সাবেক মন্ত্রী তরিকুলের পরিবারের সবাই দুর্নীতি মামলার আসামি

সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের পরিবারের সবাই এখন দুর্নীতি মামলার আসামি। যশোরের সবচেয়ে প্রভাবশালী এ পরিবারের প্রধান সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম অনেক আগেই দুর্নীতির অভিযোগে যৌথবাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। আর এবার তার স্ত্রী-পুত্ররাসহ বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং স্বজনরাও দুর্নীতির মামলায় আসামি হয়েছেন। গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য এদের অনেকেই অনেক আগ থেকেই আত্মগোপন করে রয়েছেন। আর মামলা হওয়ার পর এবার অন্যরাও আত্মগোপন করেছেন। মন্ত্রী পরিবারের সবাই দুর্নীতির মামলায় আসামি হওয়ার ঘটনাটি ছিল গতকাল শনিবার যশোরের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা।
ক্ষমতায় থাকাকালে অবৈধ প্রক্রিয়ায় অঢেল অর্থ-বিত্তের মালিক হওয়ার অভিযোগে গত ৫ ফেব্রচ্ছারি রাতে সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামকে যৌথবাহিনী তার ঘোপ এলাকার বাড়ি থেকে আটক করে। সেই থেকে তিনি বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন। তিনি আটক হলেও তার একানত্ম ঘনিষ্ঠজনরা আত্মগোপনে চলে যান অনেক আগেই। যে কারণে যৌথবাহিনী তাদের আটক করতে পারেনি। এদিকে তরিকুল ইসলামের পর এবার তার পরিবারের সবাই দুর্নীতি মামলায় আসামি হয়েছেন। ত্রাণের টিন কেলেঙ্কারি যেমন সারা দেশে বিএনপিকে মাটিতে নামিয়ে নিয়ে এসেছে ঠিক তেমনি সেই টিনই তরিকুল ইসলামের পরিবারের সব সদস্য, স্বজন এবং ঘনিষ্ঠদের আসামি বানিয়ে দিয়েছে।
যৌথবাহিনী শুক্রবার রাতে শহরের ঘোপ অবস্থিত আব্দুল হাসিব পাঠাগার এবং আস্থা নামে একটি এনজিওর কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ২২ পিস ত্রাণের টিন উদ্ধার করে। আব্দুল হাসিব হলেন সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের শ্বশুর এবং আস্থা এনজিওটি তার স্ত্রী নার্গিস বেগমসহ পরিবারের সদস্য এবং স্বজনদের নিয়ে গঠিত। বিভিন্ন দরিদ্র ব্যক্তির নামে টিন তুলে তা এনজিওটির কার্যালয়ে ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে যৌথবাহিনী সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় ২ জন ছাড়াও পরে আরো ৩ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে নার্গিস বেগমের ভাই এবং মন্ত্রীর শ্যালক এবং যশোরের বহুল আলোচিত মামু (ঠিকাদার) সিন্ডিকেটের প্রধান একে সরফুদ্দৌলা ছোটলুর স্ত্রী নাজমা বেগমও রয়েছেন। ছোটলু দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক রয়েছেন। ত্রাণের টিন আত্মসাতের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মোট ৩০ জনের বির”দ্ধে মামলা করা হয়েছে। ঐ মামলায় আসামির তালিকায় রয়েছেন তরিকুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস বেগম, ২ ছেলে শানত্মনু ইসলাম সুমিত ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শ্যালক সরফুদ্দৌলা ছোটলু ও আবুল বাসার সাইফুদ্দৌলা, সুমিতের স্ত্রী লামিয়া রহমান, তরিকুল ইসলামের কাছের লোক এবং জোট আমলে যশোরের ছায়া এমপি হিসেবে পরিচিত বিএনপি নেতা গোলাম রেজা দুলু, জেলা যুবদলের সভাপতি এহসানুল হক মুন্না, শামীম হোসেন বাদল প্রমুখ। আসামিদের মধ্যে গতকাল শনিবার আটক ৫ জন ছাড়াও এহসানুল হক মুন্না আগেই যৌথবাহিনীর হাতে আটক হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। কাল যাদের আটক করা হয়েছে তাদেরকেও আদালতে সোপর্দ করা হয়।
জানা গেছে, যে টিন উদ্ধার করা হয়েছে তা রোজার ঈদ ও শহরের ঘোপ মাহমুদুর রহমান স্কুলের নির্বাচনের সময় বিতরণ করা হয়। কিন’ ২৮৪ বান টিনের মধ্যে আদৌ কোনো দরিদ্র ব্যক্তির ভাগ্যে তা জোটেনি। বিএনপির নেতাকর্মীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাউকে কাউকে দুএকশ টাকা দিয়ে সব টিন তারা নিয়ে বিক্রি করে দেন। কিছু কিছু টিন ব্যবহার করা হয় এ ধরনের প্রতিষ্ঠানেও।
উল্লেখ্য, আস্থা এনজিওর সভানেত্রী হলেন মন্ত্রীর স্ত্রী নার্গিস বেগম আর সম্পাদক শ্যালক সরফুদ্দৌলা ছোটলু। কোষাধ্যক্ষ মন্ত্রীর ছোট ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। অমিত অনেক আগ থেকেই পলাতক রয়েছেন। পুলিশ পেটানোর একটি মামলায় সমপ্রতি তার বির”দ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
এদিকে তরিকুল ইসলামের পরিবারের সবার বির”দ্ধে দুর্নীতির মামলার বিষয়টি ছিল যশোরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। তরিকুল ইসলামের শ্বশুর আব্দুল হাসিব একজন বয়ঃবৃদ্ধ ব্যক্তি এবং অনেকের শ্রদ্ধেয় পাত্র। তার নামে পাঠাগার স্থাপন করে তার ছেলেমেয়ে এবং নাতিরা এভাবে ত্রাণের টিন আত্মসাৎ করে সেই পাঠাগারের কাজে ব্যবহার করে তাকে ছোট করা হয়েছে বলেও অনেকে মনত্মব্য করেন। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-03-04

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: