সাকা চৌধুরীর হরিণগুলো ছেড়ে দেয়া হয়েছে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ও রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী (সাকা চৌধুরী) কর্তৃক রাঙ্গুনিয়া গোডাউন এলাকায় শত কোটি টাকা মূল্যের ৪০ একর জমি দখল করে নির্মিত বিশাল খামারবাড়ি এখন ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। এক সময় যে খামারবাড়িতে শত শত নেতাকর্মী ও ক্যাডার বাহিনীর বিশাল বহরের নিত্য যাতায়াত ও অবস্থান ছিল, সে খামারবাড়িতে এখন খুঁজেও কোন লোক পাওয়া যায় না।

যৌথ বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব মোসাদ্দেক আলী ফালু ও হারিছ চৌধুরীর বাড়ি থেকে হরিণ উদ্ধারের পর রাঙ্গুনিয়া খামারবাড়িতে সাকা চৌধুরীর পোষা ১৬টি চিত্রা হরিণকে শনিবার আশপাশের পাহাড়ে ছেড়ে দেয়া হয় ।
পার্শ্ববর্তী রাউজানের সন্তান সাকা চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ায় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গেলে বহিরাগত অপবাদের মুখোমুখি হন। অপবাদ ঘোচাতেই তিনি ১৯৯০ সালে রাঙ্গুনিয়া গোডাউন এলাকায় বাংলাদেশ টোব্যাকো কোম্পানির (বিটিসি) কাছ থেকে মাত্র ২ একর জায়গা কিনে আশপাশের ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রায় ৪০ একর পাহাড় ও ভূমি দখল করেন। অবৈধভাবে দখলকৃত এ পাহাড় ও ভূমিতে কাদের নগর নাম দিয়ে গড়ে তোলেন বিশাল খামারবাড়ি। এ খামারবাড়িতে বিলাসবহুল কটেজ, বৈঠকখানা, চিড়িয়াখানা, পুকুর-দীঘি, গবাদিপশুর খামারসহ বহু স্থাপনা রয়েছে। খামারবাড়িটি নির্মিত হওয়ার পর থেকেই রাঙ্গুনিয়ায় সাকা চৌধুরীর সব ধরনের রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সন্ত্রাসী, ক্যাডার ও অস্ত্রের মজুদসহ অনৈতিক কাজ পরিচালিত হতো এখান থেকেই।

জানা যায়, রাঙ্গুনিয়ার কোদালা ইউনিয়নের পূর্বকোদালা গ্রামের মোঃ আবদুল্লাহ ও তার অপর তিন ভাইয়ের বিশাল ভূসম্পত্তি দখল করেই সাকা চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার ‘কাদের নগর’ খামারবাড়ি নির্মাণ করেন। জমির প্রকৃত মালিকদের উত্তরাধিকার কোদালা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুম জানান, সাকা চৌধুরী রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসের প্রভাবে মাত্র ২ একর জায়গা কিনে আশপাশের ৪০ একর জায়গা দখল করে কাদের নগর নাম দিয়ে খামারবাড়ি নির্মাণ করেন। কাইয়ুম চেয়ারম্যান জানান, সাকা চৌধুরীর এ দখলদারির বিরুদ্ধে ও জমি উদ্ধার করতে তিনি শিগগিরই আদালতে যাবেন। কয়েকদিন আগে দুদকে দাখিল করা সাকা চৌধুরী সম্পত্তির হিসাবে রাঙ্গুনিয়ায় খামারবাড়ির সম্পত্তির পরিমাণ ৩.৩ একর বলে জানালেও এখানে তার মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ৪০ একর। যার বাজারমূল্য কমপক্ষে একশ’ কোটি টাকা।

গতকাল সরেজমিন সাকা চৌধুরীর খামারবাড়িতে গেলে দেখা যায়, সেখানে ভুতুড়ে অবস্থা। কাদের নগরের মূল গেট দিয়ে প্রবেশের একটু দূরত্বে অবস্থিত সাকা চৌধুরীর বৈঠকখানাটি এখন জনশূন্য। তার আবাসের মূল কটেজ ভবনে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে আনোয়ার নামের এক দারোয়ান। আনোয়ার জানান, তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর এখানে সচরাচর কেউ আসেন না। দারোয়ান আনোয়ারসহ সেখানে উপস্থিত কয়েকজন কর্মচারী জানান, খামারবাড়িটি প্রতিষ্ঠা করার পর থেকেই সাকা চৌধুরী চিত্রা হরিণ পুষতেন। সমপ্রতি হারিছ চৌধুরী ও ফালুর বাড়ি থেকে হরিণ উদ্ধারের পর সর্বশেষ গতকাল সকালে তার খামারবাড়ি থেকে ১৬টি বন্দি হরিণ আশপাশের পাহাড়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এ খামারবাড়িতে হরিণ বন্দি থাকা ও ছেড়ে দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন খামারবাড়িরই দারোয়ান আনোয়ার ও কর্মচারী বৃদ্ধ কবির। খামারবাড়িতে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাত স্থান থেকে দ্রুত ছুটে আসেন খামারবাড়ির কেয়ারটেকার আবছার (৫৫)। তিনি দ্রুত সাংবাদিকদের খামারবাড়ি থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, সাকা চৌধুরীর গ্রেফতারের পর এখানে কাউকে প্রবেশ করতে না দিতে ওপরের নির্দেশ রয়েছে। ‘ওপর’ বলতে তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন জানতে চাইলে কোন কথা না বলে তিনি দ্রুত চলে যেতে বলেন।

সাকা চৌধুরীর বৃক্ষ রোপণে প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার সমাচার : রাঙ্গুনিয়ায় সাকা চৌধুরী অবৈধভাবে দখল করে তৈরি করা খামারবাড়িতে বনায়নের জন্য গত বছর প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার লাভ করেন। অনুসন্ধান করে ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন বিভাগেরই কিছু কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে সাকা চৌধুরীকে বনায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার প্রদান করেন। প্রকৃত অর্থে সাকা চৌধুরী যে এলাকায় বৃক্ষ রোপণের জন্য পুরস্কার পান সে এলাকায় তিনি কোনদিন কোন গাছই লাগাননি। পক্ষান-রে গত বছর মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে লাখো লোকের জন্য মেজবানের আয়োজন করতে গিয়ে কাদের নগরের সম্মুখস্থ এলাকা থেকে কমপক্ষে ২ হাজার গাছের ছোট চারা কর্তন করে বন ধ্বংস করেন। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-03-04

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: