হারিছ চৌধুরীর খোঁজে তল্লাশি বিলাসবহুল গাড়ি আটক

হারিছ চৌধুরীকে গ্রেফতার করতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ধরা যাচ্ছে না তাকে। তাকে ধরতে না পারলেও র‌্যাব তার দুই কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে। গ্রেফতার করা হয়েছে হারিছ চৌধুরীর দুই শ্যালক ও সরকারি পরিবহন পুলের গাড়িচালক আবদুস সালামকে।
এছাড়া তারেক রহমানের একান- সচিব (পিএস) মিয়া নূরউদ্দিন অপুকে ধরতে তারা ঢাকার বিভিন্ন স’ানে অভিযান চালাচ্ছে। গতকাল নিরাপত্তা কর্মীরা অপুর খোঁজে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শহীদ মইনুল রোডের বাসায় যান এবং সেখানে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন- হারিছ চৌধুরীর সন্ধানে র‌্যাব মিরপুর, ধানমণ্ডি ও উত্তরা এলাকার ৮টি স’ানে অভিযান চালায়। তবে তাকে পাওয়া যায়নি। সম্পদের হিসাব চেয়ে দুদক প্রথম পর্যায়ে যে ৫০ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করেছিল, হারিছ চৌধুরী তাদের একজন। অনেকে তাদের সম্পদের হিসাব দাখিল ও কেউ কেউ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেও হারিছ চৌধুরী এখন পর্যন- ফেরার। সূত্র জানায়, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী হারিছ চৌধুরী ঢাকায়ই আত্মগোপন করে আছেন। এজন্য হারিছ চৌধুরীকে ধরতেই র‌্যাব মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টায় অভিযানে নামে। র‌্যাব সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে র‌্যাব-২ এর সদস্যরা এ অভিযান চালায়।
সূত্র জানায়, র‌্যাবের কাছে প্রথমে খবর আসে- হারিছ চৌধুরীর ২ কোটি টাকা মূল্যের ‘ইনফিনিটি কিউএক্স-৫০’ মডেলের গাড়ি কলাবাগান গ্রিন রোডের সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে আছে। সরকারি পরিবহন পুলের গাড়িচালক আবদুস সালামের বাসা ওই কোয়ার্টারে। গত ৫ বছর হারিছ চৌধুরীর গাড়িচালক ছিল সালাম। জোট সরকার ক্ষমতা হস-ান-র করলেও হারিছ চৌধুরীর গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিল সালাম। র‌্যাব সদস্যরা কলাবাগানে গিয়ে রাত সাড়ে ১২টায় সালামের খোঁজ পায়। তাকে বাসা থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে গ্যারেজে রাখা হারিছ চৌধুরীর গাড়িটি দেখিয়ে দেয়। গাড়িটি কভার দিয়ে ঢাকা ছিল। র‌্যাব সদস্যরা গাড়িটি জব্দ করে চালক সালামকে দিয়ে চালিয়ে র‌্যাব-২ এর দফতরে নিয়ে যায়।
বিলাসবহুল ইনফিনিটি গাড়িটি হারিছ চৌধুরীকে ‘উপঢৌকন’ দিয়েছিলেন ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম। বিএনপি নেতা আশরাফ হোসেনের নামে গাড়িটি শুল্কমুক্ত কোটায় আমদানি করা হলেও সমুদয় অর্থ পরিশোধ করেন ওবায়দুল করিম।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় সালামের কাছে হারিছ চৌধুরীর অবস’ান জানতে চাইলে সে র‌্যাবকে জানায়, চৌধুরীর সঙ্গে তার শ্যালকদের যোগাযোগ রয়েছে। র‌্যাব সদস্যরা সালামের দেয়া তথ্য অনুযায়ী তাকে সঙ্গে নিয়ে চলে যায় মিরপুরে। মিরপুরের ১০ নম্বর সেকশনের বাসা থেকে র‌্যাব হারিছ চৌধুরীর দুই শ্যালক মাসুম ও রানাকে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা হারিছ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন এবং চার আত্মীয়ের বাসার ঠিকানা দেয়। সে অনুযায়ী র‌্যাব ধানমণ্ডি, উত্তরা, উত্তরখানসহ ৮টি স’ানে অভিযান চালায়। মঙ্গলবার সারারাত ও বুধবার দিনে র‌্যাব ব্যাপক অভিযান চালিয়েও হারিছ চৌধুরীর সন্ধান পায়নি।
সূত্র জানায়, চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলে হারিছ চৌধুরীর দুর্নীতির অসংখ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার শ্যালকদেরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জানা গেছে, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সাবেক হুইপ আশরাফ হোসেনের নামে শুল্কমুক্ত কোটায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ইনফিনিটি কারটি আনা হয়েছিল। অপর একটি সূত্র জানায়, উপঢৌকন হিসেবে হারিছ চৌধুরী এ কারটি পেয়েছিলেন। যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর গাড়িটি তার বিশ্বস- চালক আবদুস সালামের হেফাজতে রাখা হয়েছিল।
সালাম জিজ্ঞাসাবাদে যা বলেছে
গাড়িচালক জানায়, হারিছ চৌধুরী আত্মগোপন করার পর তিনি গাড়িটি বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজছিলেন। কিন’ এত দামি গাড়ি কেউ কেনার সাহস করেননি। তিনদিন আগে চামেলীবাগের এক ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকায় বাকিতে গাড়িটি বিক্রি করেন। তারাও ওই গাড়িটি রাখতে পারেননি। অ্যাপার্টমেন্টের গ্যারেজে গাড়ি রাখায় অন্য ফ্ল্যাটের লোকজন কানাঘুষা করেন। এনিয়ে ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীর মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। পরে ওই ব্যবসায়ী তাকে মোবাইল ফোন করে বাসা থেকে গাড়িটি নিয়ে যেতে বলেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি গাড়িটি চামেলীবাগ থেকে নিয়ে আসেন। তিনি আরও জানান, এই মডেলের দুটি গাড়ি আমদানি করা হয়। আরেকটি গাড়ি ওবায়দুল করিম নিজের ব্যবহারের জন্য রাখেন।
যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের কাজ পেতে এই উপঢৌকন
জোট সরকারের আমলে হারিছ চৌধুরীর আশীর্বাদ নিয়ে ওবায়দুল করিম অবৈধভাবে বিভিন্ন ব্যবসা বাগিয়ে নেন। হারিছ চৌধুরীর সঙ্গে সুসম্পর্কের প্রভাব খাটিয়ে তিনি নানা দুর্নীতি করে পার পেয়ে যান। সর্বশেষ যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের কাজটি বাগিয়ে নিয়ে হারিছ চৌধুরীকে উপঢৌকন হিসেবে গাড়িটি দেন। গাড়িচালক সালাম জানায়, ২০০৬ সালের এপ্রিল মাসে এ গাড়িটি হারিছ চৌধুরীকে উপহার দেন ওবায়দুল করিম। র‌্যাব সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার নির্মাণের টেন্ডার কাজ ওবায়দুল করিমের ওরিয়ন গ্রুপের দেলহাশা-একোম এন্ড এসোসিয়েট পায়। ওরিয়ন গ্রুপকে কাজ দেয়ার জন্যই ওবায়দুল করিম এ গাড়িটি উপঢৌকন দিয়েছিলেন।
অপুর সন্ধানে
এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের একান- সচিব মিয়া নূরউদ্দিন অপুকে গ্রেফতারের জন্য যৌথ বাহিনী বুধবারও তল্লাশি চালায়। নূরউদ্দিন অপু তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের বাড়িতে গেছেন বলে খবর পেয়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সাদা পোশাকে সে বাড়িতে গিয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তারা বাড়ির ভেতরে ঢোকেননি। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অপু জানান, বুধবার দুপুরে তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-03-01

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: