ফায়ার সার্ভিস বেহাল, কোনো সরকারই খবর রাখে না

বহুতল ভবনে একের পর এক ভয়াবহ অগি্নকাণ্ড ও ভবন ধসের ঘটনার পরেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের কোনো উদ্যোগ নেই। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মোকাবিলায় সংগ্রহ করা হয়নি প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি। রয়েছে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে মানা হয় না বিল্ডিং কোড। নিয়মিত পরিদর্শনের নিয়ম থাকলেও বাসত্দবে তার কোনো প্রয়োগ নেই। বাসত্দবায়িত হয় না বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত।
লোকবল ও সরঞ্জামাদির কোনোটিতেই ফায়ার সার্ভিস স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। ফায়ার সার্ভিস সরকারের একটি গুর\”ত্বপূর্ণ বিভাগ হওয়ার পরেও কোনো সরকারই এই বিভাগটির খুব একটা খোঁজখবর নেয়নি। যুগ ও যুগের সঙ্গে তাল রেখে সারা পৃথিবীতে ফায়ার সার্ভিসের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার চললেও বাংলাদেশ এক্ষেত্রে অনেক পেছনে পড়ে আছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিসে বর্তমানে বিশেষ পানিবাহী গাড়ির সংখ্যা মাত্র ৫টি। এর মধ্যে ২টি গাড়ি ১৯৮০-৯০ সালের।
৭টি স্নোরকেল-এর প্রয়োজন থাকলেও রয়েছে মাত্র ৪টি, ট্রার্ন টেবিল লিভার (টিটিএল) ৭টির স্থলে আছে মাত্র ১টি। বিভিন্ন সময়ে সরকারের কাছে ৭টি কেমিক্যাল টেন্ডার চাওয়া হলেও অদ্যাবধি একটিও সরবরাহ করা হয়নি। ইমার্জেন্সি টেন্ডার ৮টির স্থলে আছে ২টি, ফোম টেন্ডার ৭টির স্থলে আছে ৪টি। যেগুলো আছে তার বেশিরভাগই ৮২ সালে ক্রয় করা। প্রায়ই এসব প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যান্ত্রিক ত্র\”টির ফলে অকেজো হয়ে থাকে। ফলে বড়ো ধরনের কোনো অগি্নকাণ্ড ও ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটলে উদ্ধার তৎপরতা প্রচণ্ডভাবে বাধার সম্মুখীন হবে। সর্বশেষ ২০০৪-০৫ সালে ১৮শ থেকে ৩ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ৮টি গাড়ি কেনা হয়। নেই কোনো ভারী ক্রেন। এমনকি ফায়ার ফাইটারদের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাস্কও নেই। দুই বছর আগে সাভারে ৫ তলা বিশিষ্ট স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ধসে পড়ার পর ক্রেনের অভাবে উদ্ধার তৎপরতা একপর্যায়ে থেমে যায়। পরে সেনাবাহিনীর একটি ভারী ক্রেন এনে আবার উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়েছিল।
আইন প্রয়োগের অভাব
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ‘অগি্ন প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন- ২০০৩’ পাস করা হলেও এখনো সারা দেশে এর বাসত্দবায়ন হয়নি। নগরায়ন ও শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে এই আইন পুরোপুরি মানার নির্দেশ থাকলেও কেউই তা মানছে না। মালিকরা এই আইনের কোনো তোয়াক্কা করছেন না। অপরদিকে নিয়ম মেনে বহুতল ভবন ও শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হচ্ছে কিনা তা পরির্দশনের জন্য রাজউক ও ফায়ার সার্ভিসের নিয়মিত পরিদর্শনের নিয়ম থাকলেও মানা হয় না। আইন ফাঁকি দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে একের পর এক বহুতল ভবন। ফলে বাড়ছে ভয়াবহ অগি্নকাণ্ডের ঘটনা।
ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের আইন ও নীতিমালা থাকলেও কেউ এর তোয়াক্কা করছে না।
আইন অনুযায়ী ৬ তলার বেশি উচ্চতার সকল ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে ২টি করে সপ্রিংকলার স্থাপন করতে হবে। কোনো অগি্নকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে সপ্রিংকলার থেকে পানি বের হয়ে আগুন নির্বাপণ করবে। আরো রাখার বিধান রয়েছে ৪৫ গ্যালন ধারণ সম্পন্ন ১টি করে পানির ড্রাম। এছাড়া হাইটেড স্থাপনের কথা আইনে রয়েছে। কিন\’ কোনো বহুতল ভবনেই এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় না। কোথাও কোথাও এসব স্থাপন করা হলেও পরিচর্যার অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে থাকে।
সমন্বয়ের অভাব
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই বলে সংশ্লিষ্ট অনেকেই অভিযোগ করেছেন। ফায়ার সার্ভিসকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কখনোই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় না। ফলে অর্থের অভাবে কেনা সম্ভব হয়নি প্রয়োজনীয় সংখ্যক সরঞ্জামাদি। এমনকি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিম বা ইউনিট নেই। এ ব্যাপারে ২০০৩ সালে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কিন\’ কমিটি গঠনের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ থাকে। বাসত্দবে এর কার্যক্রম দেখা যায়নি।
প্রশিক্ষণের অভাব
ফায়ার সার্ভিসের লোকজনকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না। ভূমিকম্পের কথা মাথায় রেখে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলেও সেখানে ফায়ার সার্ভিসের লোকজনকে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না। ফলে যে কোনো বড়ো দুর্ঘটনায় সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হয়। মাঝে মাঝে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও তা পর্যাপ্ত না।
পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে পাবলিক সেইফটি রেগুলেটরি বোর্ড থাকলেও বাংলাদেশে তা নেই।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক সেলিম নেওয়াজ খান জানান, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামাদি সরবরাহ করে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে ফায়ার সার্ভিসকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
সূত্রঃ http://bhorerkagoj.net/online/news.php?id=48226&sys=1

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: