কোটিপতি নেতাদের ত্রাণ আত্মসাতে মাঠ পর্যায়ে বেকায়দায় বিএনপি

গত জোট সরকারের আমলে বিএনপির কোটিপতি নেতারাও দুস্থদের জন্য  দেওয়া মালামাল আত্মসাৎ করায় চরম বিপাকে পড়েছেন দলটির গ্রাম পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে তারা অহরহ বিব্রতকর অবস্থায়ও পড়ছেন। প্রভাবশালী নেতারা জবরদখল, আকণ্ঠ দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের পাশাপাশি ত্রাণের টিন, বিস্কুটসহ অন্যান্য মালামাল আত্মসাত করায় মাঠ পর্যায়ে দলটির ভাবমূর্তিও চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। নেতাকর্মীরা কোথাও এ বিষয়ে বড়ো গলায় কথাও বলতে পারছেন না। গ্রামের বাজার-ঘাট, চা স্টল ও ছোটখাটো মুদি দোকানেও সর্বত্র তাদের কেলেঙ্কারীর কথা আলোচিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও বিএনপি নেতাদের প্রকৃত নামের সঙ্গে দখলবাজ, দুর্নীতিবাজ বা টিন শব্দটি জুড়ে দিয়ে ডাকা হচ্ছে। বিএনপি নেতাদের কেলেঙ্কারীর কারণে সাচ্ছন্দ্যে নেই জামাত সমর্থকরাও। তবে তারা সরকারে থাকলেও কোনোভাবে বিএনপি নেতাদের কুকর্মের দায়ভার গায়ে মাখতে চাচ্ছে না।
গ্রামাঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগে মাঠ পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থদের দাপট ছিল বেপরোয়া। জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের দাপট ছিল সর্বত্র। কিন’ বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের গৃহীত পদক্ষেপে বিএনপি নেতাদের সীমাহীন দুর্নীতি এবং লুটপাটের চিত্র ফুটে ওঠায় সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে গ্রামাঞ্চলে। যাদের দাপট ও ভয়ে আওয়ামী লীগ ছাড়াও অন্য বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা অনেকটা অসহায় হয়ে থাকতেন এখন তারা একেবারে চুপসে গিয়েছেন। তারা পারতপক্ষে বেশি লোকজনের সঙ্গে মিশছেন না।
গতকাল বুধবার যশোর সদর উপজেলার র”পদিয়া অঞ্চলের অনেকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথাবলে জানা যায়, দুর্নীতির চেয়ে বিএনপির কোটিপতি নেতাদের ত্রাণের টিন আর বিস্কুট আত্মসাতের বিষয়গুলো তাদেরকে চরম লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। এ ব্যাপারে তারা কোথাও কোনো সদুত্তোর দিতে পারছেন না। র”পদিয়ার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবদল নেতা ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা ফালু সাহেবকে নিয়ে বড়ো গলায় কথা বলতাম। কিন’ যেদিন দেখলাম তার কারখানা থেকে ত্রাণের টিন উদ্ধার করা হচ্ছে সেদিন থেকে আমরা আর তাকে নিয়ে কথা বলতে পারছি না। প্রতিপক্ষ আমাদের বিভিন্নভাবে উপহাস করছে। যশোরের মন্ত্রী তরিকুল ইসলামকে রক্ষার জন্যও আমরা কম সাফাই গাইনি। কিন’ এখন দেখা যাচ্ছে তিনিও শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের একজন।
র”পদিয়া বাজারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আর এক ব্যক্তি কঠোর ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মন্ত্রীর কাছের লোক বিএনপি নেতা গোলাম রেজা দুলু বাইরে খুব ভাললোক সাজেন। কিন’ এই র”পদিয়া এলাকাতেই তিনি কোটি টাকার সম্পত্তি কিনেছেন অনেকটা জবরদখল করে। এ জন্য তিনি রাতের আঁধারে দলের লোককেও পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে নিতে দ্বিধা করেননি। তবে তার দখল করা জমিতে পেট্রলপাম্প করার খায়েস পূরণ না হওয়ায় কিছুটা হলেও আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করেন ঐ ব্যক্তি।
এভাবে ঝিনাইদহ অঞ্চলে অনেক আগে থেকে মহাদুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত সাবেক সাংসদ মাস্টার শহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে ত্রাণের টিন উদ্ধার হওয়ার পর তার নাম হয়ে গেছে টিন শহিদুল। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা ব্যাঙ্গাত্মক কথাবার্তাও বলা হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুর্নীতি, লুটপাট এবং সর্বপরি ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাতের ঘটনায় গ্রামাঞ্চলে বিএনপির ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। যা পুশিয়ে নিতে তাদের চরম বেগ পেতে হবে। তবে রোষানলে পড়ার ভয়ে কোনো নেতাই নাম প্রকাশ করতে চাননি। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-03-01

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: