সংস্কারসহ জুনের মধ্যে নির্বাচন চাই

প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারসহ চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে তারা ছবি সংবলিত ভোটার তালিকা প্রণয়নেরও দাবি জানিয়েছে। দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গতকাল বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এ টি এম শামসুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই দাবি জানায়।
সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সাংবাদিকদের বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচনী আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কারের পর দলের কোনো নেতা নির্বাচনে অযোগ্য হলে তাতে আওয়ামী লীগের কোনো আপত্তি নেই। কারন আওয়ামী লীগ কালোটাকামুক্ত নির্বাচন চায়। ৪ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব হোসেন তৌফিক ইমাম (এইচ টি ইমাম), ফার”ক চৌধুরী ও মোকাম্মেল হোসেন। তারা সকলেই আওয়ামী লীগের নির্বাচন বিষয়ক টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য।
সকাল সাড়ে ১০টায় আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যায় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা সিইসির কক্ষে অবস্থান করে। এ সময় অপর ২ নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ ছহুল হোসেইন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন এবং ভারপ্রাপ্ত ইসি সচিব হুমায়ুন কবিরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ নেতা আবুল মাল আবদুল মুহিত উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আর ঝুলে থাকতে চাই না। নির্বাচন কমিশনকে আমরা চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। আমাদের দলীয় প্রধানও তাই চান বলে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আমাদের কথা কমিশনকে জানিয়েছি। তবে তারা কি করবে তা আমাদের জানাতে হবে। এছাড়া ছবি সংবলিত ভোটার তালিকা প্রণয়নেরও দাবি জানানো হয়েছে। আমরা বলেছি ২০০০ সালের তালিকা ও পরবর্তী সময়ে সংশোধিত (অষ্টম সংসদ নির্বাচনের আগে সংশোধিত) তালিকাকে ভিত্তি ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হালনাগাদ তালিকা তৈরি করতে হবে।
ছবি সংবলিত ভোটার তালিকা জুন মাসের মধ্যে সম্ভব কিনা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলের নেতা বলেন, সদিচ্ছা থাকলে মাত্র ৩০ দিনের মধ্যেই একটি সুষ্ঠু ভোটার তালিকা প্রণয়ন সম্ভব। তবে ভোটারদের ছবিসহ তালিকা তৈরির জন্য ৪৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৬০ দিন লাগতে পারে। দলের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
একটি দক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের জন্য আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে যে দাবি করে আসছিল বর্তমান কমিশন সেই ধরনের দক্ষ ও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনত্মব্য করে সাবেক অর্থ মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নির্বাচন পরিচালনা করা। আর নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করবে সরকার। তাই কমিশন ও সরকার পারস্পরিক আলোচনা করে যতো দ্র”ত সম্ভব নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা উচিত। কমিশনের বর্তমান কর্মকান্ডে সনেত্মাষ প্রকাশ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন বিদ্যমান নির্বাচনী আইন সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছে সে সম্পর্কে আপনাদের অবস্থান কী? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ নেতা মুহিত বলেন, ১৪ দল নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী আইন সংস্কারের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে জাতির সামনে যে ৩১ দফা সুপারিশ উত্থাপন করেছে তার মধ্যেই এসব বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। আইন সংস্কার হলে তো আপনার দলের অনেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না, সেক্ষেত্রে কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলের স্বার্থে নয়, আওয়ামী লীগ সংস্কারের দাবি তুলেছে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে। তাই সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের পর দলের কোনো নেতা নির্বাচনে অযোগ্য হলেও তাতে আওয়ামী লীগের আপত্তি নেই। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-03-01

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: