ বুধবার সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ ১৫ জনের তালিকা পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারকে সুপারিশ করবে কমিশন৷ ১৫ জনের মধ্যে আটজন বিদেশে রয়েছেন এবং তাদের পক্ষে হাই কোর্ট বিভাগে রিট করা হয়েছে৷ তাদের বিষয়ে আলাদাভাবে নোট পাঠানো হবে৷ আর ৩৫ জনের দাখিল করা সম্পদের হিসাব বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন৷
নতুন কর্মস্থলে যোগ দেয়ার তিনদিনের মাথায় কমিশনের চেয়ারম্যান হাসান মশহুদ চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার ব্যক্তিগত সফরে পাকিস্তান রওনা দেয়ার পর বাকি দুই কমিশনার সাবেক জেলা জজ হাবিবুর রহমান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য আবুল হাসান মনজুর মান্নান এবং সচিব দেলোয়ার হোসেন সকাল ১০টায় বৈঠক করে এসব সিদ্ধান্ত নেন৷ বিকালে এক প্রেস বৃফিংয়ে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান তারা৷
কমিশনার হাবিবুর রহমান জানান, তালিকাভুক্ত যে ১৫ জন হিসাব দেননি তাদের নাম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বুধবার পাঠানো হবে৷ এরপর সরকার ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তাদের সম্পত্তি ক্রোকের ব্যবস্থা করবে৷ জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা আইনে কমিশন ক্রোক করবে এমন কথা বলা নেই৷ তবে সরকার যদি বলে, কমিশন এ কাজ করতে পারবে তবে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে৷
প্রেস বৃফিংয়ে বলা হয়, ১৫ জনের মধ্যে ছয়জন হাই কোর্ট বিভাগে রিট করেছেন৷ তাদের বিষয়ে আলাদা করে নোট পাঠানো হবে৷ ডা. ইকবালের স্ত্রী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হাই কোর্ট বিভাগের আদেশ নিয়ে আসায় তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রীর কাছ থেকে হিসাব রাখা হয়৷ কিন্তু অন্যরা কোনো আদেশ আনতে পারেননি৷ এ বিষয়ে হাই কোর্ট বিভাগের যে রায় হবে সে অনুযায়ী কাজ করা হবে৷
অন্যদিকে তালিকাভুক্ত তিনজন অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে রয়েছেন বলে তাদের প্রতিনিধিরা জানান৷ তাদের বিষয়ে যেহেতু আইনে কোনো কিছু বলা নেই, তাই তাদের নামও ক্রোকের তালিকায় পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে জানানো হয়৷ এ বিষয়ে কমিশনার হাবিবুর রহমান মন্তব্য করেন, দেশের বাইরে থাকার কারণে আলাদা আইনি ব্যবস্থা রাখলে অনেকেই এর সুযোগ নিতে চেষ্টা করবেন৷
অন্যদিকে ৩৫ জনের দাখিল করা সম্পদের হিসাবের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে কমিশন৷ হিসাবের সঙ্গে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে৷ কমিশনার হাসান মনজুর মান্নান বলেছেন, অনুসন্ধানের সময়সীমা আইনে নির্ধারিত করে না দেয়া হলেও এ কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ রয়েছে আমাদের৷
জানা গেছে, কমিশনে দাখিল করা ৩৫ জনের সম্পদের হিসাব যৌথ বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে৷ যৌথ বাহিনী শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করবে৷ এর ভিত্তিতে এজাহার দায়ের হবে৷ এরপর আইন অনুযায়ী ৪৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট এবং ৬০ দিনের মধ্যে বিচার কাজ সম্পন্ন করা হবে৷ সম্পদের হিসাব দাখিল করেননি এ রকম ১৫ জনের মধ্যে রিট করেছেন ছয়জন৷ তারা হলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, মোস্তফা রশিদী সুজা, মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া, হাজী মকবুল হোসেন ও মহিউদ্দিন আহমেদ৷ ডা. এইচ বি এম ইকবালের মতো তারাও প্রতিনিধির মাধ্যমে হাই কোর্টে রিট করেছেন বলে জানা গেছে৷ রিটগুলোর রায় না হওয়ায় তাদের হিসাব কমিশন গ্রহণ করেনি৷ রিটের পরবর্তী শুনানি ৫ মার্চের পর নির্ধারণ করা হয়েছে৷
অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে রয়েছেন এ কারণ দেখিয়ে তিনজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে হিসাব দাখিল করতে চেয়েছিলেন৷ তারা হলেন হাজী মকবুল হোসেন, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও আহমদ আকবর সোবহান৷
একটি সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত কাজে পাকিস্তানের লাহোর, করাচি ও ইসলামাবাদে আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত অবস্থান করবেন৷ শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি শেষে তিনি ১১ মার্চ জয়েন করবেন৷ এ সময়টুকু ৫০ প্রভাবশালীর বিষয়ে কমিশনের নেয়া উদ্যোগে কিছুটা ভাটা পড়তে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন৷ Source:দৈনিক যায়যায়দিন
Date:2007-02-28

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: