১৫ জনের সম্পত্তি ক্রোক করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুদকের চিঠি

দুর্নীতি দমন কমিশনে সম্পদের হিসেব দাখিলের জন্য নোটিশ দেওয়ার পরও যারা সম্পদের হিসেব দাখিল করেননি আর যারা মিথ্যা তথ্য দাখিল করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে যে ১৫ জন সম্পদের হিসেব দাখিল করেননি তাদের সম্পত্তি ক্রোক করার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। দুদকের নোটিশ পেয়েও যারা সম্পদের বিবরণ দাখিল করেননি আইনে তাদের সম্পত্তি ক্রোক করা এবং সর্বোচ্চ ৫ বছর এবং সর্বনিম্ন ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। আর যারা হিসেব দাখিল করেছেন তাদের দেওয়া তথ্য যদি
মিথ্যা বা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয় তা হলে তাদের বির”দ্ধেও একই ধরনের শাসিত্মর বিধান রয়েছে। যারা হিসেব দাখিল করেছেন তাদের হিসেবের সত্যতা অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুদকের কয়েকটি টিম। জর”রি ক্ষমতা অধ্যাদেশ ২০০৭-এর অধীনে গত ১৩ ফেব্রচ্ছারি যে বিধিমালা জারি করা হয়েছে তাতে এই ধরনের শাসিত্মর বিধান রাখা হয়েছে। জর”রি বিধিমালা অনুযায়ী দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড হলে কোনো ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। জর”রি বিধিমালার অধীনে দায়ের করা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভবিষ্যতে কোনো সরকারি বা আধাসরকারি পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, দুদক গত ১৮ ফেব্রচ্ছারি ৫০ জনকে তাদের সম্পদের হিসেব নোটিশ পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছিল। দুদকের এই নোটিশ জারির পর ৩৫ জন তাদের সম্পদের হিসেব দাখিল করেন। কিন’ ১৫ জন তাদের কোনো হিসেব দাখিল করেননি। যারা হিসেব দাখিল করেননি তারা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের ব্যবসায়িক বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক হুইপ মোসত্মফা রশিদী সুজা, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শামীম ওসমান, চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আখতার”জ্জামান চৌধুরী বাবু, আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক এমপি হাজী সেলিম, আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক এমপি মকবুল হোসেন, যুবলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত ফেনীর সাবেক এমপি জয়নাল হাজারী, মুন্সীগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ, বসুন্ধরা গ্র”পের চেয়ারম্যান শিল্পপতি আহমেদ আকবর সোবহান (শাহ আলম) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক কর্মকর্তা জহির”ল হক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উল্লিখিত ১৫ জনের মধ্যে তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন মামুন কোথায় আছেন তা স্পষ্ট নয়। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমন সংবাদ মিডিয়ায় এলেও সরকারের পক্ষ থেকে তা স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করা হয়নি। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার দিনকয়েক পরই মামুনকে যৌথবাহিনী গ্রেপ্তার করেছে বলে সংবাদ প্রকাশ হয়। কিন’ অদ্যাবধি মামুনকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়নি। যদিও আইনানুযায়ী গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের হেফাজতে রাখতে পারে না। মামুনকে প্রায় মাসখানেক আগে আটক করা হয়েছে এমন সংবাদ প্রকাশ হলেও তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির না করায় মামুন গ্রেপ্তার নিয়ে ব্যাপক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামুনের অবস্থান জানার জন্য মামুনের পরিবারের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করে নির্দেশনা চাইলে হাইকোর্ট মামুনের অবস্থান জানানোর জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ ব্যাপারে আদালতকে কিছু জানানো হয়নি। দুদকের নোটিশে বলা হয়েছিল যারা কারাগারে আটক তাদেরকে বৈধ প্রতিনিধির মাধ্যমে সম্পদের বিবরণ দাখিল করতে হবে আর যারা কারাগারের বাইরে আছেন তাদেরকে সশরীরে হাজির হয়ে হিসেব দাখিল করতে হবে। কারাগারে আটককৃতদের কাছে দুদক কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নোটিশ পৌঁছায় আর যারা কারাগারের বাইরে রয়েছেন তাদেরকে নিজ নিজ ঠিকানায় নোটিশ পৌঁছে দেওয়া হয়। মামুন কারাগারে নেই এটা নিশ্চিত হওয়ার পর দুদক মামুনের বাসার ঠিকানায় নোটিশ পৌঁছে দেয়। নোটিশ পাওয়ার পর মামুনের স্ত্রী মামুনের পক্ষ থেকে সম্পদের বিবরণ দাখিল করার জন্য দুদকে এলেও দুদক তা গ্রহণ করেনি। কারণ মামুন কারাগারে নেই এটা নিশ্চিত হওয়ার পর দুদক তা গ্রহণ করেনি। দুদকের পক্ষে মামুনকে পলাতক দেখানো হয়েছে।
তালিকাভুক্তদের মধ্যে ফেনীর সাবেক এমপি জয়নাল হাজারী ২০০১ সালের অক্টোবর মাস থেকেই দেশছাড়া। তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান বিগত জোট সরকারের পুরো সময়েই স্বেচ্ছানির্বাসনে ছিলেন। রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিন পর তিনি দেশে ফেরেন। কিন’ ড. ফখর”দ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শামীম ওসমান আবারো আত্মগোপনে চলে যান।
জোট সরকারের আমলে দোর্দণ্ড প্রতাবশালী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীও ড. ফখর”দ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আত্মগোপনে চলে যান। মোট কথা যারা হিসেব দাখিল করেননি তারা সবাই রয়েছেন আত্মগোপনে।
প্রসঙ্গত, জর”রি ক্ষমতা আইনের সংশোধিত বিধিমালার ১৫ঘ (২) ধারায় বলা হয়েছে নির্দেশ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশ প্রদানের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চাহিত তথ্য উপস্থাপন না করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উল্লিখিত ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অবর”দ্ধ বা ক্রোক করার আবেদন করতে পারবে। ১৫ঘ(৩) ধারায় বলা হয়েছে এ ধরনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট নোটিশপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অবর”দ্ধ বা ক্রোকাদেশ দিতে পারবেন।
আইনানুযায়ী নোটিশ পাওয়ার পরও তারা সম্পদের হিসেব দাখিল না করায় দুদক এখন তাদের সম্পদ অবরুদ্ধ করা বা ক্রোক করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। দুদক সচিব দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, আইন তার স্বাভাবিক গতিতেই চলবে। যারা হিসেব দাখিল করেননি তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুর” করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আর যারা হিসেব দাখিল করেছেন তাদের হিসেবের সত্যতা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এজন্য দুদকসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে ২০ টি টিম মাঠে রয়েছে।
মামলা দায়েরের বিষয়টি কমিশনের সভায় বসে সিদ্ধানত্ম নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-03-01

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: