বাজার গরম

বাজার গরম হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। এ সপ্তাহে আরও দাম বেড়েছে মাছ, চাল, তেল, দুধ, সবজি ও শিশুখাদ্যের। ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাত দেখিয়ে জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের কাছে এখন বাজারে যাওয়া মানেই আতংক আর অস্থিরতা।
শুক্রবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর কাঁচাবাজারগুলোতে মোটা চাল, মাছ, সবজিসহ প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে মোটা চালের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকহারে। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মোটা চাল ২০-২১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গত সপ্তাহে ফরমালিনযুক্ত মাছ আটক করার পর মিয়ানমার থেকে মাছ আমদানি হওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় মাছের সরবরাহ কম থাকায় রাজধানীতে সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে গড়ে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন- বেড়েছে। কাঁচামরিচের কেজি ৪৮ থেকে ৫৫ টাকা। এছাড়া আলু, টমেটো, বেগুনসহ অন্যান্য সবজির দামও ঊর্ধ্বগতি।
সম্প্রতি ব্যবসায়ীরা বেশ কিছু ভোগ্যপণ্য আমদানির এলসি খোলা বিলম্বিত করছেন বলে খবর বেরিয়েছে। বাজারে সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাব পড়েছে। বাড়ছে আমদানিকৃত পণ্যের দাম। এদিকে কারওয়ানবাজারের মাছ বাজার সমন্বয় পরিষদের সভাপতি নুরুল হক যুগান-রকে জানান, বাজারে ফরমালিনযুক্ত মাছ বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সব ধরনের মাছের দামই বেড়ে গেছে। তাছাড়া দেশী মাছের সরবরাহ কমে গেছে। ফলে মাছের দাম বাড়ছে।
নগরীর খুচরা কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি আলু ১৪-১৫, লাল আলু ১৫-১৬, বেগুন ২০-২৪, মটরশুঁটি ৩৪, টমেটো ১৮-২২, গাজর ১৬, মুলা ১৪-১৬, পেঁপে ১০, ঢেঁড়স ২৮-৩০, কলমিশাক ৮-১০, ডাঁটাশাক ৮-১০, পুঁইশাক ১২-১৬, লালশাক ও পালংশাক ২০, লাউ আকারভেদে ২০-৩০, শিম ২২, শিম (বিচিসহ) ২৬, শিমের বিচি ৪৮-৫২, শালগম ১৬, বরবটি ৪৮, লেটুস পাতা (প্রতি পিস) ১০, লতি ২৮, ফুলকপি ১৫, বাঁধাকপি ১২-১৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজ (দেশী) ২২ ও ভারতীয় ২৬, রসুন ৬৫-৭৮, আদা ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মিনিকেট ২৬-২৮, নাজিরশাইল ২৩-২৮, আটাইশ ২৩-২৪, লতা ২৪, পায়জাম ২২, কালিজিরা ৩৪ ও চিনিগুঁড়া ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের খুচরা বাজারে ইলিশ (বড়) প্রতিপিস ৪৫০ টাকার ওপর এবং মাঝারি প্রতিপিস ২৫০ টাকা। প্রতিকেজি কাচকি ১৩০-১৭০, টেংরা ১৩০-১৬০, টাকি ৯০-১৪০, শোল ২৫০, মেনি ১২০-১৪০, মলা ১১০-১৪০, কাতল ১৪০-২২০, রুই ১৫০-৩০০, তেলাপিয়া (বড়) ১৪০, তেলাপিয়া (ছোট) ৮০-১১০, পাংগাশ (পুকুরের) প্রতিকেজি ৭০-৯০, চিংড়ি ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন-, বাইন ১৮০-৩০০, পোয়া মাছ ১৭৫-২২০, চাষের সরপুঁটি ১২০-১৪০ ও টেংরা ১২০-১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি গরুর মাংস ১৬০-১৭০, খাসির মাংস ২২০-২৪০ ও ব্রয়লার মুরগি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের মুরগির ডিম প্রতিহালি ২০ টাকা ও হাঁসের ডিম ২৪ টাকা পর্যন- বিক্রি হচ্ছে। গুঁড়োদুধের দামও বেশ কয়েকদিন ধরে বাড়ছে। গুঁড়োদুধের মধ্যে ডানো এককেজির প্যাকেটের দাম ৩৬৮, এককেজি ডিপ্লোমা গুঁড়োদুধ ৩৬২, প্রতিকেজি রেডকাউ প্যাকেট ৩৬৬ এবং প্রতিকেজি মার্কস গুঁড়োদুধ ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিনি, ভোজ্যতেল, সব ধরনের ডাল ও আটা জাতীয় পণ্য এখনও আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-03-03

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: