কামাল মজুমদারসহ ৪ জনের আটকাদেশ অবৈধ ঘোষণার রায় স্থগিত

আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারসহ  চারজনের আটকাদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়কে সোমবার পর্যন্ত স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের সভাপতিত্বে চার বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত একই সঙ্গে ঐদিন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

সোমবার আওয়ামী লীগ নেতা কামাল আহমেদ মজুমদার, বেসরকারী সংস্থা প্রশিকা ও এডাবের পরিচালকদ্বয় আবুল কাশেম এবং আমিনুল ইসলাম পলাশ, কাফরম্নলের ওয়ার্ড কমিশনার আব্দুল কাইয়ুমের আটকাদেশকে বেআইনী এবং অবৈধ ঘোষণা করে বিচারপতি মোঃ আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা ও বিচারপতি মোঃ এমদাদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এক যুগানত্মকারী রায় প্রদান করেন। এবং তাদের বিরম্নদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন মামলা না থাকলে অবিলম্বে মুক্তির জন্য সরকারকে নির্দেশ দেন।

প্রদত্ত হাইকোর্টের এই রায় স্থগিতের জন্য সরকার মঙ্গলবার আপিল বিভাগে আবেদন পেশ করেন। এরই পরিপ্রেড়্গিতে গতকাল শুনানি হয়। শুনানিতে অংশ নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল আদালতকে বলেন, জরম্নরী অবস্থা চলাকালে আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করা যায় না।

এ অবস্থায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এ সময় ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারার প্রয়োগ হতে পারে না। আটককৃতদেরকে ড়্গতিকর কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য বিশেষ ড়্গমতা আইনের ৩(১) ধারার অর্পিত ড়্গমতাবলে ৩০ দিনের আটকাদেশ প্রদান করা হয়েছে। বিশেষ ড়্গমতা আইনের অধীনে এটি সরকারের নির্বাহী কর্তৃত্ব। অ্যাটর্নি জেনারেল হাইকোর্টের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেয়ার জন্য আদালতের প্রতি আবেদন জানান।

এরপর আওয়ামী লীগ নেতা কামাল আহমেদ মজুমদারের পড়্গে এডভোকেট আব্দুল বাছেত মজুমদার আদালতকে বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য হাইকোর্টের অধিকার রয়েছে তাকে বেআইনীভাবে আটকাদেশ দেয়া হয়েছে কিনা তা দেখার। সে ড়্গেত্রে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারা প্রয়োগ করতে পারে। এরপর আদালত তার আদেশ প্রদান করেন। আদেশ প্রদানের পর বিচারপতিরা এজলাস ছেড়ে যান। এ সময় আটকাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পড়্গে উপস্থিত অন্য আইনজীবীরা স্থগিতাদেশের প্রতিবাদ জানান এবং আদালত কড়্গ ত্যাগ করেন। প্রশিকা ও এডাবের পরিচালকদ্বয়ের পড়্গে কৌঁসুলি ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং আব্দুল কাইয়ুমের পড়্গে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও ব্যারিস্টার রফিক উল হক উপস্থিত ছিলেন।

উলেস্নখ্য, ১১ জানুয়ারি রাতে জরুরী অবস্থা জারির পর কামাল আহমেদ মজুমদারকে যৌথ বাহিনী গ্রেফতার করে এবং পরবর্তীতে অপর ৩ জনকেও গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাদেরকে ৩০ দিনের আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এরপর তাদের আটকাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-03-01

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: