ফালুর বাগানবাড়ি থেকে ১৫ চিত্রা হরিণ আটক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব মোসাদ্দেক আলী ফালুর সাভারের গোহাইলবাড়ির বাগানবাড়ি থেকে ১৫টি চিত্রা হরিণ আটক করেছে বনবিভাগ। শুক্রবার বিকালে ওই বাগানবাড়ির ভেতরে গড়ে তোলা ‘হরিণ পার্ক’ থেকে হরিণগুলো আটক করে পার্কটি সিলগালা করে দেন বনবিভাগের কর্মকর্তারা। আশুলিয়া থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সহায়তায় তারা ওই বাগানবাড়িতে অভিযান চালান। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে হরিণ পার্ক ও বাগানবাড়ির কেয়ারটেকাররা পালিয়ে যায়। বন কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম যুগান্তরকে জানিয়েছেন, এসব হরিণ রাখার পক্ষে কোন কাগজপত্র না থাকায় সেগুলো আটক করে স্থানীয় ব্যক্তিদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। ১৫টি হরিণের মধ্যে ৯টি মেয়ে ও ৬টি পুরুষ হরিণ। এ ঘটনায় মোসাদ্দেক আলী ফালুর বিরুদ্ধে বন আইনে একটি মামলার প্রস’তি চলছে বলে তিনি জানান। দু-একদিনের মধ্যে হরিণগুলো চিড়িয়াখানায় হস-ান-র করা হবে।
হরিণগুলো দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা স্বপন এর আগে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, স্যারের শখের এসব প্রাণী চিড়িয়াখানা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
সাভারের আশুলিয়ার গোহাইলবাড়িতে মোসাদ্দেক আলী ফালু এই বাগানবাড়ি গড়ে তোলেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে, ২০০৪ সালে। সাভার ইপিজেড সড়কের জিরানি বাজার থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিম দিকে এ বাগানবাড়ির অবস্থান। এখানে ফালুর ২০০ বিঘার বেশি জমি রয়েছে। বাগানবাড়ি ছাড়াও একই সীমার মধ্যে আছে সিরামিক কারখানা ও ‘বেগম খালেদা জিয়া বৃদ্ধ নিবাস’ নামে একটি বৃদ্ধাশ্রম। যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সাভারে গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে অভিযান চালিয়ে ফালুর শিল্প প্রতিষ্ঠান ঢাকা-সাংহাই সিরামিকস কারখানা থেকে ৯০০টি ত্রাণের টিন উদ্ধার করেন। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। অবশ্য এর আগেই ৬ ফেব্রুয়ারি ফালুকে গ্রেফতার করা হয়।
ফালুর গোহাইলবাড়ি গ্রামের বাগানবাড়িটির তিনদিকে আছে লেক। লেকেরপাড়ে বাগানবাড়ির মাঝখানে রয়েছে একটি দোতলা বাংলো। বিদেশী টাইলস ও মার্বেল পাথর বাংলোটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি সিংহের মূর্তি আছে বাংলোর প্রবেশ মুখে। বাংলোর পাশে লেকে নামার জন্য আছে শ্বেতপাথরের শান বাঁধানো ঘাট। এ ঘাটের দু’পাশে আছে দুটি ঘোড়ার মূর্তি। আর আছে হরিণ পার্ক। এ হরিণ পার্ক থেকেই শুক্রবার ১৫টি হরিণ আটক করা হয়।
বাগানবাড়ির সৌন্দর্য বাড়াতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত কাজের বিনিময়ে খাদ্যের (কাবিখা) চাল ব্যবহার করা হয়। চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে রাস-া সংস্কারের জন্য সরকারি তিনটি প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। কিন’ সেই প্রকল্পের বরাদ্দ ব্যয় করা হয় বাগানবাড়ির খনন ও সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজে। এ ছাড়া ফালু দুই পাশের জমি কিনে নিয়ে আধা কিলোমিটার সরকারি পাকা রাস-া দখল করে বাগানবাড়ির অন-র্ভুক্ত করেছেন। এ বিষয়ে অভিযোগ ওঠার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তদন- শুরু করেছেন। বাগানবাড়ির সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজে ব্যবহূত তিনটি প্রকল্পের কাগজপত্র সম্প্রতি তারা নিয়ে গেছেন। বাগানবাড়ির সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য বাংলোর উল্টোদিকে একটি বায়ুকল (উইন্ডমিল) তৈরি করা হয়েছে। বায়ুকলের ধার ঘেঁষে লেকের পাড়ে কৃত্রিম ঝরনা তৈরি করা হয়েছে। লেকের পানি পাম্প করে ঝরনা চালানো হয়। ফালু এলেই এই ঝরনা চালু হতো বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা গেছে।
বাগানবাড়ির ভেতরে যে রাস্তা আছে সেটি সরকারি- এ কথা বলেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। ১৯৯৩ সালে রাস্তাটি নির্মিত হয় এবং কার্পেটিং হয় ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে। কিন’ সড়কের দুই পাশে জায়গা কিনে ফালু সড়ক ও সড়কের পাশের সরকারি জমি তার বাগানবাড়িতে নেয়ার পর ওই সড়ক দিয়ে কেউ চলাচল করতে পারে না। ফালু গ্রেফতার হওয়ার পর বাগানবাড়ির কেয়ারটেকাররা পালিয়ে যায়। শুক্রবার বন বিভাগের অভিযানের আগে যেসব চেয়ারটেকার ছিল, তারাও পালিয়ে যায়। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-03-03

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: