তিনটি সেল ফোন কোম্পানির বিরুদ্ধে অবৈধ ভিওআইপি করার অভিযোগ

দেশের শীর্ষস্থানীয় তিনটি বেসরকারি মোবাইল কোম্পানির বিরুদ্ধেই এবার অবৈধ ভিওআইপি অপারেশনের অভিযোগ উঠেছে। দেশে বৈধ ভিওআইপি’র একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ এণ্ড টেলিফোন বোর্ডই (বিটিটিবি) গ্রামীণ ফোন, বাংলালিংক এবং সিটিসেলের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। ফেব্রম্নয়ারি মাসের মাঝামাঝি বিটিটিবি বিটিআরসি’র কাছে এই অভিযোগ করে। এর আগে অনেক প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষজ্ঞরাও বিভিন্ন সময়ে মোবাইল কোম্পানিগুলোর বিরম্নদ্ধে চাপাস্বরে অবৈধ ভিওআইপি’র অভিযোগ তুললেও এবারই প্রথম লিখিত অভিযোগ করা হল। এদিকে র‌্যাবের পড়্গ থেকেও বেশ কয়েকটি মোবাইল কোম্পানির বিরম্নদ্ধে অবৈধ ভিওআইপিতে জড়িত প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। কিন্তু মোবাইল কোম্পানিগুলো বলছে, বিটিআরসি’র পড়্গ থেকে এখনো তাদেরকে কিছুই জানানো হয়নি। তাছাড়া অনেকেই বৈধ উপায়ে সিম নিয়ে অনেক অবৈধ কাজ করতে পারে। এর সঙ্গে তাদের সংশিষ্টতা বা দায়ও নেই।

সূত্র জানিয়েছে, গতমাসে বিটিটিবি’র কাছ থেকে চিঠি পাওয়ার পর তা নিয়ে বিটিআরসি’র কর্মকর্তারা কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। এখনো চূড়ানত্ম কোন সিদ্ধানেত্ম তারা উপনীত হতে পারেননি। তবে শেষ পর্যনত্ম শক্ত কোন সিদ্ধানত্ম নিয়ে ফেললেও তাতে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না বলে জানায় সূত্র।

এদিকে গ্রামীণ ফোনের জিএম ইয়ামিন বখ্‌ত বলেছেন, তারা এখনো বিটিআরসি’র কাছ থেকে এ বিষয়ে কোন চিঠি পাননি। ফলে এটা নিয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে সিটিসেল-এর চিফ কমার্শিয়াল অফিসার ইনতেখাব মাহমুদ বলেন, লড়্গ-কোটি গ্রাহক তাদের সিম কিনছেন। সিমগুলোর ব্যবহার কিভাবে হচ্ছে সেটা দেখার দায়িত্ব তাদের নয়। তাছাড়া এই সুযোগও তাদের নেই।

অন্যদিকে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে এ পর্যনত্ম র‌্যাব অবৈধ ভিওআইপি’র বিরম্নদ্ধে অনত্মত কয়েক ডজন অভিযান চালিয়েছে। প্রতিটি অভিযানেই কোন না কোন মোবাইল কোম্পানির বেশকিছু সিম পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব। এর ভিত্তিতে র‌্যাব এবং ডিজিএফআই-এর কর্মকর্তারাও একাধিক মোবাইল কোম্পানির কর্মকর্তাদের ডেকে নিয়ে জেরা করেন। তাছাড়া মোবাইল ফোনের ব্যবসার পাশাপাশি টেলুলার রয়েছে এমন একটি কোম্পানিকেও যাদের কাছে টেলুলার বিক্রি করা হয়েছে তাদের তালিকা দিতে বলেছে বিটিআরসি।

র‌্যাব টু’র কমান্ডিং অফিসার আকবর আলী ইত্তেফাককে জানান, গত দুই মাসে তারা যেসব অভিযান পরিচালনা করেছেন, তাতে একই কোম্পানির একশ’র কাছাকাছি সিম পাওয়া গেছে। ওইসব সিমের বিপরীতে কোম্পানির কাছে থাকা তাদের হিসেবগুলো দেখলেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। এড়্গেত্রে কোম্পানিগুলো করপোরেট প্যাকেজের দোহাই দিলেও সেগুলো টেকে না র‌্যাব কর্মকর্তার কথায়। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এসোসিয়েশনের (আইএসপিএ) সাবেক সভাপতি আখতারম্নজ্জামান মঞ্জু বলেছেন, শুধু তিন বা চারটি মোবাইল কোম্পানিই নয়, বরং যারা বিটিআরসি’র কাছে আবেদন করছে সেই বিটিটিবিও অবৈধ ভিওআইপি’র সঙ্গে জড়িত। তারাই বিভিন্ন সময়ে সবচেয়ে বেশী ভিওআইপি করেছে। বিটিআরসি ভিওআইপিকে বৈধ করার যে প্রক্রিয়ার মধ্যে এগুচ্ছে সেখানে মোবাইল কোম্পানিগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকাও করছেন অনেক টেলিকম বিশেষজ্ঞ। আজকালের মধ্যেই এ সংক্রান্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট দেবে বলেও জানায় কমিটির একাধিক সদস্য। এর আগে বিগত সরকারের আমলে অবৈধ ভিওআইপি’র ব্যাপক বিসত্মার ঘটলে সরকার লাইসেন্স দেয়ার জন্য কয়েক দফা চেষ্টা চালায়। কিন্তু শেষ পর্যনত্ম তারা লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া আর শেষ করতে পারেনি। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-03-04

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: