যেসব কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারকে

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা কয়েকটি বিষয়ে কঠিন সিদ্ধানত্ম গ্রহণে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আগামী মাসগুলোতে এই সরকারকে চট্টগ্রাম বন্দর বেসরকারিকরণসহ কয়েকটি গুরু্ত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কাজও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার যে চ্যালেঞ্জ বর্তমান সরকার গ্রহণ করেছে, তাতে ওসব কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণেও পিছপা হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই কঠিন সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে-চট্টগ্রাম বন্দর বেসরকারিকরণ, গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন, বিদ্যুৎ খাতের উৎপাদন ও আমদানি, কয়লা ও খনিজ সম্পদ উত্তোলন, ট্রানজিট প্রভৃতি। বছরের পর বছর ধরে এই বিষয়গুলোতে কোন কার্যকর সিদ্ধানত্ম গ্রহণ করতে পারেনি বিগত দিনের সরকারগুলো।

সূত্রমতে, বিগত সময়ে রাজনৈতিক সরকারগুলো জনপ্রিয়তা হারানোর ভয়ে এ ধরনের কঠিন সিদ্ধানত্ম গ্রহণ থেকে বিরত ছিল। কোন কোন ড়্গেত্রে অভ্যনত্মরীণ এবং আনত্মর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও বিগত সরকারগুলো এসব বিষয়ে সিদ্ধানত্ম গ্রহণে ঢিমেতালে গতিতে এগিয়েছে। নির্ধারিত মেয়াদ পার করার অপেড়্গায় ছিল তারা। যদিও এসব বিষয়ের সঙ্গে আনত্মর্জাতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্কোন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয়টিও জড়িত। কিন্তু অতীতে কোন সরকারই ঝুঁকি নিয়ে এই কাজগুলো করেনি। সে কারণে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সামনে এসব কঠিন সিদ্ধানত্ম গ্রহণের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবু এই সরকারকে সিদ্ধানত্মগুলো নিতে হবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে প্রাথমিক প্রসত্মুুতি গ্রহণেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত ১০ ফেব্রম্নয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর বেসরকারিকরণের বিষয়টি গুরম্নত্ব পায় এবং বন্দর কর্তৃপড়্গকে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রসত্মাবনা তৈরির নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রমতে, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বন্দরের বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের পড়্গ থেকে এর বেসরকারি ব্যবস্থাপনা দাবি করা হয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেয়া হলে বন্দরের আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজ হবে। বিশ্বব্যাংকের এক সমীড়্গায় বেশ কয়েক বছর আগেই বলা হয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরের অদড়্গতার কারণে বাংলাদেশের ড়্গতি হচ্ছে প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকা। বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসও চট্টগ্রাম বন্দরের বেসরকারিকরণের পড়্গে জোর প্রচার চালাচ্ছেন। ব্যবসায়ী নেতারা বলেছেন, অতীতের সরকারগুলো চট্টগ্রাম বন্দরকে নিয়ে কার্যকর কোন পদড়্গেপ গ্রহণ করেনি। রাজনৈতিক বিরোধিতাও তার অন্যতম কারণ। কিন্তুু বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ড়্গমতা গ্রহণের পর বেশ কিছু পদড়্গেপ গ্রহণ করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর বেসরকারিকরণ নিয়ে এই সরকার ইতিমধ্যে ইতিবাচক বক্তব্যও দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান সরকার চট্টগ্রাম বন্দরকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেয়ার সিদ্ধানত্ম গ্রহণ করবে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে ৮৫ ভাগ আমদানি এবং ৮০ ভাগ রফতানি কার্যক্রম সম্পাদিত হয়। কিন্তু শ্রমিক সমস্যা, দুর্বল ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য কারণে এই বন্দর ব্যবহারের ব্যয় বেড়ে যায়। রফতানি ড়্গেত্রে এই বন্দর দিয়ে কন্টেইনার প্রতি ব্যয় ৯০২ ডলার। যেখানে শ্রীলংকায় ৭৯৭ ডলার এবং মালয়েশিয়ায় ৪৮১ ডলার।

চট্টগ্রামে একটি গভীর সমুদ্রবন্দরের গুরম্নত্বও রয়েছে। গভীর সমুদ্রবন্দর হলে ইউরোপ ও আমেরিকায় পণ্য রফতানিতে ৮ ও ১২ দিন সময় কমে যাবে। সেড়্গেত্রে বাংলাদেশের রফতানি সম্ভাবনাও বাড়বে।

বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়েও বর্তমান সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। আগামী দিনগুলোতে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাবে। গ্রীষ্মকালে চাহিদামত বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দিতে না পারলে জনগণকে ভোগানিত্ম পোহাতে হবে। সেড়্গেত্রে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। কিংবা আমদানির সিদ্ধানত্মও নিতে হবে। ইতিমধ্যে ভারতের ভূমি ব্যবহার করে ভুটান এবং নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।

তেল, গ্যাস, কয়লাসহ খনিজ সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সিদ্ধানত্ম গ্রহণও কঠিন হবে। কয়লা উত্তোলন নিয়ে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানিও ঘটেছে। বর্তমানে উন্মুক্ত খনন পদ্ধতি বা ওপেন পিট পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রসত্মাব আসছে। কিন্তু পরিবেশবাদীরা এই পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরোধিতা করে আসছেন। এ অবস্থায় কয়লা উত্তোলন নিয়ে সরকারকে যে কোন সিদ্ধানত্ম গ্রহণের ড়্গেত্রে সম্ভাব্য বিরোধিতার বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়া যায় না। তদুপরি এখনো বাংলাদেশে কয়লানীতি করা হয়নি। কয়লানীতির একটি খসড়া ইতিমধ্যে বিবেচনার জন্যে রয়েছে।

ট্রানজিটের বিষয়টি বিগত সময়ের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাড়্গিক বাণিজ্য আলোচনায় ট্রানজিট ইস্যুটি বিগত বিএনপি জোট সরকারের শুরম্নর দিকে খুবই গুরম্নত্ব পেয়েছিল। ভারতের সেভেন সিস্টার বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে পণ্য পরিবহনসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ট্রানজিটের দাবি রয়েছে ভারতের। নিরাপত্তাজনিত কারণসহ রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশ ইতিপূর্বে এ বিষয়ে কোন সিদ্ধানত্ম গ্রহণ করেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে এ সিদ্ধানত্মও নিতে হবে। বিশেষত, চট্টগ্রাম বন্দরকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোও এই বন্দর ব্যবহার করবে। সেড়্গেত্রে ট্রানজিটের সুযোগও দিতে হবে। সেই সিদ্ধানত্ম দিয়ে যেতে হবে বর্তমান সরকারকেই। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-03-03

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: