গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি ড. ইউনূসের রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে নানা প্রশ

নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রাজনীতি করা এবং রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে, সরকারের শেয়ার থাকা গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বহাল থেকে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারেন কিনা বা রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিতে পারেন কিনা সে বিষয়টি সামনে এসেছে। গত কিছুদিন সচেতন মহলে এ প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে। বিষয়টি পরিষ্কার করতে গত কয়েকদিন এ নিয়ে সংশিস্নষ্ট মহলে কথা বলে নানা তথ্য মিলেছে।

১৯৮৩ সালে সরকার এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে। শুরুতে এ ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ছিল ৩ কোটি টাকা। তন্মধ্যে ৬০ শতাংশ দিয়েছে সরকার। বাকি ৪০ শতাংশ ব্যাংকের ঋণ গ্রহিতারা দেয়, যার ২০ শতাংশ মহিলাদের কাছ থেকে এসেছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরকার নিয়োগ দিয়েছে। সরকার সে সময়ে ড. ইউনূসকে এ পদে নিয়োগ দেয়। নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদত্যাগ করতে চাইলে তা সরকারের কাছে করার কথা। ড. ইউনূস এখন পর্যনত্ম সরকারের কাছে তার পদত্যাগপত্র পেশ করেননি।

এদিকে ১৯৯০ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়। তাতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড নিয়োগ দেয়ার কথা রয়েছে, অবশ্য তাতে এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। অধ্যাদেশ সংশোধন করার পর ড. ইউনূস ব্যাংকের বোর্ডের কাছে পদত্যাগপত্র দিলেও তা সরকারের কাছে জমা পড়েনি। অবশ্য মাঝে অধ্যাদেশ আবারো সংশোধন করে ব্যাংকে সরকারের শেয়ার ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। সংশিস্নষ্টরা বলছেন, যেহেতু গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের শেয়ার আছে এবং ড. ইউনূস ওই ব্যাংকের এখনো ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সেহেতু ওই ব্যাংক থেকে পদত্যাগ না করা পর্যনত্ম তিনি রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিতে পারেন না। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেই তিনি রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিলে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতো না।

এদিকে গ্রামীণ ব্যাংকের সার্ভিস রম্নলস অনুযায়ী কোন কর্মকর্তার বয়স ৬০ বছর হলেই ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করার কথা। তবে ২০০১ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের সচিব আফসার কামাল বোর্ডের আদেশক্রমে একটি গেজেট নোটিফিকেশন জারি করেন। যাতে বলা হয়েছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে চাকরির ড়্গেত্রে বয়সের কোন সময়সীমা থাকবে না। গ্রামীণ ব্যাংকের চাকরিবিধি তার ড়্গেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তবে গ্রামীণ ব্যাংক বোর্ডের সচিব কোন গেজেট নোটিফিকেশন জারি করতে পারেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-03-02

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: